শ্রুতিময় সুরের সন্ধানে ‘অজন্তা গহর’…

“স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে প্রশান্ত সুর নিয়ে বুকে
গানের রাগিণীতে মনের আল্পনা এঁকে
হৃদয় ভরিয়া পেরিয়ে সুরদরদিয়া
এসেছি আজ তোমাদের শ্রুতি মাঝে
পরাণে যে মোর সঙ্গীত মমতা বাঁজে।”

– সঙ্গীতের এক সুশীল সুরের সন্ধানে আকুলতায় মগ্ন যে মন, যেন পরাণে দোলা দেয় সু’মধুর গানের বানী। যার হৃদয়ে শ্রুতি মাধুর্যাতার আলিঙ্গন তিনি অজন্তা গহর।
এক স্বপ্নময়ী সঙ্গীতের ভাবনা নিয়ে একজন কণ্ঠশিল্পী।
অজন্তা গহর নিজের সাধনা এবং নিজের যোগ্যতায় নিজেকে উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন সবার সামনে।
ইতিমধ্যে নিজের প্রথম একক এ্যালবাম এর কাজের প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছেন তিনি। নিজের একক এ্যালবাম ছাড়াও বেশকিছু মিক্সড এ্যালবামে গান করার কথা চলছে এবং বনি আহম্মেদ এর সঙ্গীত পরিচালনায় দু’টি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।
অজন্তা গহরের একক এ্যালবাম এর সবকটি গানের সুর এবং সঙ্গীত পরিচালক এ সময়ের তরুণ সঙ্গীত পরিচালক শান। তার একক এ্যালবামে ৬/৭ টি গান থাকছে। এই এ্যালবামের গীতিকার হলেন শ্রদ্ধেয় ‘ নয়ীম গহর, ‘অজন্তা গহর, ‘তানিয়া সুলতানা, ‘জাহাঙ্গীর রানা’, এ্যালবামে একটি গানে শানের সাথে ডুয়েট কণ্ঠ দিবেন তিনি।

“অজন্তা গহর সঙ্গীতাঙ্গনকে জানালেন, আমি খ্যাতিমান গীতিকার নয়ীম গহর এর মেয়ে এ পরিচয়ে নিজেকে উপস্থাপন করিতে চাইনি। আমি স্বপ্ন দেখেছি সঙ্গীত নিয়ে, সঙ্গীত নিয়ে সাধনা করেছি। ভাল কিছু করার প্রত্যয়ে এসেছি। আমি যখন গান নিয়ে আমার এ্যালবাম এর সঙ্গীত পরিচালক এর সাথে আলাপ করি তখন তাকে বলেছি আমি আমার এ্যালবামে আমার বাবার লেখা একটি গান রাখতে চাই।
তখন তারা জানতে পারে আমি শ্রদ্ধেয় নয়ীম গহরের মেয়ে। বাবা ১৯৬৯ এর দিকে লিখেছিলেন ‘জন্ম আমার ধন্য হল’, এবং ‘নোঙ্গর তোল তোল’, স্বাধীনতার পর বাবার লেখা কোন গান প্রকাশ হয়নি। তিনি ১৯৭১ এর পর ৫২র ২১শে ফেব্রুয়ারি নিয়ে একটি ভাল গান লিখেছিলেন। আমি জানিনা এত ভাল একটি গান কেন আজও প্রকাশ হয়নি।
আমি বাবার লেখা যে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছি এর আগে কেউ এই গানটিতে কণ্ঠ দেননি। ২১ নিয়ে বাবার লেখা গানটি সুর করেছেন শান। শান অনেক সুন্দর একটি সুর করেছেন আমি চেষ্টা করেছি ভাল করে গাইতে। এবং নিজ উদ্যোগ নিয়ে বাবার লেখা গানটির মিউজিক ভিডিও করতে যাচ্ছি। আমি নয়ীম গহরের মেয়ে আমি তার একটি গান গাইতেই পারি। এতে আমার গানে বাবাকে ব্যবহার করা হচ্ছেনা। বাবার লেখা একটি গান গাওয়ার অধিকার আমারও আছে। বাবাকে অনেক সম্মান করি ঐ দৃষ্টিতেই আমার সকল গান রেখে বাবার লেখা গানটি নিয়ে আগে কাজ করছি। আমি অন্য যেন কোন কমার্শিয়াল গান করতে পারতাম কিন্তু তা করিনি কারণ বাবার গানটিতে দেশের কথা মা-মাটির, দেশের মানুষের কথা আছে।
দেশাত্মবোধক গানে আমার বাবার অনেক অবদান আছে, এই গানটি আবারও তা প্রমাণ করবে। আমি বিখ্যাতা কিছু হতে চাইনা, আমি মনের খোরাকের জন্য গান করি।”

“শ্রদ্ধেয় নয়ীম গহর একজন অমর গীতিকবি এবং দেশের সংস্কৃতি জগতে উজ্জ্বল নক্ষত্র। এই অমর গীতিকাব্য প্রাণ গত ২০১৫ সালের ৬ই অক্টোবর জীবন তরী পেরিয়ে পরলোক গমন করেন। আর আমরা চিরতরে হারিয়ে ফেলি স্বাধীনতার প্রেরণাময় সেই বানীময় গানের কবিকে।
শ্রদ্ধেয় আজাদ রহমানের সুরে ‘জন্ম আমার ধন্য হলো, এবং সমর দাশের সুরে ‘নোঙ্গর তোল তোল’ গানের কথা দেশের সঙ্গীতের মানচিত্র হইতে কেউ কখনো মুছে দিতে পারবে না। দেশের গান, মায়ের গান মাটির গানের এক স্রষ্টা সবার হৃদয়ে মিশে রবে যুগ থেকে যুগান্তরে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে নয়ীম গহরকে কেউ ভুলতে পারবে না।”

“অজন্তা গহরের সুরের সুধাময়ী সঙ্গীত জীবন সার্থক হোক, তার পথচলা হোক শ্রুতিমধুর। সবার স্নেহ, দোয়া, এবং শ্রদ্ধা নিয়ে বেঁচে থাক এই কামনা আমাদের। – মোহাম্মদ আমিন আলীফ…
অলংকরন – গোলাম সাকলাইন…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: