গান কি দেখার, নাকি শোনার ?…

স্বীকার করছি প্রজন্মের স্বাদ আর প্রযুক্তির উন্নয়ন মানুষকে এখন ভিন্নরুচির আহবানে অন্যভুবনের হাতছানিতে সাড়া দিচ্ছে।

সেই আদিযুগ, প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ, বর্তমান আধুনিক যুগ ছাড়িয়ে আমরা কোথায় যাচ্ছি ?

সঙ্গীততো সেই আদি যুগের সঙ্গী ;
এই আধুনিক যুগে কি সঙ্গীতের প্রয়োজন নেই?

“একটি গান, একজন মানুষের সারাজীবন এর সঙ্গী হতে পারে।”
কথাটা এবং বিষয়টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

গান কিভাবে মানুষের সঙ্গী? এটা এ যুগের গানদেখা মানুষদের একাধিক প্রশ্ন ?

যারা গান শোনে, কেন গান শোনে?
– গানে আছে জীবনের কথা, মায়ের কথা, বাবার কথা, দেশের কথা, সৃষ্টির কথা, ভালোবাসার কথা। মানুষ একটি গানে নিজের জীবনের প্রতিচ্ছবি দেখতে পায়। বাউল ফকির শ্রদ্ধেয় লালন সাইজীর গান শুনেছি, জীবন দর্শনীয় গান, আধ্যাত্মিক গান, শ্রদ্ধেয় আব্বাসউদ্দিন, আব্দুল আলীম, বিজয় সরকার, হাসন রাজা, কবি কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জসীম উদ্দিন, রাধারমণ, আব্দুল করিম সহ এই যুগেও অসংখ্য গুণী শিল্পী, সুরকার, গীতিকবি আমাদের অনেক গান উপহার দিয়েছেন যে গানে আমরা আমাদের খুঁজে পাই।

একজন গীতিকার তার দীর্ঘ সাধনা,মমতা, ভালবাসা দিয়ে একটি গান লিখে, একজন সুরকার তার হৃদয়ের সবটুকু দরদ দিয়ে গানটির সুর করেন, শিল্পী তার মধুর কন্ঠে গানটি শ্রোতাদের কানে পৌছায়। এর পিছনে অসংখ্য যন্ত্রশিল্পীদেরও অবদান আছে।

কিন্তু একটি মিউজিক ভিডিও সব অবদানকে বাকরুদ্ধ করে দেয়।

সময়ের সাথে, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমরা অবশ্যই চলবো, তাই বলে সব ধুলোয় মিশিয়ে নয়।
সব গান দেখার জন্য সৃষ্টি নয়, দেখার গান গুলোর চরিত্র, বিষয় আলাদা হবে। আর শোনার মতো গানের যদি ভিডিও নির্মাণ হয় তার মৌলিক গল্প গানের কথার সাথে মিল রেখে হতে হবে। তাহলে গানটির গীতিকার, সুরকার এবং শিল্পীর আত্মতৃপ্ত হবে।

গানের কথায় আমরা আবারো যেন মা-মাটি, এবং আমাদের অস্তিত্ব খুঁজে পাই। এই প্রত্যাশা আমাদের প্রাণের।

সৃষ্টিশীল এবং চিরসবুজ গানের স্রষ্টারা এখনো জীবিত।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গুলির প্রতি আমাদের আবেদন বাংলা সঙ্গীতকে বাঁচাতে বাংলা সঙ্গীতের কিংবদন্তীতের ফিরিয়ে আনুন।
সঙ্গীত প্রতিদ্বন্দ্বীহীন রাজ্য, এই রাজ্যে কোন সংশয় নেই। একটা গানের বানীর টান অন্তরের সাথে। অন্তর দেখার জিনিস নয়।

এখনো আমাদের মাঝে জীবিত আছে সেই চিরসবুজ কালজয়ী গানের স্রষ্টা শ্রদ্ধেয় আলম খান, আলাউদ্দিন আলী, শেখ সাদি খান, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, মনিরুজ্জামান মনির, মিল্টন খন্দকার সহ আরো অনেকে।
উনাদের ফিরিয়ে আনতে হবে, আবারো সেই গান সৃষ্টি হবে, চোখ বন্ধ করলেই যে গানে আমাদের জীবন খুঁজে পাবো।
সত্যি বলছি, হৃদয় থেকে বলছি, আবারো বলছি, একটি গান হতে পারে সারাজীবন এর সঙ্গী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: