Press "Enter" to skip to content

প্রজন্মের প্রতিশ্রুতিশীল গায়ক মনির বাউলা…

“যে সুরেতে পাই মা-মাটির ঘ্রাণ
সেতো আমার বাউলের অবদান।”
– যার হৃদয় পরাণে মাটির সুর মাখা, যার কন্ঠ মহান সৃষ্টিরকর্তার মাহাদান, সেই মিষ্টি মধুর কন্ঠের গায়ক এ প্রজন্মের বাংলা সঙ্গীতের এক জাগ্রত প্রাণ মনির হোসেন (মনির বাউলা)। অবাক মহিমা তার গায়কীতে তার গানে মুগ্ধ সবাই। এই প্রতিভাবান গায়ক ১৯৮৮ সালের ২১ আগস্ট টাংগাইল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মোক্তার আলী বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশন এর লোকসঙ্গীত এর বিশিষ্ট শিল্পী, এবং সরকারি কর্মজীবী। মনির বাউলা লোকসঙ্গীত এর গানের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন সঙ্গীতাঙ্গনে।
মনির বাউলার সঙ্গীত জীবন এবং স্বপ্ন নিয়ে কথোপকথন আমাদের সঙ্গীতাঙ্গন ম্যাগাজিন এর প্রতিনিধির সাথে।
মনির বাউলা:- আমি টাংগাইল জেলার পাছবেথইর গ্রামের একটা ছোট্ট নদীর তীরে বেড়ে ওঠা একটা সাধারন ছেলে। বুঝে ওঠার আগে থেকেই গানের সাথে পরিচয়। আমার দাদা ধুয়া গানের একজন কবিয়াল ছিলেন, আমার চাচা দোতারা বাজাতেন, আমিও দোতারা বাজাই, আমার বাবা একজন পরিপূর্ন সঙ্গীতশিল্পী এবং একজন সরকারী চাকুরীজিবী সহকারী ভুমি উন্নয়ন কর্মকর্তা। মা স্কুল শিক্ষিকা, ছোটবোন জাহাঙ্গীরনগর পড়ে, অনার্স ফাইনাল ইয়ার। সংগীত পুরোটাই আমার বংশগত। আমি ৬ বছর তবলা শিখেছি, এবং এখন বাজাই, সাধনা করি। এস,এস,সি ও এইচ,এস,সি টাংগাইল আর ডিগ্রী ঢাকা সংগীত কলেজ থেকে, ২০১০ সালে বের হই, লোকসংগীত নিয়ে ডিগ্রী শেষ করি। আমি আব্দুল আলীম সাহেবের গান শুনেই বড় হই, এখনো শুনি। আমার বাবার কাছে এখনো গান শিখি, আমার বাবা চাকুরীর পাশাপাশি এখনো গান শেখান। লোকসঙ্গীত দিয়ে খুব দ্রুত মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যায়, আর কথাগুলো খুব গভীর তাই এইটাই মন থেকে গাই। আমি ছোটবেলা থেকেই একটু ভাবুক প্রকিতির যেহেতু রক্তে আদ্ধাত্যবাদ রয়েছে। সংগীত নিয়ে সপ্ন অনেক, এর মধ্যে লোকসংগীত নিয়েই বেশী চিন্তা এটাকে আরো কতভাবে বড় জায়গায় নেওয়া যায়। ইচ্ছা আছে অবহেলিত লোকসংগীত শিল্পীদের জন্য কিছু করার। আমি এ পর্যনত প্রায় ৩০ টা সিনেমায় গান করেছি। এর মধ্যে, ‘জীবন নদীর তীরে’ আমার গাওয়া প্রথম ছবি। গানের নাম : যারে এত রূপ দিলা, কথা: মুনশী ওয়াদুত, সুর: শেখ সাদী খান।
তারপর ‘মন খোজে বন্ধন,’ ‘ভালোবাসার চ্যালেঞ্জ,’ ‘পোড়ামন,’ ‘অনেক সাধের ময়না’ ও ‘আমার দেশের মাটি,’ ‘অঙ্গার,’ ‘এই তুমি সেই তুমি,’ ‘নদীজন,’ সহ আরো বিভিন্ন ছবিতে কন্ঠ দিয়েছি। আমি শ্রদ্ধেয় আলাউদ্দিন আলীর সুরে, প্রায় ৪টি গান করেছি, রফিকুজ্জামানের কথায় গান করেছি, ইমন সাহার সুরে বেশ কয়েকটি গান করেছি। ফরিদ আহমেদের সুর ও  সঙ্গীত পরিচালনায় একটি ছবিতে ৫টি গান করেছি। সেটি এখন মুক্তির অফেক্ষায়, ছবির নাম ‘এই তুমি সেই তুমি।’ এরকম আরো অনেক আছে। আমি সিনেমায় প্রায় সিঙ্গেল গানই গাই। তবে এর মধ্যে কয়েকটি ডুয়েট করেছি, লিজা, ন্যান্সি, মৌটুসী আর চম্পা বনিকের সাথে, এর মধ্যে ন্যান্সি আপুর সাথে গাওয়া দুটি গানই বেশ জনপ্রিয়। একটি হচ্ছে, অঙ্গার ছবির ‘মনের ভিতরে মনের বাহিরে,’ আরেকটি হচ্ছে ‘কার জন্য বেচে থাকবো।’
চ্যানেল আই আড়ং বাংলার গানে আমি দুটো বিভাগে মূল বিচারকের ভুমিকা পালন করি, তারপর সেরা আশি থেকে আমি গ্রুমার হিসাবে নিয়োজিত হই, সেরা ১০ পর্যন্ত আমি গ্রুমিং করাই, বলতে গেলে ওরা আমারই অনেক অনুগত। ওদেরকে নিয়ে সামনে অনেক কাজ করবো। নতুন একটি ফোক গানের একক এ্যালবামের কাজ করছি আমার নিজের সঙ্গীত পরিচালনায়। এর আগে আমার একক এ্যালবাম বের হয় ২০১১ সালে এ্যালবামের নাম, ‘দেহতরী’। এছাড়া বেশ কিছু মিক্সড এ্যালবামও আমার গান রয়েছে। নাটকে, জিঙ্গেলেও গেয়েছি। এই নববর্ষে একটা মিক্সড এ্যালবাম আমার একটি ফোক গান আছে। গান নিয়েই বেঁচে থাকার স্বপ্ন।
– মনির বাউলা ফোক গান করলেও আধুনিক গানও তিনি অনেক ভাল গাইতে পারেন যার প্রমাণ ন্যান্সীর সাথে ‘মনের ভিতরে,’ ও ‘আমি কার জন্য বেঁচে থাকবো’। সুর ও ছন্দে ভরে থাক তার জীবন এই শুভকামনা আমাদের।
অলংকরন – গোলাম সাকলাইন…

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: