Press "Enter" to skip to content

প্রশংসায় মুখরিত শকুন্তলা…

জাঁকজমকপূর্ণ এক আয়োজনের এবং অসাধারন মঞ্চসজ্জার মাধ্যেমে, শুক্রবার সন্ধায় মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালিয়ে জাতীয় শিল্পকলা একাডেমীর নাট্যশালায় মঞ্চায়িত করা হলো, নৃত্যনাট্য “শকুন্তলা”। নাট্যটি পরিবেশন করেছেন, বাংলাদেশের জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী, সামিনা হুসেইন প্রেমা এবং তার নাচের দল “ভাবনা”-র শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবং সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব কামাল লোহানী সহ আরো অনেকে।

কালীদাশের লেখা “অভিঙ্গান শকুন্তলম” এর কাহিনী অবলম্বনে এবং আলময় বিশ্বাস এর লেখা গ্রন্থনার ওপড় ভিত্তি করেই নৃত্যনাট্যটি তৈরী করা হয়। রাজা দুষ্মন্তের সঙ্গে কম্বমুনির আশ্রমপালিত কন্যা শকুন্তলার প্রেম, বিরহ ও মিলন এ নাটকের বিষয়বস্তু। মৃগয়ায় গিয়ে দুষ্মন্ত কণ্যা মুনির আশ্রমে পালিত কন্যা শকুন্তলাকে দেখেন এবং তার রূপে মুগ্ধ হয়ে গান্ধর্বমতে তাকে বিবাহ করেন। কম্বমুনি সেই সময়ে আশ্রমের বাইরে ছিলেন। তখন আশ্রমে আগত অতিথিদের সেবার ভার শকুন্তলার উপর ন্যস্ত ছিল। এদিকে দুষ্মন্তের রাজধানীতে প্রত্যাবর্তনের পর থেকে তার কোনো খবর না পেয়ে শকুন্তলা চিন্তিত থাকায় আশ্রমে আগত অতিথি দুর্বাশার সেবা করতে অক্ষম হলেন। এতে মুনি দুর্বাশা ক্রুদ্ধ হয়ে কর্তব্যভ্রষ্ট শকুন্তলাকে অভিশাপ দিলেন, “যার চিন্তায় বিভোর হয়ে তুমি আমাকে অবহেলা করলে, স্মরণ করে দিলেও তিনি তোমাকে স্মরণ করতে পারবেন না।” শকুন্তলার
সখীদ্বয় অনসূয়া ও প্রিয়ংবদা দ্রুতগতিতে গিয়ে দুর্বাশার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি আশ্বাস দিলেন যে, শকুন্তলা যদি দুষ্মন্তকে কোনো স্মারকচিহ্ন দেখাতে পারে, তাহলে এই অভিশাপ খণ্ডন হবে। যথাসময়ে কম্বমুনি আশ্রমে ফিরে এলেন এবং শকুন্তলাকে পতিগৃহে পাঠিয়ে দিলেন। কিন্তু দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে চিনতে পারলেন না। প্রত্যাখ্যাত শকুন্তলা রাজসভা থেকে বিদায় নিলেন। পরে এক জেলের জালে আটকে পড়া রুই মাছের পেট থেকে নগররক্ষীরা দুষ্মন্তের নামাঙ্কিত অঙ্গুরীয়টি উদ্ধার করে। অঙ্গুরীয়টি দেখে রাজা দুষ্মন্তের পূর্বস্মৃতি জেগে ওঠেনি। তিনি শকুন্তলার জন্য অনুশোচনা করেন। এমন সময় দুষ্মন্ত ইন্দ্রের আদেশে কালনেমি নামের দানবের সন্তানদের বধ করার জন্য স্বর্গে গমন করেন। ফেরার পথে মারীচ মুনির আশ্রমে প্রবেশ করেন এবং সেখানে প্রথমে পুত্র সর্বদমনভরত এবং পরে পত্নী শকুন্তলার সঙ্গে মিলিত হন। আর এ মিলনের মাধ্যমে নাটকের পরিসমাপ্তি
ঘটে।

নাচের দল ভাবনা প্রযোজিত এবং পরিচালিত ‘শকুন্তলা’ মনিপুরীভিত্তিক নাচ হলেও এর সঙ্গে যুক্ত কত্থক, ছৌ, রাইবেশেসহ বেশকিছু শাস্ত্রীয় নাচের সম্মিলন ঘটিয়ে তারা এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিল নৃত্যনাট্যটি। এর সঙ্গে নজরুলগীতির চমকপ্রদ ব্যবহার প্রযোজনাটিকে তারা আরো অসাধারন করে তুলেছিলেন। পুরো নৃত্যনাট্যের বিভিন্ন কাজে সহায়তা করেছেন ঢাকা ও কলকাতার কয়েকজন শিল্পী। নজরুলগীতিতে কণ্ঠ দিয়েছেন শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিল ও প্রিয়াঙ্কা গোপ। এছাড়াও সম্মিলিত গানে কণ্ঠ দিয়েছেন এদেশের একদল তরুণ কণ্ঠশিল্পী। অনুষ্ঠান প্রযোজনায় কণ্ঠ দিয়েছেন আবৃত্তিশিল্পী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, শিমুল মুস্তাফা, তামান্না তিথি ও দেবাশীষ চক্রবর্তী। ধ্রুপদী গানে কণ্ঠ দিয়েছেন কলকাতার শীর্ষ রায় ও সংগীত পরিচালনা করেছেন সুমন সরকার। নৃত্যশিল্পী প্রেমা সহ তার দলের বিভিন্ন বয়সী শিল্পীরা তাদের মনোমুগ্ধকর নাচ পরিবেশনার দ্বারা সকলকে মুগ্ধ করে তোলেন।

নাট্য পরিবেশন শেষে, প্রেমা তার সকল দর্শকদের অনুষ্ঠানে আসার জন্য ধন্যবাদ জানান, এবং তার সাথে তিনি সকল নৃত্যশিল্পীর ও অনুপ্রেরণা দানকারীদেরকেও ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানটির আয়োজনে অর্থায়ন এবং সহযোগিতা করেছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী। পৃষ্টপোষকতায় : ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, বেলিসিমো আইসক্রিম, এবং ইটিউনস্। – শাহারিয়ার হাসান…
ছবি – অন্তু সাহা…
অলংকরন – গোলাম সাকলাইন…

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: