আজ বিখ্যাত লোকসঙ্গীত সাধক ‘আব্দুল আলীম’ এর মৃত্যুবার্ষিকী…

“পরের জায়গা পরের জমিন
ঘর বানাইয়া আমি রই
আমিতো সেই ঘরের মালিক নই।”
শ্রদ্ধেয় আব্দুল আলীম বাংলা শিকড় সন্ধানী সঙ্গীতের সাধক। ভরাট কণ্ঠে গেয়েছেন তিনি ‘সর্বনাশা পদ্মা নদী, আমার হাড় কালা করলাম রে, তোমার ও লাগিয়ারে, পরের জায়গা পরের জমিন , হলুদিয়া পাখী সহ অসংখ্য বিখ্যাত এবং অমর গান। দেশের মানুষের অন্তরে আলিঙ্গন করে এখনো আব্দুল আলীম এর সেই চেনা সুর।

আজ আব্দুল আলীম এর মৃত্যু বার্ষিকী। তিনি ১৯৭৪ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুববরণ করেন। আব্দুল আলীম লোক সঙ্গীতকে অবিশ্বাস্য এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন যেখানে জীবন জগৎ এবং ভাববাদী চিন্তা একাকার হয়ে গিয়েছিল। বাল্যকাল থেকেই আলীম সঙ্গীতের প্রবল অনুরাগী ছিলেন। অর্থনৈতিক অনটনের কারণে কোন শিক্ষকের কাছে গান শেখার সৌভাগ্য তাঁর হয়নি।
তিনি অন্যের গাওয়া গান শুনে গান শিখতেন। আর বিভিন্ন পালা পার্বণে সেগুলো গাইতেন। এভাবে পালা পার্বণে গান গেয়ে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেন।

বাবার নাম ছিল মোহাম্মদ ইউসুফ আলী। প্রাইমারি স্কুলে পড়বার সময় গ্রামোফোন রেকর্ডে গান শুনে গান গাইবার জন্য আগ্রহ জন্মে। ছোটবেলায় তাঁর সঙ্গীত গুরু ছিলেন সৈয়দ গোলাম আলী। ঐ অল্প বয়স হতেই বাংলার লোক সঙ্গীতের এই অমর শিল্পী গান গেয়ে নাম করেছিলেন। মাত্র তেরো বছর বয়সে ১৯৪৩ সালে তাঁর গানের প্রথম রেকর্ড হয়। রেকর্ডকৃত গান দু’টি হলো “তোর মোস্তফাকে দে না মাগো” এবং “আফতাব আলী বসলো পথে”। এতো অল্প বয়েসে গান রেকর্ড হওয়া সত্যিই বিস্ময়কর। পরে তা আর বিস্ময় হয়ে থাকেনি, তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলার লোক সঙ্গীতের এক অবিসংবাদিত কিংবদন্তি পুরুষ।
আজ তার মৃত্যু দিবসে আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।
মহান আল্লাহ্‌ যেন আব্দুল আলীমকে কবুল করে নাযায়েতের ফয়সালা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *