Press "Enter" to skip to content

লুভা নাহিদ চৌধুরীর একক সঙ্গীত সন্ধ্যা…

সকলেরই চেনা জানা তবুও যেন অচেনা একজন শিল্পী হিসেবেই অতুল প্রসাদের গান পরিবেশন করলেন লুভা নাহিদ চৌধুরী। গত ২০ই মে ২০১৭, রোজ শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে লুভা নাহিদ চৌধুরীর একক সঙ্গীত সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। প্রথমে মাত্র ১৪৭ আসনের পরিসরে আয়োজন করার পরিকল্পনা থাকলেও পরবর্তীতে তা স্থানান্তর করা হয় প্রায় পাঁচগুন বড় মিলনায়তনে। ধীরে ধীরে শ্রোতায় ভরে উঠলো আসর।

সঙ্গীতপ্রিয় শ্রোতাদের কাছে শিল্পী লুভা নাহিদ চৌধুরীর মধুময় কন্ঠে সুরের মন মাতানো আওয়াজ বা গানের কথায় মনের কথা বলার ভাবভঙ্গি চেনা ও জানা। তিনিই রাজধানীর গানপ্রিয় শ্রোতাদের গানের পিপাসা মেটাতে উপস্থাপন করেন গুণী ও কিংবদন্তী সব সঙ্গীত শিল্পীদের। শিল্পকলার সেবায় নিজেকে জড়িয়ে সঙ্গীত চর্চা করার মত সময় আর মেলে না। কিন্তু গানপ্রিয় শ্রোতা দর্শক কি ভুলে যেতে পারে? কখনোই না । সঙ্গীতপ্রিয় শ্রোতা-দর্শকের উপস্থিতি যেন বুঝিয়ে দিল, লুভা নাহিদ চৌধুরীর গানের কথা অনেকেরই জানা।

আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস উপলক্ষ্যে সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানমালার তৃতীয় সন্ধ্যায় উক্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর। আয়োজিত একক সঙ্গীত সন্ধ্যায় অতুলপ্রসাদ সেনের কথামালায় একগুচ্ছ গান পরিবেশন করেন এই গুণী সঙ্গীত শিল্পী। অতুলপ্রসাদ সেনের ‘এসো গো একা ঘরে’ গানটি দিয়ে শুরু করে এক এক করে গেয়ে শোনান, আমি সারা সকাল বসে বসে, তুমি কবে আসিবে মোর আঙ্গিনায়, কে যেন ডাকিছে মোরে, ওরে বন তোর বিজনে সঙ্গোপনে, বলো গো সজনী কেমনে ভুলিবো, আজি এ নিশিতে সখী, ক্রন্দসী পথচারণী তুমি কোথা যাও ইত্যাদি গান সহ তার পছন্দের প্রিয় গান ‘আমার ঘুম ভাঙ্গানো চাঁদ’।

উক্ত সঙ্গীত সন্ধ্যায় উপস্থিত ছিলেন চিত্রশিল্পী হাশেম খান, লেখক বদরুদ্দীন উমর, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের প্রমুখ। স্বাগত জানান জাদুঘর মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী এবং জাদুঘরের কিপার নূর-এ নাসরিন।

শিল্পী লুভা নাহিদ চৌধুরী গানের ফাঁকে ফাঁকে তিন কবির জীবন বৃত্তান্ত শ্রোতাদের কাছে তুলে ধরেন। তিন কবি অতুলপ্রসাদ সেন, ডি এল রায় ও রজনীকান্ত সেনের জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন রবীন্দ্রনাথের গানের জনপ্রিয়তা যখন মধ্যগগনে, তখনই গান লিখেন এই কবিরা। তাই এই কবিদের গানও গুরুত্বের সঙ্গে চর্চা করা আবশ্যক বলে মনে করেন শিল্পী লুভা নাহিদ চৌধুরী। অতুলপ্রসাদ সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন, ব্যাক্তি জীবনে অতুলপ্রসাদ ছিলেন অনেক দুঃখী। হয়তো ব্যাক্তি জীবন দুঃখের ছিলো বলেই এমন সুন্দর গান বাঁধতে পেরেছেন। অনুষ্ঠানে শিল্পী অতুলপ্রসাদের গান ছাড়াও গেয়ে শোনান রজনীকান্ত ও ডি এল রায়ের লেখা গান। আসরে মোট ১৪ টি গানের মধ্যে বেশীর ভাগ গানই ছিলো অতুলপ্রসাদ সেনের সব চমকপ্রদ গান। লুভা নাহিদ চৌধূরীর এটি ছিলো অতুলনীয় একক সঙ্গীত সন্ধ্যা।

তবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কিছুটা বিব্রতবোধ ছিলেন আয়োজকেরা। কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন থেকে আকস্মিকভাবে শ্রোতা-দর্শকদের নিয়ে যাওয়া হয় প্রধান মিলনায়তনে। এই অপ্রস্তুত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন ফয়জুল লতিফ চৌধূরী। তবে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবেনা বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিলম্বে অনুষ্ঠান শুরু করার কারনে শিল্পী নিজেও দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে কিছু ত্রুটি থাকলেও শ্রোতা দর্শক শিল্পী লুভা নাহিদ চৌধুরীর কন্ঠে গানের কথায় ও সুরে খুঁজে পেয়েছেন অন্যরকম জীবনের স্বাদ। তাঁর প্রতিটি গানই শ্রোতা-দর্শককে আনন্দ দিতে সক্ষম হয়েছে। – রবিউল আউয়াল দুঃখ…

ছবি – সংগ্রহ…

অলংকরন – গোলাম সাকলাইন…

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: