বিবেকবোধের চর্চা একদিন সমাজ থেকে সব কলুষতা মুছে ফেলতে সক্ষম হবে – ঘুণপোকা…

সময়টা ২০০৫। গান পাগল কিছু তরুনের ছোট্ট পরিকল্পনা- গানকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যাবে যতটা পথ যাওয়া সম্ভব। এভাবেই শুরু ঘুণপোকা’র পথচলা।
ব্যান্ড-সঙ্গীতে কিংবদন্তী শ্রদ্ধেয় আজম খান, হ্যাপী আকন্দ , লাকী আকন্দ থেকে শুরু করে ৮০ ও ৯০- এর দশকের বাংলা ব্যান্ড এবং পিংক ফ্লয়েড, রিচি ব্ল্যাকমোর, ডোরস্ , বনজোভি,ব্রায়ান এডামস্, স্করপিয়নস্ চর্চা করেই কাটে অনেকটা সময়। এর মাঝেই চলতে থাকে নিজেদের গান তৈরীর প্রস্তুতি; চর্চার ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেয় “ক্লাসিক রক”।
অনেক প্রতিকূলতা আর সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে ২০১৫ সালে আজব রেকর্ডস্-এর পরিবেশনায় প্রকাশিত হয় তাদের প্রথম এ্যালবাম “সং”। জীবনের ঘটে যাওয়া কিছু মুহূর্ত গানের সুরে তুলে আনে ঘুণপোকা। সং, নীলাভ, এক কাপ চা, উদভ্রান্ত, ট্রয়ের হেলেন বেশ শ্রোতাপ্রিয়তা পায়। এরপর ১৪ই ফেব্রুয়ারী ২০১৬-এ ব্যান্ডের একটি “সিঙ্গেলস্” প্রকাশিত হয়। “বেলা” শিরোনামের গানটির কোলকাতায় মোড়ক উন্মোচন হয় আজব রেকর্ডস্-এর প্রযোজনায়। সম্প্রতি ব্যান্ডটি হেমন্ত মুখার্জী ও শ্রাবন্তী মজুমদারের গাওয়া “আয় খুকু আয়” গানটি একটু ভিন্ন আঙ্গিকে শ্রোতাদের উপহার দেয়। তাদের এই পদক্ষেপটি বেশ পুরোনো এবং নতুন সব শ্রোতাদের কাছে বেশ গ্রহনযোগ্যতা পায়।
নাম ‘ঘুণপোকা’কেন? এর উত্তরে ব্যান্ড সদস্যরা বলেন, ‘সমাজে যারা বিবেক বোধের চর্চা করেন, তাদের বলা হচ্ছে ঘুণপোকা। ব্যান্ড সদস্যরা আশা করেন তাদের এই বিবেকবোধের চর্চা একদিন সমাজ থেকে সব কলুষতা মুছে ফেলতে সক্ষম হবে। আর তাই ‘ঘুণপোকা’ একটা  জীবনবোধ; একটা দর্শন ।
ভবিষ্যত পরিকল্পনা জানতে চাইলে সদস্যরা জানান, বাংলা গানকে , বাংলাদেশের গানকে বিশ্বদরবারে আরও ভালভাবে পৌঁছে দেওয়া তাদের স্বপ্ন। পরবর্তী এ্যালবামের জন্য গান তৈরী এবং বাংলা বেশ কিছু কালজয়ী গান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পরিকল্পনায় এগিয়ে চলছে ব্যান্ড “ঘুণপোকা”।
ব্যান্ডের বর্তমান সদস্যরা হলেন :
মাইকেল শীর্ষ দাস- গীটার।
রাহিদ রাফায়েল- বেস গীটার এবং ভয়েস।
রকীব হোসাইন অনীক- ড্রামস এবং ভয়েস।
ইয়াসীর হোসাইন আবীর- কী-বোর্ড।
রাজীব আহমেদ সাকিব- গীটার এবং ভয়েস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: