Press "Enter" to skip to content

আজ শ্রদ্ধেয় নজরুল ইসলাম বাবুর জন্মদিন…

“চোখ থেকে মুছে ফেলো অশ্রুটুকু
এমন খুশির দিনে কাঁদতে নেই,
হারানো স্মৃতির বেদনাতে
একাকার করে মন রাখতে নেই।
ওরা আসবে চুপিচুপি..
কেউ যেনো গেওনাকো
ভুল করে মন ভাঙ্গা গান,
সবকটা জানালা খুলে দাওনা।

– সবকটা জানালা খুলে দাও আজ, আজ আমাদের প্রাণের গীতিকবি শ্রদ্ধেয় নজরুল ইসলাম বাবুর জন্মদিন। তিনি ছিলেন একজন পবিত্র দেশপ্রেমীক, একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা।
তিনি লিখে গেছেন,
‘একটি বাংলাদেশ
তুমি জাগ্রত জনতার
সারা বিশ্বের বিস্ময়
তুমি আমার অহংকার।

নজরুল বাবু সত্যি আমাদের বাংলাদেশ সঙ্গীতের অহংকার এবং আদর্শ। নজরুর ইসলাম বাবু ১৯৪৯ সালের ১৭ই জুলাই জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় চরনগর গ্রামে মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিকভিটা একই উপজেলা হেমাড়াবাড়ি গ্রামে। পিতা বজলুল কাদের, মাতা রেজিয়া বেগম। পিতা বজলুল কাদেরের সঙ্গীতানুরাগ ছোটবেলা থেকেই বড় সন্তান নজরুল ইসলাম বাবুকে প্রভাবিত করে। ১৯৭১ সালে তিনি দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীন হলে তিনি আবার লেখাপড়া, সাহিত্য ও সঙ্গীত চর্চা শুরু করেন। ১৯৭৩ সালে আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে বিএসসি ডিগ্রী লাভ করেন।

১৯৭৩ সালেই তিনি বাংলাদেশ বেতার ও বাংরাদেশ টেলিভিশনে গীতিকার হিসাবে তাকিাভুক্ত হন। এরপর একে একে লিখতে থাকেন দারুন সব গান, যার মধ্যে ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’ এবং ‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার’ অন্যতম।
‘সবকটা জানালা খোলে দাওনা’ গানটি তৎকালিন সময়ে বাংলাদেশ টেলিভিশন এর খবর এবং বিভিন্ন সৃজনশীল অনুষ্ঠানের সূচনা সঙ্গীতে ব্যবহৃত হত। পরবর্তীতে এই গানটি চিত্র পরিচালক কাজী হায়াত ১৯৯২ সালে ‘সিপাহী’ ছবির টাইটেলেও ব্যবহার করেছিলেন। এই গানটি ছাড়াও নজরুল ইসলাম বাবু’র লিখা দেশাত্মবোধক গানগুলোও আজও বিভিন্ন জাতীয় দিবসে গাওয়া হয়।
কণ্ঠশিল্পী দিলরুবা খানের কণ্ঠের ঝড় তোলা ‘দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা’ গানটিও নজরুল ইসলাম বাবুর লিখা ।

তিনি বাংলাদেশ গীতিকবি সংসদের প্রথম কার্যনির্বাহী পরিষদ (১৯৭৮-৭৯) এর সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭৮ সালে সুরকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সাথে তিনি প্রথম চলচ্চিত্রে গান লিখতে শুরু করেন।

চলচ্চিত্রে নজরুল ইসলাম বাবুকে আমরা পেয়েছি ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘মহানায়ক’, ‘প্রতিরোধ’, ‘উসিলা’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘প্রেমের প্রতিদান’ এর মতো দারুন সব চলচ্চিত্রের দারুন দারুন সব গানে। শুধু বাংলাদেশের সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা ,সুবীর নন্দী, এন্ড্রো কিশোরের মতো শিল্পীরা নয় নজরুল ইসলাম বাবুর লিখা গান আছে কুমার শানু, আশা ভোষলে, হৈমন্তী শুক্লার মতো উপমহাদেশের জনপ্রিয় ও কিংবদন্তীতুল্য শিল্পীরাও নজরুল ইসলাম বাবুর লেখা গান গেয়েছেন।

১৯৯০ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর অকালে ইন্তেকাল করেন বাংলা গানের এই মেধাবী ও অসাধারন গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবু।
নতুন প্রজন্মকে আমরা আজও এমন একজন গীতিকার সম্পর্কে জানাতে পারেনি অথচ তাঁর লিখা গান আজও দেশসেরা কণ্ঠগুলো গেয়ে থাকেন ।
নজরুল ইসলাম বাবু’র লিখা উল্লেখযোগ্য কিছু গান।

১. সব কটা জানালা খুলে দাও না
২. একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার
৩. আমায় গেঁথে দাওনা মাগো
৪. দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা
৫. কথা বলবো না, বলেছি
৬. পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই / হাজার মনের কাছে
৭. কাঠ পুড়লে কয়লা হয়
৮. ডাকে পাখী খোলো আঁখি
৯. এই অন্তরে তুমি ছাড়া নেই কারো
১০. কত যে তোমাকে বেসেছি ভালো
১১. আমার মনের আকাশে আজ জ্বলে শুকতারা
১২. তোমার হয়ে গেছি আমি
১৩. কাল সারারাত ছিলো স্বপ্নের রাত।

এমন অনেক মধুর গান তিনি রেখে গেছেন আমাদের মাঝে। উনার জন্মদিনে সঙ্গীতাঙ্গন এবং লক্ষকোটি শ্রোতার পক্ষ হইতে জানাই ভালবাসা এবং বিনম্র শ্রদ্ধা।

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: