আজ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী…

” হাসি দিয়ে যদি লুকালে তোমার
সারা জীবনের বেদনা,
আজো তবে শুধু হেসে যাও
আজ বিদায়ের দিনে কেঁদোনা “

নিপীড়িত-শোষিত মানুষের বঞ্চনার ক্ষোভ দীপ্ত শিখার মতো জ্বলে উঠেছিল তাঁর লেখনীতে। সাম্প্রদায়িকতার বিষকে মন্থন করে তুলে এনেছিলেন ধর্মনিরপেক্ষতা। আবার তিনিই আবেগে থরথর, কোমল সুকুমার হূদয়ানুভবে। তিনি বিদ্রোহী, তিনিই গানের পাখি বুলবুল—জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। কবি বলেছিলেন ‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাব, তবু আমারে দেবনা ভুলিতে।

আজও এই জাতি ভোলেননি এই জাতীয় কবির স্মৃতি, কখনো কেউ ভুলতে পারবেও না। তিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, সংগীতস্রষ্টা, দার্শনিক, যিনি বাংলা কাব্যে অগ্রগামী ভূমিকার সঙ্গে সঙ্গে প্রগতিশীল প্রণোদনার জন্য সর্বাধিক পরিচিত। তিনি বাংলা ভাষার অন্যতম সাহিত্যিক, দেশপ্রেমী এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ – দুই বাংলাতেই তাঁর কবিতা ও গান সমানভাবে সমাদৃত। তাঁর কবিতায় বিদ্রোহী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাঁকে বিদ্রোহী কবি নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সাম্য-মানবতার কবি, প্রেমের কবি, বিদ্রোহের তূর্যবাদক।

অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদে প্রবলভাবে আস্থাশীল এই মহৎ কবির আরাধ্য ছিল সত্য পবিত্র ও সুন্দর৷ তিনি সুন্দরের ধ্যান, তার স্তব গানই আমাদের উপাসনা। যে কূলে, যে সমাজে, যে ধর্মে, যে দেশেই জন্মগ্রহণ করি, তিনি সকল হৃদয়েই অমর। আজ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর মৃত্যু বার্ষিকী। বাংলা সাল অনুযায়ী ১২ই ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। এই জাতীয় কবির স্মৃতিকথা এবং বানী অমর অম্লান থাকিবে অনন্তকাল।

অলংকরন – গোলাম সাকলাইন…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: