ম্যাজিক বাউলিয়ানা : একতারার গান

সঙ্গীত আয়োজনে : ইবরার টিপু

লোকগানের আয়োজন ম্যাজিক বাউলিয়ানা থেকে সেরা পাঁচজন শিল্পী কে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে “ম্যাজিক বাউলিয়ানা- একতারার গান” এ্যালবামটি। এতে পাঁচজন নবাগতা শিল্পী কনা, দিপা, সাথি, বিউটি ও দিতিকে অনুপ্রাণিত করতে তাদের সাথে সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন শফি মণ্ডল, ফজলুর রহমান বাবু, আবু বকর সিদ্দিক, সন্দ্বীপন ও মনির খান। এতে দ্বৈত কন্ঠের গান রয়েছে পাঁচটি এবং সেরা পাঁচের একক সঙ্গীত রয়েছে পাঁচটি। প্রথম ট্র্যাকের শুরুতেই অপ্রত্যাশিত ভাবে শফি মন্ডলের কন্ঠে যখন রাগ সঙ্গীতের আলাপ বেজে ওঠে তখন আপনা থেকেই এ্যালবাম এর কভারে নজর চলে যায়। বিস্বয়ের  ভাব না কাটতেই কনা গেয়ে ওঠেন “বন্ধুরে কই পাবো সখিরে”। ইবরার টিপু খুব চমৎকার ভাবে বাউল সম্রাট শাহ্‌ আব্দুল করিম এর কথা ও সুরের এই গানটির সাথে দেশীয় বাদ্যযন্ত্র, পাশ্চাত্যের যন্ত্র ও শুদ্ধ সঙ্গীতের আলাপ মিলিয়ে বেশ নতুনত্বের সাথে পরিবেশন করেছেন। দ্বিতীয় ট্র্যাক “কি জ্বালা দিয়ে গেলি মোরে” পরিবেশন করেন দিপা ও ফজলুর রহমান বাবু। পুরো গানটি জুড়ে একতারার স্বরটি খুব চমৎকার ভাবে ফুটে উঠেছে। সাথে বাঁশি, গিটার, বেহালা শ্রুতিমধুর করে তুলেছে গানটিকে। ফজলুর রহমার বাবুর কন্ঠে চমৎকার অভিব্যক্তি ফুটে উঠেছে। দিপাও ভাল গেয়েছেন। গানটি কথা ও সুর করেছেন আসকর আলী। তৃতীয় ট্র্যাক “মধুর মধুর কথা কইয়া” গানটি খুব সুন্দর ভাবে শুরু করেন সাথি। তার সাথে গানটি ধরেন আবু বকর সিদ্দিক। গানে ডাফের ব্যবহার বিচিত্রতা যোগ করেছে। লোকজ সঙ্গীত হলেও একটু ফাঙ্কি ভাবে শুরু হয় চতুর্থ ট্র্যাক “প্রাণ বন্ধু আসিতে সখি গো”। পরিশালিত কন্ঠের অধিকারি সন্দীপন এবার গেয়ে ওঠেন বিউটির সাথে। বিউটির গাইবার ভঙ্গিতে আমাদের লোকজ সঙ্গীতের মাইক্রোফোনে না বাঁধা কন্ঠের আদি স্বর বা টোনখানি খুব সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়। গানটির
ইন্টারলিউডে পিয়ানোর ব্যবহারটি খুব সুন্দর হয়েছে। বেজ গিটারটিও খুব চমৎকার বেজেছে। সন্দীপনের অভিজ্ঞ পরিশালিত কন্ঠের সাথে বিউটির আদি স্বরের মিশ্রণটা নিজেই একটা ফিউশন তৈরি করেছে এ গানটিতে। খুব চেনা এ গানটির কথা ও সুর করেছেন বাউল সম্রাট শাহ্‌ আব্দুল করিম। পঞ্চম ট্র্যাক “সোনা বন্ধু রে” খুব দরদের সাথে শুরু করেন দিতি। একতারার সাথে সঙ্গী হয়ে বেজে ওঠে খঞ্জনী। খুব আবেগ দিয়ে এই গানটিতে দিতির সাথে কন্ঠ দিয়েছেন মনির খান। গানটি নিঃসন্দেহে সবার হৃদয় ছুঁয়ে যাবে। গভীর আবেগের এই গানটির কথা ও সুর করেছেন হেমাঙ্গ বিশ্বাস।
এ্যালবাম এর দ্বিতীয় ভাগটিতে রয়েছে সেরা নবাগতা শিল্পীদের একক সঙ্গীত। শুরু হয়েছে ফকির লালন শাহ্‌ এর “অমৃত মেঘের বারি” দিয়ে। গেয়েছেন দিপা। এর পরে কনা গেয়েছেন “যে দুঃখ আমার অন্তরে”। খোলা কন্ঠ, দমের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং একই সাথে আবেগ কে সাথে রেখে খুব চমৎকার গেয়েছেন কনা। গানের কথা ও সুর করেছেন ফটিক চাঁদ। গানে বাঁশিটিও খুব প্রাণের সাথে বেজেছে। এর পরে ফকির লালন শাহ্‌ এর “যে নাম স্মরণে যাবে” গেয়েছেন বিউটি। গানটি তে দোতারা, ঢোল, বাঁশির সাথে পিয়ানো ও বিশেষ করে ড্রাম এর ব্যবহারটি যেন লোকজ গান ও জ্যাজ এর একটি জ্যামিং তৈরি করেছে। একটি অন্যরকম ভাব আবেগ তৈরি করবে শ্রোতার মনে। এর পরে বাউল চাঁন মিয়ার কথা ও সুরে “সুজন বন্ধুরে” গেয়েছেন দিতি। এই গানে বিচিত্রতা তৈরি করেছে শানাই এর ব্যবহার। এর পরে আবারও বাউল চাঁন মিয়ার কথা ও সুরে “তুমি ডাক
দিলে অবলার পানে” গেয়েছেন সাথি। গানটিতে আমাদের সকলের ছোটবেলার মেলায় দেখা দেশীয় এক তারের বেহালার ব্যবহার রয়েছে। একটা কথা বলতেই হয় যে সেরা পাঁচ শিল্পীরা নবাগতা হলেও তাদের গায়কীতে তা একেবারেই মনে হয়নি। অভিজ্ঞ শিল্পীদের সাথে তারা খুব সাচ্ছন্দেই সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন। তাদের উজ্বল ভবিষ্যতের জন্য রইল শুভকামনা। আর তাদের সঙ্গী হবার জন্য আমাদের জ্যেষ্ঠ শিল্পীদের প্রতি রইল ধন্যবাদ। এ্যালবামটির শব্দ প্রকৌশল চমৎকার হয়েছে। তবে বাদ্য শিল্পীদের নাম জানতে পারলে ভাল লাগত। এ্যালবামটি পরিবেশন করেছে লেজার ভিশন, এর আয়োজন করেছে মাছরাঙ্গা টেলিভিশন। এর সার্বিক ত্বত্তাবধায়নে ছিলেন কবির বকুল ও হাসান আবেদুর রেজা জুয়েল। – বৈতালিক

অলংকরন – মাসরিফ হক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: