মেয়ের সাফল্য বাবার পরম পাওয়া…

বাবা মা-র, কাছে সবচেয়ে গৌরভের সময় হলো সেই সময় যখন বাবা মায়ের আদরের সন্তান মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়। বাবা মা-র সামনে সন্তানের সফলতার কথা কেউ বললে বাবা মা অনেক খুশী হয়। গর্বে বুকটা ভড়ে যায়। তেমনই এক সন্তান হলো বাংলাদেশের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী আঁখি আলমগীর। বাবা নায়ক আলমগীর যার অভিনয়ে মানুষের মন জয় করেছেন, এখনও দর্শকের মনে আসিন হয়ে আছেন। সেই জনপ্রিয় বাবার সামনে মেয়েও এখন জনপ্রিয়। বাবার চোখের সামনে মেয়ে যে কখন এতোটা জনপ্রিয় হয়েছেন তা বাবা কখনো ভাবেননি। বাবার সামনে মেয়ের এতো জনপ্রিয়তা। নায়ক আলমগীরের কাছে যেন এক অবিশ্বাস্য বাস্তবতা।

গত বুধবার সন্ধ্যায় টঙ্গীর পাইলট স্কুল মাঠে কমিউনিটি পুলিশ আয়োজিত মাদক ও জঙ্গি বিরোধী কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়। এসময় অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে চিত্রনায়ক আলমগীরও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কনসার্টে সঙ্গীত পরিবেশন ও পারফর্ম্যান্সে অংশ নিয়েছিল চিত্রনায়িকা পপি, রিয়াজ, আঁখি আলমগীর, জায়েদ খান, সালমা ও বিউটি। অনুষ্ঠানে লাখেরও অধীক দর্শক উপস্থিত ছিলেন। এতো দর্শকের মাঝে উপস্থাপক অনুষ্ঠানে কে কে পারফর্ম করবেন এবং সঙ্গীত পরিবেশন করবেন তা যখন একে একে বলছিলেন তখন আগত দর্শক মনোযোগ দিয়ে তা শুনছিলেন। ঠিক যখন সঙ্গীত শিল্পীদের মধ্যে আঁখি আলমগীরের নাম উপস্থাপক উচ্চারণ করেন তখন মাঠ ভর্তি লাখ দর্শক একসঙ্গে আঁখি আলমগীরের নাম নিয়ে ভীষণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। দর্শক যেন তারই নামটি শোনার অপেক্ষায় ছিলেন।

নায়ক আলমগীর নিজের মেয়ের এতোটা জনপ্রিয়তা দেখে রিতিমত বিস্মিত হলেন। সেইসাথে আনন্দ অনুভব করলেন তিনি। একেবারেই সামনের সারিতে বসা আলমগীর তখন পিছনে ফিরে দর্শককে দেখে নিলেন কয়েকবার। যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না আলমগীর তার নিজের মেয়ের এই জনপ্রিয়তা।পরক্ষণেই আলমগীর আঁখি আলমগীরকে কাছে ডেকে বললেন, আব্বু, বাসায় গিয়ে আজ দু’রাকাত নফল নামাজ পড়বে। আর তুমি জনপ্রিয়, এটা জানতাম। কিন্তু তুমি এতোটা জনপ্রিয়, আমার ধারনাই ছিলো না। বাবার কাছ থেকে এমন কথা শুনে বেশ কিছুটা সময় নিশ্চুপ হয়ে ছিলেন আঁখি। বাবার কাছ থেকে এতো বড় কমপ্লিমেন্ট যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না আঁখি। আঁখি আলমগীর বলেন, উপস্থাপক যখন আমার নামটি উচ্চারণ করলেন তখন মাঠজুড়ে দর্শকের যে উচ্ছ্বাস তা দেখেই আব্বু অবাক হয়ে গেলেন। এরপর আব্বু কাছে ডেকে আমাকে যা বললেন, এটাই আসলে আমার সঙ্গীত জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার। কারণ আমার গানের সবচেয়ে বড় সমালোচক আমার আব্বু। সঙ্গীতে কোনরকম ভুল করলে আব্বুর বকুনি খেতে হয়। আমার গায়কী নিয়ে আব্বুর প্রশংসা খুবই কম শুনেছি আমি। নিজের
চোখের সামনে আমার প্রতি দর্শকের ভালোবাসা দেখে কতোটা গর্বিত হলে আব্বু আমাকে কাছে ডেকে নফল নামাজের কথা বলতে পারেন। কনসার্টে এক পর্যায়ে দর্শকের অনুরোধে আলমগীর নিজের কন্ঠে ‘আমি ধন্য হয়েছি ওগো ধন্য’ গানটি পরিবেশন করেন। এতে তারসঙ্গে পারফর্ম করেন পপি। এবারই প্রথম মেয়ের কোন কমার্শিয়াল শো সরাসরি উপভোগ করলেন আলমগীর। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: