গানের পিছনের গল্প – মধু হই হই আরে বিষ হাওয়াইলা…

মধু হই হই আরে বিষ হাওয়াইলা
সুরকারঃ মোঃ আব্দুর রশিদ
গীতিকারঃ মোঃ আব্দুর রশিদ

বলছি কক্সবাজারের আঞ্চলিক গানটির পিছনের গল্প।

না, এটা প্রথমবার নয়; এরকম আরও অনেকবার, আরও অনেক লোকের সামনে গান গেয়েছেন। মন ভাল করেছেন, আনন্দ দিয়েছেন। নিজের হৃদয়ের খোরাকের জন্য, নিজের জন্মভুমির সুনামের টানে ছুটে যেতেন এবং এখনও যাচ্ছেন, গান শোনাতে। বিনিময়ে অনেক অনেক ভালবাসা নিয়ে আবার ফিরে যাচ্ছেন তার সেই ছোট্ট কুটিরে।

হ্যাঁ, একজন মোঃ আব্দুর রশিদ -এর গল্প বলছি। বাংলাদেশের মূল ভূ-খণ্ড থেকে অনেক দূরে, সেন্ট মার্টিনে তার আবাস। গান করেন আশির দশক থেকে। তার এই সংগীত জগতে আসার ঘটনা একটু পর বলছি। আজ পর্যন্ত অনেক গান লিখেছেন, সুর করেছেন এবং গেয়েছেন। তবে এর সবই নিজের মনের আনন্দের জন্য, কোনও টাকা পয়সার জন্য না। আশ্চর্য হলেও সত্যি যে তার কোনও গান কোথাও লেখা নাই, সবই তার হৃদয়ের খাতায় লিখে রেখেছেন। তার ভাষ্যমতে, “আমি লিখতে, পড়তে পারি না। কাউকে দিয়ে লেখাতে গেলেও তার বিনিময় চায়। তাই যেটা না পারি সেটার উপর নির্ভর করছি না।”

এবার আসা যাক কেন তাকে নিয়ে লিখছি। খুব সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম গুলোয় যে গান অনেক চলছে সেটা একটু মনে করিয়ে দেই “মধু হই হই আরে বিষ হাওয়াইলা”। হুট করে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই গান আমাদের সামনে তুলে এনেছে ক্ষুদে শিল্পী জাহিদকে। কিন্তু এই গানের আসল রচয়িতা ও সুরকার কে? ঠিক যেটা ভাবছেন সেটাই; এই মোঃ আব্দুর রশিদ-ই এই বিখ্যাত গানের রচয়িতা ও সুরকার। খুব বেশি ভাল মানুষ বলেই এখনও পর্যন্ত তাকে গণমাধ্যমে দেখা যায়নি।

যাই হোক, এই গানের পেছনের গল্প শুনতে চাইলে বের হয়ে আসলো তার সংগীত জগতে আসার ইতিহাস। ‘৮০ দশকের একজন খাটি প্রেমিক ছিলেন এই রশিদ গায়েন। দীর্ঘ ৭ বছর প্রেমের জন্য ঘুরেছেন কোন এক ললনার পেছনে। বপন করেছিলেন অনেক স্বপ্নের বীজ। অনেক মধুর মধুর আশা দেখিয়েছিল তাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই প্রেমই তাকে নেশা নামক বিষের পথে ঠেলে দিয়েছিল। বহুদিনের সেই পরিচিত প্রেমিকাই তাকে প্রেম নদীতে ডুবিয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করেছিল তার দ্বিতীয় প্রেম “গান”। কিছুই না পারা রশিদ থেকে হয়ে যান রশিদ গায়েন। আর এই পুরো সময়টায় তার অনুপ্রেরণা, শক্তি ছিল তার সেই প্রেম। আর সেই সময়ই লিখেছিলেন আজকের এই বিখ্যাত গান। এছাড়াও তার আরও যেসব গান রয়েছে সবই তার জীবন থেকে নেয়া টুকরো টুকরো গল্প।

সংসার জীবনে খুব বেশী মন দিতে পারেননি তিনি। বহুকাল একা থাকার পর বিধবা ভাবিকে বিয়ে করেছিলেন পরিবারের অনুরোধে তার ভাইয়ের তিন সন্তানসহ। এরপর আরও ২সন্তান এর জন্ম হলেও তারা কেউই বেঁচে নেই।
তাকে ছেড়ে পরপাড়ে চলে গেছেন তার স্ত্রীও। এখন সেই তিন সন্তান আর দ্বিতীয় স্ত্রী নিয়েই চলছে তার সংসার। তবে এখনও মনে পুষে রেখেছেন সেই প্রথম প্রেম, যা মিশে আছে তার প্রতি গানে-গানে।

আজ তাকে নিয়ে লেখার একটাই কারণ। তার গানের জন্য একজন জাহিদ এর কপাল খুললে, তার কপালও খুলতে পারে এটা আমার বিশ্বাস। আমরাই পারি তাকে স্বীকৃতি দিতে।

গানের কথাঃ

মধু হই হই বিষ হাওয়াইলা মধু হই হই বিষ হাওয়াইলা
হন হারনে ভালবাসার দাম ন দিলা
হন দোষখান পায় ভালবাসার দাম ন দিলা

আশাই আছিল তোয়ারে লয় বাইন্দুম একখান সুখেরই ঘর
সুখের বদলে দুককু দিলা

হন হারনে ভালবাসার দাম ন দিলা
হন দোষখান পায় ভালবাসার দাম ন দিলা

প্রেম নদীতে অইনুর টানত আরে কেন ফেলাই গেলা
এনগরি কেন ভুল বোঝিলা

হন হারনে ভালবাসার দাম ন দিলা
হন দোষখান পায় ভালবাসার দাম ন দিলা
মধু হই হই বিষ হাওয়াইলা মধু হই হই বিষ হাওয়াইলা – তথ্য সংগ্রহে মীর শাহ্‌নেওয়াজ

১) শিল্পীঃ অন্তর হাসান

২) শিল্পীঃ স্মরণ

৩) শিল্পীঃ জাহিদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *