আজ খুরশিদ আলম এর শুভ জন্মদিন…

জীবন চলার পথ যেমনি শুরু হয় তেমনি শেষও হয়ে যায়। তবে কিছু কিছু মানুষ তার চলার পথে রেখে যায় অমরত্ব কিছু অবদান যার মাধ্যেমে পৃথিবী থেকে চলে গেলেও থেকে যায় তার কথা তার কর্ম, ও সাধনার ফসল। তেমনি একজন ব্যাক্তি যার কন্ঠের যাদুতে মানুষের মন কেড়েছে। স্নিগ্ধ কমল সুরের বাতাসে ভাষিয়ে নিয়েছে মানুষের হৃদয়কে। সে হলো আমাদের কালজয়ী গানের গায়ক প্রখ্যাত শিল্পী মোঃ খুরশিদ আলম।

নিজের দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত সোয়া চারশ’রও বেশি গান গেয়েছেন খুরশিদ আলম। এসবের মধ্য থেকে চলচ্চিত্রের অনেক গানই এখনও মানুষের মুখে মুখে। কালজয়ী এসব গানের মাধ্যমে খুরশিদ আলমও শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী একটি আসন গড়েছেন বহু আগেই। চলচ্চিত্রের গানের ক্ষেত্রে এ শিল্পীর অবদান অনেক। মাগো মা, মিসলংকা, চুমকি চলেছে একা পথে, ওই প্রেমের দরজা খুলো না, নাচ আমার ময়না, তোমার নামে শপথ নিলাম, শোনো ভাইয়েরা কথা শোনো, ওই আমি বাঘ শিকার যামু, ও সাগর কন্যারে, পাখীর বাসার মতো চোখ দুটি তোমার, ও দুটি নয়নে স্বপনও চয়নে, ও চোখে চোখ পড়েছে যখনই, ধীরে ধীরে চল ঘোড়া, মুন্না আমার লক্ষ্মী সোনা আমার নয়নমণি, লেখাপড়া জানতাম যদি, এ আকাশকে সাক্ষী রেখে’সহ তার গাওয়া অনেক গানই কালজয়ী রূপ পেয়েছে। এতটা পথ পাড়ি দেয়ার পরও এতটুকু ক্লান্ত নন খুরশিদ আলম। ক্লান্তিহীনভাবেই নিজের মতো করে প্রতিদিন গানের মধ্যে দিয়ে কাটছে তার সময়। নতুন গান কম গাইলেও স্টেজে মাঝেমধ্যেই দেখা মেলে এ কিংবদন্তি সংগীতশিল্পীর। তবে সংখ্যার দিক দিয়ে অনেক কম অনুষ্ঠানেই গাইছেন তিনি। সব মিলিয়ে কেমন আছেন খুরশিদ আলম –
জানতে চাইলে বলেন, খুব ভালো আছি। সব কিছুর জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ। পরিবার ও গান এই দুই নিয়েই এখন আমার সময় কাটে। আগের মতো ব্যস্ত থাকছি না। তবে বাড়িতে থাকলেও গানের খোঁজখবর রাখার চেষ্টাটা করি।

১৯৪৬ সালে পহেলা আগষ্টে পুড়ান ঢাকায় তার জন্ম। আজ তার শুভ জন্মদিন। সেই উপলক্ষ্যে কথা হয় সঙ্গীতাঙ্গনের। জন্মদিনের কোন আয়োজন আছে কিনা সে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত বছর আরটিভিতে করেছিল, এবছর ছেলেমেয়েদের বলেছি বাবা এসবের কোন দরকার নেই। এবছর আর তেমন কোন কিছু হবে না। আমাদের বয়স হয়ে গেছে এখন কি আর সেই বয়স আছে সেসব করার হাসতে হাসতে বলেন তিনি।

জানতে চাইলাম অতীতের কোন জন্মদিনের বিষয়ে তিনি বলেন ছোট বেলা করেছি বাবা মাও করতো। স্কুল কলেজে যখন পড়তাম তখন বন্ধু-বান্ধবদের সাথে করতাম তারপর বিয়ে সাদী করলাম আস্তে আস্তে বাদ দিয়ে দিলাম। তবে আগের ছবি গুলো দেখে এখনো মনে করি সেই কথা আমার জন্মদিনে বিভিন্ন শিল্পীদের দাওয়াত দিতাম। তারা আসতো আনন্দ হতো। রফিকুল আলম, আবিদা সুলতানা, সাদেক আলী আহাদ খান তাদের নিয়ে জন্মদিন করেছি। এখন একটি নীতি চলি। আজ সোমবার রবিবারের কথা গুলো ভুলে যাই। আবার কাল সোমবারের কথাও ভুলে যাবো। এগুলো মনে রাখিনা। অতীত নিয়ে ভাবতে ভালো লাগেনা। তা নিয়ে চিন্তা করার সময় নেই।

তার গত ঈদের কাজের কথা জানতে চাইলে বলেন যে, গত ঈদে দুটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলাম। একটি বিটিভিতে তা হচ্ছে গাজীপুরের বৃদ্ধাশ্রমের বৃদ্ধাদের নিয়ে। সেখানে রোজিনা জাবেদ আর আমি যাই। আর একটি করেছি এনটিভিতে। সুনামধন্য শিল্পীর কাছে সঙ্গীতের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, আগে দশ জন মিলে কাজ করতো আর চিন্তা করতো ভালো কিছু করার জন্য। কিন্তু এখন সবাই একা একা কাজ করতে পছন্দ করে। গান করে গাড়ি বললো না বাড়ি বললো কেউ কারেকশন করার নাই। সুর ঠিক থাকলে কথার ঠিক নাই। আবার কথা ঠিক থাকলে সুর ঠিক নাই সমর দা, আনোয়ার পারভেজ, আহাদ খানের মত লোক এখন আর নাই। নতুন এখন যারা আসছে তাদেরও মেধা আছে। তারাও ভালো কিছু করার ইচ্ছা করে। করতে চায়। তারাও অনেক অভিজ্ঞ ছেলেমেয়ে। তারা চেষ্টা করলে ভালো কিছু করতে পারবে বিশ্বাস করি।

তার নিজের বর্তমান নিয়ে বলেন এখন আছি সেরাকন্ঠ একটা প্রোগাম নিয়ে। যেখানে লালনের গান বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে যেখানে ভাওইয়া চলে যাচ্ছে সেখানে কাজ করছি। এখন সব কিছু উল্টা-পাল্টা হয়ে গেছে। ওস্তাদ ধরে গান শেখাটা এখন আর নাই। ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড দিয়ে ইউটিউবের মাধ্যেমে সব করে এখন। সুর ঠিক নাই তাল ঠিক নাই এ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

সঙ্গীতাঙ্গনের উদ্দেশ্য বলেন সঙ্গীতাঙ্গনের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি দোয়া করি সঙ্গীতাঙ্গন তার গতিতে সামনে এগিয়ে যাক। সুন্দর সাফল্য কামনা করি।
আমরাও সঙ্গীতাঙ্গনের পক্ষথেকে গুনী শিল্পীর জন্য দোয়া করি সুস্থ্য সুন্দর হক জীবনের প্রতিটা সময়। শুভ দিনে শুভ জন্মদিনের শুভেচ্ছা। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *