শ্রাবন্তী মজুমদার এর সাথে সমরজিৎ রায়…

‘কাটেনা সময় যখন আর কিছুতে,
বন্ধুর টেলিফোনে মন বসেনা।
জানলার গ্রীলটাতে ঠেকাই মাথা।
মনে হয় বাবা যেন বলছে আমায়,
আয় খুকু আয়, আয় খুকু আয়’।
এই গানটি শোনেননি এমন শ্রোতা খুব কমই পাওয়া যাবে। হেমন্ত মুখার্জীর সঙ্গে এই গানটি গেয়েছিলেন শ্রাবন্তী মজুমদার। বাংলা গানের উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছুই নেই। অসংখ্য জনপ্রিয় গান গেয়েছেন শ্রাবন্তীদি যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো “নাম বলোনা, যার নাম তার মুখে ভালো লাগেনা, ও চাঁদ মুখে বলোনা চুপি চুপি”/ সন্ধ্যা মুখার্জীর সঙ্গে ‘তুমি আমার মা”/”সোনার এই দিন হয়ে রঙিন” প্রভৃতি।
২০১১ সালের ৪মে কোলকাতার জি ডি বিড়লা অডিটোরিয়ামে “ভাবনা রেকর্ডস” এর প্রতিষ্ঠা দিবসে তাদেরই ব্যানারে প্রখ্যাত অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের হাত দিয়ে প্রকাশিত হয় আমার রাগভিত্তিক রবীন্দ্র সংগীতের অ্যালবাম “রবি রঞ্জনী”। ওই অনুষ্ঠানে কোলকাতার অনেক জনপ্রিয় শিল্পীরা গান করেছিলেন, গেয়েছিলাম আমিও। তাঁদের মধ্যে আর একজন ছিলেন শ্রাবন্তী মজুমদার। উনি আমার গান শুনে এতো বেশি মুগ্ধ হলেন যে গ্রীনরুমে এসে আমার সঙ্গে নিজে থেকেই পরিচিত হলেন। আমরা সেদিন প্রায় ২ ঘন্টা আড্ডা দিয়েছিলাম।উনি জানতেন আমি দিল্লীতে গন্ধর্ভ মহাবিদ্যালয়ে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শেখাচ্ছিলাম তাই আরো বেশি গুরুত্ব দিয়ে কথা বলছিলেন আমার সঙ্গে এবং খুব দুঃখ প্রকাশ করছিলেন কেন ক্লাসিক্যাল টা শিখলেননা জীবনে। দিদি থাকতেন দেশের বাইরে ইউকে-তে। মাঝে মাঝে কোলকাতায় আসতেন নাড়ির টানে। আমরা সেদিন গান নিয়ে অনেক কথা বলেছিলাম। আমি ভীষণ লজ্জ্বা পেয়ে গিয়েছিলাম যখন দিদি আমাকে বললেন উনাকে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে তালিম দিতে। আমি ভাবতেও পারিনি উনার মুখে এই কথা শুনবো। প্রথমে ভেবেছি হয়তো মজা করছেন। পরে দেখলাম উনি নাছোড়বান্দা। শেষমেশ আমরা ঠিক করলাম অনলাইনেই ক্লাস শুরু করবো। যাই হোক যাওয়ার সময় উনি আমার অনেকগুলো এ্যালবামও নিয়ে গেলেন। পরে ফোনে অনেকবার কথা হয়েছে। উনি প্রায় সময় বাইরে থেকে ফোন করতেন। তার কিছুদিন পরে একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটলো। উনার ইমেইল আইডি থেকে একটি মেইল পেলাম যে “সমরজিৎ, আমি অন্য একটি স্টেটে এসেছি, আমার পাসপোর্ট এবং টাকা-পয়সা সব ছিনতাই হয়ে গেছে। তুমি কি আমাকে একটু হেল্প করবে?”
মেইল টা ইংরেজিতেই ছিল। আমি খুব অবাক হলাম দিদির মেইল পেয়ে এবং খুব চিন্তায় পড়ে গেলাম। আমি উনার ফোনে চেষ্টা করলাম অনেকবার। কিন্তু ফোন লাগছিলনা। চিন্তা আরো দ্বিগুন বাড়লো। পরে আমি মেইলের উত্তর দিলাম কিভাবে সহযোগিতা করতে পারি। উনি আমাকে একটি একাউন্ট নম্বর দিলেন ওখানের। আমি যেন টাকা পাঠাই। শ্রাবন্তীদিকে নিয়ে আমি এতো বেশি চিন্তিত হয়ে পড়লাম যে মাথা কাজ করছিলোনা আর। আমি ব্যাপারটি দিল্লীতে আমার এক বন্ধুর সঙ্গে শেয়ার করলাম। ও বললো কিছু একটা ব্যাপার আছে। বললো তুই আগে কনফার্ম কর মেইল টা আসলেই উনি পাঠিয়েছেন কিনা। কিন্তু উনার কোন আত্মীস্বজনের নাম্বার আমার কাছে ছিলোনা। একাউন্ট নাম্বার যখন বাইরের দেশের তাই আমি বুদ্ধি করে বাংলায় মেইল পাঠালাম। এবং এমন কিছু লিখলাম যা শুধু দিদির সঙ্গেই আমার কথা হয়েছিল এই ব্যাপারে। বাংলায় লেখার পরে দেখি সেই প্রশ্নগুলো এড়িয়ে বার বার টাকা পাঠানোর কথাই লিখছিলেন উত্তরে। আমার সন্দেহ আরো বেড়ে গেল। আমি আবার মেইল পাঠালাম বাংলায় যে আমার প্রশ্নের উত্তরগুলো দিয়ে কনফার্ম করতে হবে মেইলগুলো আসলে দিদিই পাঠাচ্ছেন।
এরপরেও আমি প্রশ্নের উত্তর না পেযে একেবারেই নিশ্চিত হলাম যে দিদির ইমেইল আইডি হ্যাক হয়েছে। তারপর ওই মেইল আইডি আমি ব্লক করে দিই। কিন্তু আমার চিন্তা শেষ হয়নি দিদিকে নিয়ে কারণ ওনাকে এরপরে আর ওই নম্বরে কোনদিনই পাইনি। জানিনা উনি কোথায় আছেন কেমন আছেন। দিদির সুস্থতা কামনা করি। (সংগ্রহ – সঙ্গীত শিল্পী সমরজিৎ রায় এর ফেসবুক থেকে)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *