গানের পিছনের গল্প ও যমজ সুর – এ তুমি কেমন তুমি…

গানের পিছনের গল্প ও যমজ সুর – এ তুমি কেমন তুমি…
এবার ‘গানের পিছনের গল্প ও যমজ সুর’ শিরোনামে কিছু গানের গল্প থাকবে, যেখানে দেখা যাবে একটি সুরের অনুপ্রেরণায় কিভাবে আরও  শ্রুতি সুখকর একটি নতুন গানের সৃষ্টি হয়েছে। এমনও দেখা গেছে সৃষ্ট নতুন গানটি বিশেষ করে সুরের ক্ষেত্রে মূল গানটিকেও ছাড়িয়ে অনন্য এক উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। এ পর্যায়ে আজ থাকছে ২০১৪ সালের ভারতীয় বাংলা ছবি ‘জাতিস্মর’-এর ‘এ তুমি কেমন তুমি’ গানের পিছনের গল্প।
মূল গান –
১)”এ তুমি সেই তুমি” – শিল্পী : বাণী ঘোষাল, সুরকার : অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, গীতিকার : অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।
অনুপ্রাণিত গান –
২) “এ তুমি কেমন তুমি” – শিল্পী : রূপঙ্কর বাগচী, সুরকার : কবীর সুমন, গীতিকার : কবীর সুমন, ছবি : জাতিস্মর (২০১৪)।
এই গানের সুরকার ও গীতিকার কবীর সুমন জানাচ্ছেন গানটির সৃষ্টির নেপথ্যের গল্প।
‘জাতিস্মর’ ছবিতে কবীর সুমন কথা-সুরে একটা গান বাঁধলেন। ‘এ তুমি কেমন তুমি’। এই গানটি গেয়ে রূপঙ্কর বাগচী জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। সংগীত পরিচালনার জন্য কবীর সুমন ভারতীয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। মুগ্ধ সুরকার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বাবু কবীর সুমনকে তাঁর ভাল লাগা জানিয়ে একটি চিঠি লিখলেন। উত্তরে পেলেন সুমনের ফোন। কথা বলে তিনি তো অবাক।
এই গানের সুরকার ও গীতিকার কবীর সুমন জানাচ্ছেন গানটির সৃষ্টির নেপথ্যের গল্প।
সুমন বললেন, ‘এই গানটা তৈরির পিছনে অভিজিৎদা আপনারও  অনেক অবদান আছে।’ কী রকম। বহু যুগ আগে অভিজিৎবাবু একটা গান বেঁধেছিলেন – ‘এ তুমি সেই তুমি’। গেয়েছিলেন বাণী ঘোষাল। গানটার কথা অভিজিৎ বাবু প্রায় ভুলেই গিয়েছিলেন। সুমন হুবহু মিউজিক পার্টসমেত গানটি গেয়ে শোনালেন। অভিজিৎবাবুর গান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গানটা শুরু করে তার পর নিজস্ব পথে নিয়ে গেছেন সুমন।
সুমন আরও বললেন, বাণী ঘোষালের গাওয়া ‘এ তুমি সেই তুমি’ এই গানটি প্রথম শুনেছিলাম জন্মস্থান কটক থেকে কলকাতায় এসে, বেতারে। এই একটি গান সেই সাড়ে পাঁচ- ছ বছর বয়সে আমার ভেতরে  কি কি ঘটিয়েছিল তা আমিই জানি। সঙ্গীত একটি non verbal medium। কথা দিয়ে বোঝানো যায় না। ঘনিষ্ঠতম মানুষকেও বলতে পারিনি।
বাণী ঘোষালের গাওয়া, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুর করা এই গানটি আমায় প্রথম শোনার মুহূর্ত থেকে এই মুহূর্ত পর্যন্ত যে আনন্দ, যে সুখ, যে স্ফুর্তি, যে উৎসাহ দিয়েছে আর কোনও গান তা দেয়নি। আমার ভেতরে যে খান দুই গান আজও নিয়ত খেলে যাচ্ছে অনন্ত জোয়ার ভাঁটার মতো এটি তার অন্যতম। প্রিলিউড থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত এই গান আমার ধ্রুবতারা। এই গান আমার চিরকালের গান।
বাণী ঘোষাল ছিলেন এক ইউনিক কন্ঠস্বরের অধিকারী। আমাদের দেশে চলচ্চিত্রে হিরোইনের ঠোঁট থেকে বেরিয়ে যে ধরণের কন্ঠ সচরাচর জনপ্রিয় হয়েছে সেগুলি চিকন, একমাত্রিক। ব্যতিক্রম নিশচই আছে, কিন্তু তা ব্যতিক্রমই। শামশাদ বেগম, উৎপলা সেন, বেগম আখতার, সুপ্রভা সরকার, সুপ্রীতি ঘোষ – এঁদের কন্ঠে যে “মহিলাদের” আমি পেয়েছি, লতা মুঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে, এমনকি মহাশিল্পী গীতা দত্ত’র কন্ঠেও তা পাইনি।
বাণী ঘোষালের কন্ঠে পেয়েছি এক প্রাণবন্ত মহিলাকে। তাঁর কন্ঠ ও গায়কী শুনে মনে হয় তিনি সৌখীন জীবনে নেই, তিনি কর্মজীবী। তার কন্ঠের আওয়াজ একটু অমসৃণ, একটু যেন রাফ (rough), কিন্তু চলমান, এই গলা ও গায়কীর অধিকারিনী এক্ষুনি বাসে বা অটোরিক্সায় উঠবেন,  কোনো দামী গাড়িতে নয়। – তথ্য সংগ্রহে মীর শাহ্‌নেওয়াজ…
মূল গান –
১) এ তুমি সেই তুমি –
শিল্পীঃ বাণী ঘোষাল
সুরকারঃ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়
গীতিকারঃ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়
অনুপ্রাণিত গান –
২) “এ তুমি কেমন তুমি”
শিল্পীঃ রূপঙ্কর বাগচী
সুরকারঃ কবীর সুমন
গীতিকারঃ কবীর সুমন
ছবিঃ জাতিস্মর (২০১৪)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: