মা দিবসে সকল মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি…

সকল মায়ের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি…
“মা! পৃথিবীর সব সুখ, সব আদর, সকল মমতা, মায়া, ভালোবাসা যে নামের সাথে মিশে আছে তার নাম ‘মা। পৃথিবীর সকল সাধকের, সকল কবির, সকল গানের, সকল প্রেরণার মধুর ডাক ‘মা। পৃথিবীতে অসংখ্য ভাষাভাষী ভাগ- বিবাদ রয়েছে কিন্তু ‘মা’ নামটি সকল ভাষার মানুষই বুঝতে পারে।

দুনিয়ার সকল মনিষী মায়ের প্রতি সম্মান নিয়ে কথা বলে গেছেন। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (স:) সরাসরি ঘোষনা দিয়েছেন জান্নাত মায়ের পায়ের নিচে। অথচ এই জান্নাতের জন্য মানুষ সারা দুনিয়া কাফেলা করে ফেলছে। মা শুধু মায়ের তুলনা।
মা, একটি সংসার, একটি বন্ধন, হাজার দু:খের মাঝেও মা শান্তির ছায়া। মাকে নিয়ে আমাদের বাংলা ভাষায় শতশত গল্প, কবিতা, গান সৃষ্টি হয়েছে। আজীবন হবে মাকে নিয়ে চর্চা।

পৃথিবীর অনেক দিবসের মতো সভ্যতার স্বীকৃতিতে ‘মা দিবস’ পালিত হয়।
যদিও মাকে ভালোবাসতে দিবসের প্রয়োজন হয় না।
মা দিবস হল একটি সম্মান প্রদর্শন জনক অনুষ্ঠান যা মায়ের সন্মানে এবং মাতৃত্ব, মাতৃক ঋণপত্র, এবং সমাজে মায়েদের প্রভাবের জন্য উদযাপন করা হয়।

পৃথিবীর অনেক দেশেই মা দিবস আন্তরিকভাবে পালিত হয়।
সারা পৃথিবীতে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে তারা বিভিন্ন মাসে তারিখে ‘মা দিবস’ পালন করেন।
তবে মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে “মা দিবস” হিসাবে উদযাপনের ঘোষণা দেয়া হয় ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের ৮মে মার্কিন কংগ্রেসে। আর তখন থেকেই এই দিনে বিশ্বের অনেক দেশের সাথে বাংলাদেশেও এখন পালিত হচ্ছ মা দিবস। বিশ্বের প্রায় ৪৬টি দেশে প্রতিবছর দিবসটি পালিত হয় হয়। কথিত আছে, ব্রিটেনেই প্রথম শুরু হয় মা দিবস পালনের রেওয়াজ, কেননা সেখানে প্রতিবছর মে মাসের চতুর্থ রোববারকে মাদারিং সানডে হিসাবে পালন করা হতো। তবে সতের শতকে মা দিবস উদযাপনের সূত্রপাত ঘটান মার্কিন সমাজকর্মী জুলিয়া। মায়ের সঙ্গে সময় দেয়া আর মায়ের জন্য উপহার কেনা ছিল তাঁর দিনটির কর্মসূচিতে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়াতে প্রথম মা দিবস পালন করা হয় ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের ২ জুন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উহলসন সর্বপ্রথম মা দিবসকে সরকারি ছুটির দিন হিসাবে ঘোষণা করেন। মা দিবসের উপহার সাদা কার্নেশন ফুল খুব জনপ্রিয়। আর বাণিজ্যিকভাবে, “মা দিবস” বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম কার্ড আদান-প্রদানকারী দিবস।
মায়ের প্রতি সকল জাতির, সকল ধর্মের মানুষের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা সবসময় অফুরন্ত।
তারপরও সারা পৃথিবীতে অসংখ্য বৃদ্ধাশ্রম। সকল বৃদ্ধাশ্রম ভেঙ্গে যেদিন নিজের শ্রমে মায়ের বৃদ্ধা জীবনের সম্বল সন্তান সেদিনই পালিত হবে সত্যিকার ‘মা দিবস ‘।
পৃথিবীর সকল মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি।
অলংকরন – গোলাম সাকলাইন…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: