আসছে ওয়েসিস ব্যান্ড…

ব্যান্ড পছন্দ করে এমন সমস্ত সঙ্গীত সমর্থকরা জানেন যে কমপক্ষে কয়েকটি ব্রেক আপ এবং ব্যান্ড পরিবর্তন ছাড়া ব্যান্ড তার পুরো ক্যারিয়ার অর্জন করতে প্রায় অসম্ভব যেখানে পরিচিত এবং অর্থ মূল। তাইতো বিশ্বের সব জনপ্রিয় ব্যান্ডগুলো বিভিন্ন সমস্যাকে সমাধান করেই তারা জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। ২৩শে আগষ্ট ২০০৯ সালে ব্যান্ড ‘ওয়াসিস’ বন্ধ হয়ে গেলে, পুনঃরায় ব্যান্ডের কার্যক্রম চালু হওয়া নিয়ে আলোচনা করছেন ব্যান্ডের সদস্যরা।

একটি ইংরেজি রক ব্যান্ড ওয়াসিস যা ১৯৯১ সালে ম্যানচেস্টারে গঠিত হয়। দলটিতে লিয়াম গালঘের (ভোকাল), বোনহেড (গিটারিষ্টি ), পল গিগসি (বেজ গিটার), এবং টনি মেককারল (ড্রামস) নিয়ে ব্যান্ডটির যাত্রা শুরু করে। পরে লিয়ামের বড় ভাই নয়েল গালঘের (গিটারিষ্ট এবংভোকাল) পঞ্চম সদস্য হিসাবে যোগদান করেন, ১৯৯৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ছিল এই ব্যান্ডটির স্থায়ী লাইন আপ।

ওয়াসিস ১৯৯৩ সালে স্বাধীন রেকর্ড লেবেল ক্রিয়েশন রেকর্ডসে স্বাক্ষর করেন এবং তাদের প্রথম এ্যালবাম ‘ডেফিনিটলি মেইবি’ (১৯৯৪) প্রকাশ করেন। এবং পরের বছর প্রকাশ করেন ‘দ্যা মর্নিং গ্লোরী’ (১৯৯৫)৷ এরপর লিয়াম গালঘারের বড় ভাইয়ের সাথে ব্যাপক বিতর্ক হয় যার কারণে তাদের বিতর্ক এবং বন্য জীবনধারার জন্য বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রায় লিখালিখি হতো৷

১৯৯৭ সালে ওয়েসিস তাদের তৃতীয় এ্যালবাম ‘বি হেয়ার নাউ’ মুক্তি পায়। যদিও এটি ‘লন্ডনের চার্ট’ ইতিহাসের দ্রুততম বিক্রিত এ্যালবাম ছিল, 8 মিলিয়ন কপি বিক্রি করে। ম্যাকগুইগান এবং আরথারস ১৯৯৯ সালে ওয়েসিস থেকে কিছুদিন বিরতি নেন। যার ফলে ওয়াসিসের ব্যাপক সমস্যার সম্মুক্ষিন হতে হয়। এবং অনেকে ব্যান্ড ত্যাগ করেন।

তাদের পঞ্চম স্টুডিও এ্যালবাম ‘হিথেন কেমেস্ট্রি’ ২০০২ সালে মুক্তি পায়। মে ২০০৮ এ ব্যান্ডের সপ্তম এ্যালবাম ‘ডিগ আউট ইউর সোল’ বের হয় ৷ এর রেকর্ডিং এরপর পরেই ব্যান্ডটি বড় সমস্যার সম্মুক্ষিন হয়। এবং অনেকেই ব্যান্ডটি ত্যাগ করেন। ব্যান্ড, ওয়েসিসের অবশিষ্ট সদস্য এবং লিয়াম গালঘেরের নেতৃত্বে ‘বিডি আই’ নামে আরেকটি ব্যান্ডে একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

যদিও ভক্তেরা মনে করেন যে ওয়েসিসের সদস্যদের মধ্যে বিষয়গুলি কখনই ভাল হবে না, তবে লিয়াম গালঘেরের একটি সাম্প্রতিক বক্তব্যে নতুনভাবে আসার আলো ছড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে, লিয়াম তার ভাইয়ের সাথে তার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন এবং দলের ভবিষ্যতের কথাও বলেন। লিয়াম বলেন, ওয়াসিসে একসঙ্গে ফিরে আসার আগে আমাকে এবং তাকে আবার ভাই এবং বন্ধু হতে শুরু করতে হবে, তাহলে আমরা আবার নতুনভাবে সঙ্গীত তৈরি করতে শুরু করতে পারবো।

ওয়াসিস ব্যান্ডটি তাদের ক্যারিয়ার নতুন করে শুরু হতে না পারলেও তাদের ব্যাপক জনপ্রিয়তা আছে এবং এরই মধ্যে তাঁরা প্রচুর পুরুস্কার লাভ করে। তাদের ১৭টি ‘এনএমই’ পুরস্কার, ৯টি কিউ পুরস্কার, পাঁচটি এমটিভি সঙ্গীত পুরস্কার এবং ছয়টি ‘ব্রিট অ্যাওয়ার্ডস’ জিতেছে, যার মধ্যে ২০০৭ সালে সংগৃহীত তাদের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার এবং তারা তিনটি গ্র্যামি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে। ২০০৯ সালের হিসাবে ওয়েসিস বিশ্বব্যাপী ৭০ মিলিয়ন কপি বিক্রি করেছে। – নোমান ওয়াহিদ…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *