আজ সঞ্জীব চৌধুরীর মৃত্যুদিবস…

কিছু মানুষ পৃথিবীতে আসে আবার কালের অতলে হারিয়ে যায়, আর কিছু মানুষ হারিয়ে গিয়েও থাকে স্মৃতির মণিকোঠায়। কীর্তিমানের মৃত্যু নেই, তারা যেন সবসময় থাকে পাশে। সঞ্জীব চৌধুরী এমনই একজন ব্যক্তি ছিলেন যিনি আপন প্রতিমায় মুগ্ধ করে গেছেন এদেশের মানুষের মন।সঞ্জীব চৌধুরী ২৫ ডিসেম্বর ১৯৬৪ সালে বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার মাকালকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা গোপাল চৌধুরী এবং
মাতা প্রভাষিনী চৌধুরী। নয় ভাই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সপ্তম। ছোটবেলায় হবিগঞ্জ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করেন ও এরপরে ঢাকার বকশী বাজার নবকুমার ইন্সটিটিউটে নবম শ্রেণীতে এসে ভর্তি হন ও সেখান থেকে ১৯৭৮ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ১২তম স্থান অর্জন
করেন। ১৯৮০ সালে তিনি ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেও মেধা তালিকায় স্থান করে নেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত
বিভাগে ভর্তি হন কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা শেষ না করে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
১৯৯৫ সালে বাপ্পা মজুমদারের সঙ্গে তিনি গঠন করেন আজকের জনপ্রিয় ব্যান্ড দলছুট। দলছুটের সর্বপ্রথম এ্যালবাম ‘আহ’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৭ সালে। এই এ্যালবাম প্রকাশের পরই সংগীত-বোদ্ধা ও শ্রোতামহলে বেশ সাড়া পড়ে যায়। এরপর দলছুট থেকে একে একে বের হয়েছে ‘হৃদয়পুর’, ‘স্বপ্নবাজি’, ‘আকাশচুড়ি’,
‘জোছনা বিহার’ অ্যালবাম। এর মধ্যে ‘স্বপ্নবাজি’ সঞ্জীব চৌধুরীর একক এ্যালবাম। ব্যান্ড ও সলো এ্যালবামে সঞ্জীব চৌধুরীর গাওয়া জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে গাড়ি চলে না, বায়োস্কোপ, আমি তোমাকেই বলে দেবো, কোন মেস্তিরি বানাইয়াছে নাও, আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিল চাঁদ, সাদা ময়লা রঙিলা পালে, চোখ, কথা বলবো না প্রভৃতি।
সাংবাদিক ও সংগীতশিল্পীর পাশাপাশি সঞ্জীব চৌধুরীর অন্য আরেকটি পরিচয় আছে। তিনি একজন কবি। কবি পরিচয়েও তাঁর প্রতিভা সমান ভাবে বিচ্ছুরিত।
দেশের প্রায় সব পত্রিকায়ই তার কবিতা ছাপা হয়েছে। তিনি ছোটগল্পও লিখেছেন। তাঁর ‘রাশপ্রিন্ট’ নামক গল্পগ্রন্থকে আঁশির দশকের সেরা গল্পগ্রন্থ হিসেবে বাংলা একাডেমী নির্বাচিত করে। এছাড়াও তিনি কিছু নাটকের স্ক্রিপ্ট ও লিখেছেন। ‘সুখের লাগিয়া’ নামক একটি নাটকে তিনি অভিনয়ও করেছিলেন।
সঞ্জীব চৌধুরীর এ্যালবাম সমূহ –
আহ্ (১৯৯৭)
হৃদয়পুর (২০০০)
আকাশচুরি (২০০২)
জোছনাবিহার (২০০৭)
সঞ্জীব চৌধুরীর গাওয়া গান সম্পাদনা –
আমি তোমাকেই বলে দেবো
আমি ফিরে পেতে চাই
গাছ
নৌকা ভ্রমন
সাদা ময়লা রঙ্গিলা
কালা পাখি
কোথাও বাশিঁ
দিন সারা দিন
তোমার ভাজঁ খোল আনন্দ দেখাও স্বপ্নবাজি
গাড়ি চলে না
বায়োস্কোপ
অপেক্ষা
সমুদ্র সন্তান
মৃত্যু সম্পাদনা
২০০৭ সালের ১৯ নভেম্বর সঞ্জীব চৌধুরী বাইলেটারেল সেরিব্রাল স্কিমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সঞ্জীব চৌধুরী মানুষকে ভালবাসতেন এবং মানুষের মাঝেই বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতেন। তাইতো মৃত্যুর পর তার দেহটা মানুষের কল্যাণময় এর জন্য মেডিকেল স্টুডেন্টদের ব্যবহার এর জন্য দান করে গেলেন। প্রত্যেক মানুষই মরণশীল। দুনিয়াতে আসে কান্না হাসির মেলা ভেঙ্গে আবার চলে যায়।  শুধু থাকে তার অবদান।

সঞ্জীব চৌধুরী যেখানেই থাকুক, আমাদের মাঝেই বেঁচে থাক এই কামনা সবার। সঞ্জীব চৌধুরীর প্রেমস্মৃতি সবাইকে আলিঙ্গন করে এখনো এবং করবে আজীবন।
সঙ্গীতাঙ্গন এবং সঙ্গীতানুরাগীদের পক্ষ থেকে প্রতি রইলো অকৃত্রিম শ্রদ্ধা এবং ভালবাসা।
অলংকরন – মাসরিফ হক…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *