সুর মুর্চ্ছনায় যন্ত্রসঙ্গীতের অনন্য সন্ধ্যা…

মঞ্চে হেন কেনো যন্ত্র নেই যার সন্নিবেশ ঘটেনি। ঢোল, তবলা, বাঁশি, হারমনিয়াম, বেহালা, গিটার, সেতার, ব্যাঞ্জো, দোতারা, অক্টোপ্যাড, ড্রামস, কি-বোর্ড, মন্দিরা, কোন যন্ত্রটি ছিল না! মঞ্চে তখন ৬০ জন যন্ত্রশিল্পী। অর্কেষ্ট্রার আয়োজনে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফ্রেব্রুয়ারি’, ‘ও আমার দেশের মাটি’, ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’ এমন সব দেশের গান সুর ভেসে আসে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত সময়ের জাগরণের এমনি সব গানগুলো বাজিয়েই সেই উত্তাল সময়গুলোকে স্মরণ করা হয়। মিলনায়তনে আগত দর্শক শ্রোতারা মন্ত্রমুগ্ধের মতো উপভোগ করেছে যন্ত্রসঙ্গীতের এই পরিবেশনা। বাংলাদেশ মিউজিশিয়ানস ফোরাম (বিএমএস) অয়োজিত জাতীয় যন্ত্রসঙ্গীত সম্মিলন ২০১৫ এর সাংস্কৃতিক পর্বের শুরটা ছিল এভাবেই। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে বসে যন্ত্রশিল্পীদের এই মিলনমেলা। অনুষ্ঠানে প্রবীণ যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পী শামসুল হককে সম্মাননা প্রদান করা হয়। যন্ত্রসঙ্গীতের পর্বটির পরেই রবীন্দ্রসঙ্গীত নিয়ে মঞ্চে আসেন শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। এরপর নজরুল সঙ্গীতের পালা। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিল। লালনগীতি পরিবেশন করেন ফরিদা পারভীন। যন্ত্রসঙ্গীতকে প্রাধান্য দিয়ে দেশের স্বনামধন্য সব কন্ঠশিল্পীরা গেয়ে শোনান তাদের জনপ্রিয় গানগুলো। গান গেয়ে শোনান সৈয়দ আব্দুল হাদী, সুবীর নন্দী, মো. খুরশিদ আলম, শাকিলা জাফর, রফিকুল আলম, ফাহমিদা নবী, বারী সিদ্দিকী, সামিনা চৌধুরী, আসিফ আকবর, আঁখি আলমগীর, শিল্পী মৌটুসী ও দিনাত জাহান মুন্নি। আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছিল বিকেলেই। শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা একাডেমীর সামনের আঙিনায় ভিড় জমে সারা দেশ থেকে আগত যন্ত্রশিল্পীদের। গানের নেপথ্যের সুর তোলা শিল্পীদের কলরবে মুখরিত হয়ে ওঠে একাডেমী প্রাঙ্গণ। মেঘলা বিকেলে বের হয় তাদের আনন্দ শোভাযাত্রা। মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে সান্ধ্যকালীন অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। আলোচনাসভায় অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক কাজী আক্তার উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক আবদুল মান্নান ও শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। বিএমএফের সভাপতি খ্যাতিমান বংশীবাদক গাজী আবদুল হাকিমের সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দেবু চৌধুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: