আজ সঙ্গীতশিল্পী স্বীকৃতি’র শুভ জন্মদিন…

নওগাঁ জেলার দুরন্ত স্বভাবের সাদামাটা সেই ছোট্র মেয়েটি বাংলাদেশের একজন প্রতিষ্ঠিত সঙ্গীত শিল্পী। যার গানের ভক্ত কোটি দর্শক। সুন্দর আর মায়াবী কন্ঠে মন উজাড় করা গানে মাতিয়েছে ভক্তের মন। সে আর কেউ নয়, সে হলো আমাদের সবার প্রিয় সঙ্গীতশিল্পী শাহানাজ রহমান স্বীকৃতি। টানা নয় মাস মরন ব্যাধি ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করে জীবন নিয়ে দেশে ফিরেছেন সম্প্রতি। কথায় আছে রাখে আল্লাহ্; মারে কে? এমনই কথার রূপ স্বীকৃতি। বাচঁতে চেয়েছেন অনেক দিন। কিন্তু সত্যি যে বেচেঁ গিয়ে দেশে ফিরে আসবেন হয়তো সে নিজেই জানতেন না। আর দীর্ঘ অসুস্থতার পর আজ সেই শিল্পীর জন্মদিন। সেই উপলক্ষ্যে কথা হয়েছে সঙ্গীতাঙ্গনের সাথে। জানতে চাওয়া হয় জন্মদিন উপলক্ষ্যে কি ধরনের আয়োজন করছেন ?

জবাবে স্বীকৃতি জানান যে, আমি আসলে কখনো জন্মদিন ব্যাপারে ততটা আগ্রহী ছিলাম না। হয়না যে, অনুষ্ঠান করে উৎসব করে জন্মদিন পালন করে? সেটা আমি করিনা। এই ঘরোয়া ভাবে পরিবার নিয়ে কেক কাটা হয় তার বেশী কিছুনা। আমার লাইফ স্টাইলটা একেবারে সাদামাটা এসব কিছু করিনা।

জানতে চাই যে আপনি তো দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন এবং মৃত্যুকে খুব কাছে থেকে দেখে এসেছেন আপনার চেয়ে ভালো করে আর কেউ আমাদের এর জবাব দিতে পারবেনা। জীবনের শেষ মূহুর্তের সিড়ি থেকে ফিরে এসে আবার নতুন জীবন পেলেন এবং আগামীকাল থেকে আপনার জীবনের নতুন একটা সকাল এবং নতুন একটা জীবন শুরু হতে যাচ্ছে, এই ফিরে পাওয়া জীবন নিয়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছা গ্রহন করবেন এটা মনে করে আপনার অনুভুতিটা যদি শেয়ার করেন?

স্বীকৃতিঃ আসলে আপনি ঠিক বলেছেন আমি মৃত্যুকে খুব কাছে থেকে দেখেছি। আমি কখনো কল্পনাও করতে পারিনি যে আমি আবার ফিরে আসবো। আবার গান করবো। আবার আমাকে কেউ জন্মদিনের শুভেচ্ছা দিবে এটা ভাবতে গেলে আমার নিজের কাছেই অবিশ্বাষ্য মনে হয়। আমি হাটতে পারতাম না সারাক্ষন হাসপাতালের ব্যাডে শুয়ে থাকতাম। আর আমি স্বীকৃতি আবার সবার সাথে দেখা করবো জন্মদিনের শুভেচ্ছা নিবো ভাবিনি। আমার জন্য সবাই দোয়া করেছে। আমাকে যে চেনে আর না চেনে সবাই দোয়া করেছে। আমার জন্য ওমরাহ্ করেছে অনেকে। আবার কেউ কেউ মিলাদ দিয়েছে নফল নামাজ পড়েছে। সবার দোয়ায় আমি ভালো হয়ে ফিরে এসেছি। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। আমাকে আবারও নতুন একটা বছরে পৌছে দেওয়ার জন্য। সবার মঙ্গল কামনা করি। দেশবাসী সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।

শিল্পী জীবনের শুরুটা জানতে চাইলে স্বীকৃতি বলেন যে, আমি আসলে ছোট বেলা থেকেই গান করি। সেই বয়স যখন চার-পাচঁ বছর তখন থেকে তবে ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত হয়ে আত্নপ্রকাশ করি। আর প্রথমেই ‘ক’ শ্রেণীর একজন শিল্পী হিসেবে স্থান পেয়ে যাই। সেই থেকেই আমার পথ চলা। এসময় তিনি আরো জানান যে এ পর্যন্ত ৭টি একক এ্যালবাম আর ৫০টির ও বেশী মিক্সড এ্যালবাম করেছেন। চলচ্চিত্রের গান করেছেন প্রায় ৬০০ র’ মত হবে। সাম্প্রতিক সময়ে খান জেহাদ পরিচালিত ‘কল্পনা’ চলচ্চিত্রের গানে কন্ঠ দিয়েছেন সাথে ছিল শিল্পী নাহিয়ান। সোমেস্বর অলির কথায় গানটির সুর ও সঙ্গীতায়োজন করেছেন মুস্তফা মাহমুদুল হাসান ও মার্সেল। এখন আর আগের মত এতো বেশী গান আর করিনা। জনপ্রিয় এই সঙ্গীত শিল্পী মরন কে জয় করে আবার গানে ফিরতে পেরে অনেক আনন্দিত। তিনি সঙ্গীতাঙ্গনকে বলেন, ‘আপনারা আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন আমি যেন ভালো ভালো গান আপনাদের উপহার দিতে পারি। সঙ্গীতাঙ্গনের পক্ষথেকে স্বীকৃতির জন্মদিনে অনেক অনেক প্রীতি ও শুভেচ্ছা শুভ জন্মদিন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং আমাদেরকে
ভালো গান শোনান এই প্রত্যাশায়। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: