Press "Enter" to skip to content

মিষ্টি সুরের কন্ঠশিল্পী সুমনা হক এর আজ জন্মদিন…

আমাদের সঙ্গীত আমাদের প্রাণ। আমাদের ঐতিহ্য আমাদের মান। জীবনের যত আনন্দ বেদনা আমরা ভাগ করে নেই সঙ্গীতের সুর ও কথার মাঝে। মনকে আনন্দ দেই। সঙ্গীতের অতীত ও বর্তমান কিছু পরিবর্তন আর জন্মদিনের কথা নিয়ে আড্ডা হয় বাংলাদেশের জিঙ্গেল কুইন ও চিত্রকর সুমনা হকের সাথে। এই শিল্পীর জন্ম ঢাকায় কিন্তু পৈতৃক নিবাস হলো নোয়াখালীর চৌমুহনীতে। পিতার নাম মরহুম আনোয়ারুল হক। পেশায় ছিলেন ইপিআইডিসির সাবেক অর্থ পরিচালক। মা প্রখ্যাত কবি খালেদা এদিব চৌধুরী। জেনে নেই তার জীবনের অতীত ও বর্তমান অবস্থা।

জন্মদিনের বিষেশ কোন আয়োজন আছে কিনা জানতে চাইলে এ শিল্পী বলেন, নাহ আমি এখন জন্মদিন নিয়ে কোন অনুষ্ঠান করিনা। তবে আগে করতাম। পাচঁ ছয় বছর আগে জন্মদিনে অনুষ্ঠান করতাম। যখন অনেক আনন্দ হতো। বাড়িতে গান-বাজনা করতাম। ছবি আকঁতাম। বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে খাওয়া দাওয়া করতাম। খুব ভালো লাগতো। এখনও মনে হয় পহেলা আগষ্ট আমার জন্মদিন ঐ দিনটা যেন আমার দিন। এই ভেবে আমার অনেক ভালো লাগে। জন্মদিনের উপহার সম্পর্কে বলেন যে উপহার নিতে সবারই ভালো লাগে তেমনি আমারও খুব ভালো লাগে। সব ধরনের উপহার আমাকে আনন্দ দেয়। সবচেয়ে বড় কথা হলো আমাকে যে মানুষ ভালোবাসে মনে রাখে এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া। এস,এম এসের মাধ্যমে আমাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানায় আমার খুব ভালো লাগে।

জন্মদিনের কোন মজার স্মৃতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার জীবনের সবচেয়ে বেশি মজার ঘটনা আপনাদের সাথে আমার দর্শকের সাথে শেয়ার করতে চাই সেটা হলো সাত আট বছর আগে একবার অ্যামেরিকাতে আমার জন্মদিন পরে। আমার এক বন্ধুর বাসায় আমি। সেদিন জন্মদিনের ব্যাপারে আমি কিছু বললাম না। ওরাও আমাকে সারা দিন কিছু বলেনি। আমি মনে করেছি তারা ভুলে গেছে। হঠাৎ রাত ১২টার সময় তাদের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা আমাকে “হেপি বার্থ ডে টু ইউ” জানালো আমি এতে বড় একটা সারপ্রাইজ পেলাম ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। ঐ দিনটার কথা আমার এখনো মনে পড়ে।

আপনাকে তো বাংলাদেশের জিঙ্গেল কুইন বলা হয় এ বিষয়ে কি কিছু বলবেন? তিনি বলেন আমি এ পর্যন্ত ২০০০ হাজারের বেশী জিঙ্গেল করেছি যেমন বউ রানী প্রিন্ট শাড়ি, পাকিজা শাড়ী, শ্যাম্পু, জামকেছ, জনী প্রিন্ট শাড়ি, সাবান সহ আরো অনেক জিঙ্গেল করেছি। তার পর ম্যানোলা মানের টলমল শিশিরের লাবণ্য। অলিম্পিক ব্যাটারী, সুন্দরী প্রিন্ট শাড়ি ওলে ওলে পাপ্পা ইত্যাদি।

১৯৮৮ সালে সারগামের ব্যানারে সুমনা হকের একক এ্যালবাম “মায়াবী রাতে” বাজারে আসে। প্রথম এ্যালবাম প্রকাশের পর এক যুগ পরে দ্বিতীয় এ্যালবাম “মাঝে কিছু বছর গেল” তৃতীয় একক রবীন্দ্র সঙ্গীত এ্যালবাম “তুমি রবে নিরবে” এর আগে ১৯৮৪-৮৫ সালে সুমনা হক একজন নিয়মিত শিল্পী হিসেবে বাংলাদেশ ও বেতারে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৮৬ সালে ফোয়াদ নাসের বাবুর সঙ্গীতায়জনে “পেপস জেল” এর জিঙ্গেল করার মধ্যে দিয়ে একচ্ছত্র আধিটত্য শুরু করেন। টানা ১০-১২ বছর শুধু জিঙ্গেল করেন। এখন বর্তমানে চিত্রাঙ্কন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।

তাকে আমাদের সঙ্গীত জগৎ সম্পর্কে কিছু বলার অনুরোধ করলে তিনি বলেন আমার সবচেয়ে বড় কথা হলো আমার আপনার সবার দেশ বাংলাদেশ। মাটি আর মানুষের মাঝেই আমাদের অস্তিত্ব। আর সে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে আমাদের পল্লীগানকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আমরা যাতে আমাদের ঐতিহ্যকে ভুলে না যাই। আমার সবচেয়ে বড় ভয় হয় আধুনিক গান গুলোকে যে ভাবে ফিউশনের মাধ্যেমে নতুন ধাচে করা হচ্ছে। সেটা যাতে পল্লীগানে বা পল্লীগীতিতে না করা হয়। আমরা মাত্র গুটি কয়েক লোক শহরে থাকি বাকি সব কিন্তু গ্রামে বসবাস করে। তাদের মা ও মাটির গান গুলো যেন আজীবন এভাবে থেকে যায়। পল্লীকে বাচাঁই পল্লীগানকে বাচাঁই। আমাদের শিকড় কিন্তু পল্লী। এটা আমাদের মনে রাখা উচিৎ। তার মুখে পল্লীর জন্য এতো মায়া দরদ দেখে মনটা নিজের অজান্তেই গ্রামের জন্য কেদেঁ ওঠলো। মনে হলো মা ও মাটির কথা। আমরা এ শিল্পীর সু-স্বাস্থ্য কামনা করি। জন্মদিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না…

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: