আজ শ্রদ্ধেয় সঙ্গীতজ্ঞ কমল দাশগুপ্ত-র মৃত্যুবার্ষিকী….

(২৮শে জুলাই ১৯১২ – ২০শে জুলাই ১৯৭৪)…….
আজ কিংবদন্তী সঙ্গীত পরিচালক, সুরকার, গীতিকার এবং লোকগীত শিল্পী কমল দাশগুপ্ত -র ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। কমল আলী মাত্র ২২ বছর বয়সে তার সুরচিত আধুনিক গান ‘আমি সাঁঝের তারকা’ মাধ্যমে আলোচিত হয়ে উঠেন। শিল্পীর গানের ভান্ডারে ৮০০০ গানের মধ্যে চারশত নজরুল সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন, এছাড়াও গীত, মীরা ভজন, কবি-র ভজন, হিন্দী, উর্দূ নাথ, ঠুমরী এবং গজলও ছিল প্রসিদ্ধ।

একনাগারে তিনি ১৫ বছর সঙ্গীত পরিচালনা করেন হিন্দী, বাংলা, তামিল এবং ইংরেজী প্রামান্যচিত্রে এবং মাসে ৪৫ টি গানে সুর সংযোজন করতেন যা ছিল অস্বাভাবিক। তার অনবদ্য সৃষ্ঠি গুলোর মধ্যে ‘পৃথিবী আমারে চায়’, ‘ঘুমের ছাঁয়া’, ‘তুম ভূলায়ে না গায়ে’, ‘চুপকে চুপকে বোল’, ‘দু’টি পাখি দু’টি তাঁরা’, ‘আয় চাঁদ চুপ না জানা’, ‘তাসভীর তেরী দিল মেরা বেহলা না সাকেগি’ ইত্যাদি অন্যতম। যেসকল সঙ্গীত শিল্পীরা স্নেহসিক্ত হাতে তার সহচার্য পেয়েছেন তারা হচ্ছেন যুথিকা রায়, সুধিরা সেনগুপ্ত, সত্যেন ঘোষাল, জগনময় মিত্র, হেমন্ত মুখোপাধ্যয়, বিশ্বদেব চ্যাটার্জী, তালাত মাহমুদ, প্রসূন ব্যানার্জী, মীরা ব্যানার্জী এবং তার সহধর্মিনী ফিরোজা বেগম উল্লেখযোগ্য।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তার রচিত ‘পৃথিবী আমারে চায়’, ‘জেগে আছি একা’, ‘আমি দুরন্ত বৈশাখ ঝড়’, ‘যাদের জীবন ভরা শুধু আখিঁজল’, ‘কতদিন দেখিনি তোমায়’ গানগুলো সাধারন মানুষদের আশার আলো জাগিয়েছিল। তিনি বহু হিন্দী ছায়াছবি ‘জবাব (১৯৪২)’, ‘হসপিটল (১৯৪৩)’, ‘ফুলওয়ারি (১৯৫১)’, ‘রানী (১৯৪৩)’ এবং আরো অনেক এবং ৮০-টির অধিক বাংলা চলচ্চিত্রে শিল্পী এবং সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন – ‘পন্ডিত মশাই (১৯৩৬)’, ‘শেষ উত্তর (১৯৪২)’, ‘সহধর্মিনী (১৯৪৩)’, ‘যোগাযোগ (১৯৪৩)’, ‘বধূ বরন (১৯৬৭) ইত্যাদি। সঙ্গীত পরিচালনার জন্য তিনি অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এবং সঙ্গীতে অবিস্মরনীয় ভূমিকার জন্য ১৯৪৩ সালে তিনি ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেন ‘বেনারাস হিন্দু ইউনিভার্সিটি’ থেকে। এ মহান শিল্পীর মৃত্যুবার্ষিকীতে সঙ্গীতাঙ্গন এর পক্ষ থেকে রইলো অকৃত্রিম শ্রদ্ধা এবং ভালবাসা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *