বাংলাদেশ ও ভারতের জনপ্রিয় শিল্পীরা মাতাবেন অস্ট্রেলিয়া…

কিংবদন্তী ও জনপ্রিয় শিল্পী যাকে এই উপমহাদেশের প্রভাত পুরুষ বলা হয়। সেই কিশোর কুমার স্মরণে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন অস্ট্রেলিয়াতে দুই বাংলার যৌথ দুটি সংঘঠন গল্পকথা ও সিভম ইভেন্টস। এ প্রসঙ্গে জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী রফিকুল আলম সঙ্গীতাঙ্গনকে জানায় যে, এই অনুষ্ঠানটা মূলত হচ্ছে কিশোর কুমার স্মরণে। সেই হিসেবে বাংলাদেশ থেকে আমি আবিদা সুলতানা ও শফিক তুহীন আমন্ত্রীত হয়েছি। আমরা বাংলাদেশ থেকে যাচ্ছি যারা আমরা গাইবো লাকি আকন্দের স্মরণে। দুই ঘন্টার একটা স্লট। কারণ সদ্য প্রয়াত লাকি আখন্দ শুধু ভালো সুরকারই নয় আমার কাছে। আমার সু-বন্ধুও। লাকি আখন্দ আর আমি বাংলদেশ স্বাধীন বেতারে অনেক গান করেছি এক সাথে। রফিকুল আলম অনেক আনন্দের সাথে বলেন আমার জীবনের একটা বিখ্যাত গান এটি। এবং গানের এক চরণ গেয়ে শোনালেন তিনি। গানের শিরোনাম হলো লাকি আখন্দের সুর করা বিখ্যাত জনপ্রিয় গান,’তোমাকে যেন না ভুলে যাই, সে আশিষ দেও মোরে’ এই গানটি দিয়ে শুরু করবেন বলে জানান তিনি। একে একে তার জনপ্রিয় গানগুলো করবেন।

এসময় তিনি আরো বলেন যে, বেশীর ভাগ গান তিনি করবেন লাকি আখন্দকে নিয়ে। তার মধ্যে কিশোর কুমার স্মরণেও কিছু গান করবেন। এ প্রসঙ্গে রফিকুল আলম বলেন খুব বিখ্যাত একটি গান যে গানটি আমি ছোটবেলা থেকেই গাইতাম অনেক ভালো লাগার একটি গান আমার বড় ভাই গানটি গাইতো তার মুখে আমি শুনেছি গানটি এখন ভুলে যাচ্ছে অনেকেই তাই গাইবো। এ গানটিও গেয়ে শোনালেন রফিকুল আলম। ‘এক পলকে একটু দেখা, আরো বেশি হলে ক্ষতি কি?’। তিনি আরো জানান যে কিশোর কুমারের হাজার হাজার হিন্দি গান আছে। তার মধ্যে বহু পুরাতন একটি গান যেটা সবাই ভুলে গেছে। ছোট বেলা আমার বড় ভাই গানটা গাইতো আর হাসতো। গানটির শিরোনাম হলো ‘মেরা নাম আবদুর রাহমান’। কথা প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয় তার সহধর্মিনী আবিদা সুলতানার গান সম্পর্কে জবাবে রফিকুল আলম বলেন সে কিশোর কুমারের ডুয়েট গান গুলো গাইবে সাথে আমি থাকবো।

এ সময় তিনি বলেন, অনুষ্ঠানটি হবে ১৮ তারিখ। বাংলাদেশ থেকে আমরা যাবো ১৫ তারিখে, এবং দেশে ফিরে আসবো ২২ তারিখ। এই গুনী শিল্পী দম্পত্তি সম্প্রতি আমেরিকা থেকে গান করে এসেছেন পহেলা বৈশাখে। সেই সম্পর্কে আমাদের বলেন যে, আমি গেল পহেলা বৈশাখে একটি প্রোগ্রাম করেছি ফ্লোরিডাতে। সেখানে কে পি তাদের একটি অনলাইন টিভি চ্যানেল আছে, উনারাই এটার আয়োজন করেন। মূল অনুষ্ঠান ছিল ওটাই। পহেলা বৈশাখে আমরা যাচ্ছি শুনে সেখানে আরেকটা অনুষ্ঠানের এ্যারেঞ্জ করেন তারা। কি বলবো একটা মজার জায়গায় হয়েছে ফাংশনটা। তোমাদের হয়তো মনে আছে বিখ্যাত সিরিজ ডেলাস এর কথা, সেই সিরিজের সুটিংটা যেই রেঞ্জে করেছেন সেই রেঞ্জেই আয়োজন হয়েছিল অনুষ্ঠানটি। বাঙ্গালীরা যে এতো সুন্দর অরগেনাইজ করতে পারবে ভাবি নাই। কে পি টেলিভিশনও খুব সুন্দর এরেঞ্জ করেছে। আমি এত শ্রোতার শোমাগম কোথাও দেখিনি প্রায় ৫৫০০ হাজারের মত দর্শক হয় সেখানে। রেঞ্জটির নাম হচ্ছে সাউথ ফর্ক রেঞ্জ। এতো সুন্দর একটা জায়গা বলে বুজানো যাবেনা। তারাও অনেক সুন্দর এরেঞ্জ করেছে সব মিলিয়ে অনেক ভালো লেগেছিল। সেখানে আমাকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মুক্তিযুদ্ধা হিসেবে সম্মাননা দেয়া হয়। সেই উপলক্ষ্যে মায়ামিবীচে একটি অনুষ্ঠান করেন বিশেষ করে আমার জন্য করা। সেখানে আমি গান করি। তারপর স্থানীয় ছেলেমেয়েরাও গান করেন। আবার ফ্লোরিডার ওলান্ডোতে এই পহেলা বৈশাখেই আরেকটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ডাক্তারদের একটি সংঘটন তারাই এর আয়োজন করেন। খুব বড় বড় ডাক্তারদের সংঘটনের অনুষ্ঠান ছিল এটি। বিশেষ করে ডেলাসে শুধু বাংলাদেশের বাংঙ্গালীরা না পশ্চিমবঙ্গের বাঙ্গালীরাও ছিল। পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান যে বাংলাদেশের লোকেরা এতো বড় আয়োজন করতে পারে এ জন্য ভীনদেশীরা সম্মানের চোখে দেখেছেন। তাই বাংলদেশের সাথে তারাও এসেছিলেন আনন্দ উপভোগ করতে। বাংলাদেশের জনপ্রিয় এই শিল্পীদের জন্য শুভ কামনা। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: