আজ ওস্তাদ বারীণ মজুমদার এর জন্মবার্ষিকী…

দেশের সঙ্গীতাঙ্গনে গুণী এবং প্রতিভাসম্পন্ন সঙ্গীতশিক্ষা শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ওস্তাদ বারীণ মজুমদার।
আজ উনার জন্মদিন। বারীণ মজুমদার ১৯১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পাবনার রাধানগরের মজুমদার জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের উন্নয়নে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। দেশীয় সঙ্গীতে অনবদ্য অবদানের জন্য বারীণ মজুমদার স্বাধীনতা পদক, একুশে পদকসহ বিভিন্ন সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। ১৯৩৮ সালে তিনি কলকাতার বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে তালিম গ্রহণ করেন। পরে তিনি লক্ষ্মৌয়ের ওস্তাদ রঘুনন্দন গোস্বামীর নিকটও সঙ্গীত শিক্ষা লাভ করেন। ১৯৪৩ সালে লক্ষ্মৌ ‘মরিস কলেজ অব মিউজিক’ থেকে সঙ্গীত বিশারদ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত তিনি পণ্ডিত শ্রীকৃষ্ণ রতনজনকর, অধ্যাপক জে এন নান্টু, ওস্তাদ হামিদ হোসেন খাঁ, চিন্ময় লাহিড়ী, ওস্তাদ ফৈয়াজ খাঁ ও ওস্তাদ খুরশীদ আলী খাঁর কাছে স্বতন্ত্রভাবে তালিম নেন। ১৯৫৭ সালে বুলবুল একাডেমীর উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন ও ‘প্রথাসিদ্ধ ধ্রুপদী সঙ্গীত চর্চার’ কোর্স চালু করেন। এ সময়ে তিনি ঢাকা বোর্ডের সঙ্গীত সিলেবাস প্রণয়ন করেন এবং ঢাকা রেডিওতে বিশেষ শ্রেণীর শিল্পী হিসেবে রাগসঙ্গীত পরিবেশন শুরু করেন। ১৯৬৩ সালে ১০ নভেম্বর ওস্তাদ বারীণ মজুমদার ঢাকার কাকরাইলে ১৬ জন শিক্ষক ও ১১ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে দেশের প্রথম সঙ্গীত কলেজ ‘কলেজ অব মিউজিক’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ বেতারের অডিশন ও গ্রেডেশন বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে ওস্তাদ বারীণ মজুমদার ‘মণিহার সঙ্গীত একাডেমী’ প্রতিষ্ঠা করেন। এ সময় তিনি সঙ্গীতের পাঠ্যপুস্তক ‘সঙ্গীতকলি’ ও ‘সুর লহরী’ প্রণয়ন করেন। বারীণ মজুমদার তৎকালীন পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসের বেসামরিক খেতাব ‘তমঘা-ই-ইমতিয়াজ’ লাভ করেন। ১৯৮৩ সালে তিনি ‘একুশে পদক’ লাভ করেন। এছাড়া তিনি ১৯৮৮ সালে বেগম জেবুন্নেছা ও কাজী মাহাবুবউল্লাহ জনকল্যাণ ট্রাস্ট পুরস্কার এবং ৯০ সালে ছায়ানট আয়োজিত সিধু ভাই স্মৃতি পুরস্কার লাভ করেন।

তিনি ১৯৯৭ সালে ‘পাবনা পদক’ ১৯৯৮ সালে জনকণ্ঠ গুণীজন সম্মাননা পদক এবং ১৯৯৯ সালের বাংলা একাডেমী ফেলোশিপ লাভ করেন। সঙ্গীত চর্চায় ও সঙ্গীত শিক্ষায় অসামান্য ও গৌরবোজ্জ্বল অবদানের জন্য প্রয়াত ওস্তাদ বারীণ মজুমদারকে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০০২ প্রদান করা হয়। তার বড় ছেলে পার্থ মজুমদার বর্তমানে দেশের জনপ্রিয় একজন সঙ্গীত পরিচালক এবং ছোট ছেলে বাপ্পা মজুমদার জনপ্রিয় শিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালক।
২০০১ সালের ৩রা অক্টোবর এই মহান শিল্পী বারীণ মজুমদারের মৃত্যু হয়।
তার স্মৃতি সুরের ভুবনে অম্লান।
অলংকরন – গোলাম সাকলাইন…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: