Press "Enter" to skip to content

চলে গেলেন সুব্রত সেনগুপ্ত…

জন্মিলে মরিতে হবে,
এই দুনিয়া ছাড়তে হবে
জেনে রেখ একদিন।
ঐপারের ডাক আসিবে
ওরে মন তোর যেই দিন।
বাচঁলে আপন কত স্বজন
মরলে সবাই হবে পর,
থাকতে হবে একা একা
আপন হবে মাটির ঘর।

কেউ পৃথিবীতে থাকতে আসেনি আর চাইলেও থাকতে পারবে না। কোনো না কোন একদিন তাকে চলে যেতেই হবে। শুধু থাকবে তার রেখে যাওয়া কর্ম। যার মাধ্যেমে সে চির অমর হয়ে থাকবে ইতিহাসের পাতায়। তেমনি একজন গুনী মানুষ আমাদের সুব্রত সেন গুপ্ত। যার কথা বাংলার মানুষ কোনদিন ভুলতে পারবেনা। দীর্ঘ দিন হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ছয়টার সময় তার পরলোক গমন হয়। এভাবে যুগে যুগে আমাদের দেশের প্রদীপ গুলো নিবে যাচ্ছে চলে যাচ্ছে আমাদেরকে ছেড়ে না ফেরার দেশে। আমরা কেমন করে ভুলবো তাকে, তার কর্ম আমাদেরকে মনে করিয়ে দিবে তার কথা।

১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে তার অবদান ছিল চোখে পড়ার মত। যখন যুদ্ধ শুরু হয় তখন সুব্রত ঢাকার সেগুনবাগিচায় ওস্তাদ বারীণ মজুমদারের সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র। এক পর্যায় তিনি কসবা হয়ে আগরতলায় চলে যান আর সেখান থেকে কলকাতায় গিয়ে যোগ দেন বালীগঞ্জ সার্কুলার রোডে স্বাধিন বাংলা বেতার কেন্দ্রে। সেখানে তিনি রচনা করেন চেতনায় উদ্বোধ্য হওয়ার মত গান। যে গান শোনে মুক্তিবাহিনীর হৃদয়ে স্বাধীনতার চেতনা জার্গত হয়। তার রচনাশৈলীর গানের শিরোনাম গুলো ছিল, “রক্ত চাই রক্ত চাই অত্যাচারীর রক্ত চাই”, “ছোটরে সবাই বাধঁ ভাঙ্গা অগনিত গ্রাম মজুর কিষাণ”, “শোন জনতা গান জনতা” সহ বেশ কিছু গান। শুধু তাই নয় একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়েও তিনি লিখেছেন ১৬০টি গান। এবং জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তার লেখা গান ছিল ৫৫৫টি। এই গুনী মানুষটি পেলনা সঠিক সময়ে তার গুনের কদর। বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুড়িয়ে ফিরিয়ে টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে অবশেষে ঢাকার গ্রিন লাইফ হাসপাতালে আইসিইউতে রাখা হয়। আর সেখানেই তার জীবনের শেষ নিঃশ্চাষ ত্যাগ করেন। তার মরদেহ পোস্তগোলা মহাশ্মশানে নিয়ে শেষ কার্য সম্পাদন করবেন। মৃত্যুপথের যাত্রী হয়েও বেচেঁ থাকবেন আমাদের হৃদয়ে সম্মানের আসনে। আমরা কখনো তার ঋণ শোধ করতে পারবো না। তার মৃত্যুতে সঙ্গীতাঙ্গন খুবই শোকাহত। তিনি যেন স্বর্গবাসি হন সেই মঙ্গল কামনা করি। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না…

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: