বাংলাদেশ এবং ভারতে মহান বিজয় দিবস উদযাপন…

“তাজা রক্তের স্রোতে হয়েছিলো
বাংলার পথ নদী রক্তিম লাল,
সেই ৭১ স্মরণীয় চিরকাল। ”

– ১৯৭১ এর দীর্ঘ নয়টি মাসের সেই বেদনাময় দিনগুলো মনে করিয়ে দেয় কত ত্যাগের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা। ১৬ ই ডিসেম্বর বাংলার ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন। এই দিনেই আমরা পেয়েছি একটি বাংলাদেশ। ১৯৭১ এ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বন্ধু সহযোদ্ধা ভারতের কিছু মুক্তিযোদ্ধা তাই এ বিজয় তাদেরও আনন্দের দিন। এই দিনটি আমাদের সাথে তারাও পালন করেন জয়ের আনন্দে।

এ বিজয় উদযাপনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনিধিদলের দলনেতা মাননীয় আসাদুজ্জামান খান এবং যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় যোদ্ধা দলের দলনেতা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) জি এস সিহোতা, ভিআরসি, পিভিএসএম, ভিএসএম ভারত সরকারের আমন্ত্রণে বিজয় দিবস উদযাপনের জন্য বাংলাদেশের ৩০ মুক্তিযোদ্ধা এবং ৬ সামরিক কর্মকর্তাসহ তাদের স্ত্রী ও সহযোগীদের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল ১৪ ডিসেম্বর কোলকাতার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্টমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান-এর নেতৃত্বে এই মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনিধিদলে তিনজন সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ, কূটনৈতিকগণ, ঊর্ধ্বতন আমলা ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিগণও রয়েছেন। তাঁরা ফোর্ট উইলিয়ামসে বিজয় দিবস অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম-অভিজ্ঞ ভারতীয় যোদ্ধাদের সঙ্গে ভাব বিনিময়ের সুযোগ পাবেন। প্রতিনিধি দলটি শান্তি নিকেতনও সফর করে এবং ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬ ঢাকায় ফিরবে।

পাশাপাশি, বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ২৮ ভারতীয় যোদ্ধা এবং ৪ সামরিক কর্মকর্তা তাঁদের স্ত্রী ও সহযোগীদের নিয়ে গতকাল ১৪ ডিসেম্বর ২০১৬ পাঁচদিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন । অভিজ্ঞ এই যোদ্ধারা বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সেনাবাহিনীর সার্ভিস প্রধানগণ এবং প্রধান স্টাফ অফিসারের সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। তাঁরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশের ওয়ার কোর্স ফাউন্ডেশন এবং ঢাকা ক্লাব আয়োজিত ভিন্ন ভিন্ন অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মত বিনিময়ের সুযোগ পাবেন।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় যোদ্ধাদের মধ্যে পারস্পরিক এই সফর বিনিময় ২০০৫ সালে শুরু হয় এবং এ পর্যন্ত ২৮০ জনেরও বেশি মুক্তিযোদ্ধা ও ১২৫ জন ভারতীয় যোদ্ধা কোলকাতা এবং ঢাকায় উৎসবে অংশগ্রহণ করেছেন। এই ধরনের মহতী উদ্যোগ যোদ্ধাদের একে অপরের কাছে এনে দিয়েছে। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছেন। এই অভিজ্ঞতা ও গল্প বিনিময়ের মাধ্যমে তারা তাদের জীবনে সেই উম্মাদনার সময় ফিরে পান যখন উভয় দেশের জনগণ সেই দুঃসময়ে একে অপরকে সহায়তা করেছিলেন। তাঁরা অভিন্ন শত্রুর বিরূদ্ধে লড়াই করার সময়ে একত্রে রক্ত ঝরিয়ে ভ্রাতৃত্বের এক আত্মিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এবং বাংলাদেশের বিজয় দিবস উপলক্ষে ভারতের কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ বিজয় উৎসব’। কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন আয়োজিত এই উৎসব হবে পাঁচ দিনব্যাপী। ১৫ ডিসেম্বর বিকেলে প্রধান অতিথি হিসেবে এই উৎসব উদ্বোধন করবেন কলকাতার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বাংলাদেশের শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৃত্যাঞ্চল পরিবেশন করবে ‘আমি বাংলার গান গাই’ শীর্ষক নৃত্যালেখ্য। শামীম আরা নীপা ও শিবলী মোহম্মদের পরিচালনায় এই নৃত্যালেখ্যে অংশগ্রহণ করবেন নৃত্যাঞ্চলের ৩০ জন শিল্পী। উৎসবের বিভিন্ন দিনে সংগীত পরিবেশন করবেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিল্পীরা এবং ব্যান্ড। ১৫ই ডিসেম্বর রয়েছে সাদি মোহম্মদ, লিলি ইসলাম, আমেনা বেগম এবং ব্যান্ড দল ফিডব্যাকের পরিবেশনা। ১৬ই ডিসেম্বর সংগীত পরিবেশন করবেন কুমার বিশ্বজিৎ এবং কলকাতায় সংগীত বিষয় নিয়ে পড়তে যাওয়া বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশনা। শিক্ষার্থীরা গেয়ে শোনাবেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান। ১৭ই ডিসেম্বর সংগীত পরিবেশন করবেন সাদি মোহম্মদ, সাজিদ আকবর, সালমা আকবর ও ইয়াকুব আলী খান। ১৮ই ডিসেম্বর গাইবেন বরেণ্য শিল্পী সাবিনা ইয়াসমীন। একই দিনে থাকবে কুষ্টিয়ার লালন শিল্পী ও চট্টগ্রামের সুফি দলের গান এবং নাটক মঞ্চস্থ করবে বাংলাদেশের নাট্যদল ‘সুবচন’। শেষ দিন ১৯ ডিসেম্বর গাইবেন শিল্পী এস আই টুটুল ও দিনাত জাহান। এবং অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা ভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী করা হবে।
দুই দেশের বিজয়ের উৎসব যেন মাটির শিকড়ের টান খুঁজে পায়।
আমরা বাঙ্গালী; বাংলাদেশ বাংলা ভাষা আমাদের গর্ব।
তাইতো মন বলে উঠে –
‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার
সারা বিশ্বের বিস্ময় তুমি আমার অহংকার’।
অলংকরন – মাসরিফ হক…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: