বেঙ্গল ফাউন্ডেশনে রবীন্দ্রসঙ্গীতের এ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন…

বেঙ্গল ফাউন্ডেশন নিবেদিত রবীন্দ্রনাথের গান ‘দেখো রে চিত্তকমলে’ এ্যালবামের প্রকাশনা উৎসবের আয়োজন করা হয়। পহেলা আগষ্ট সন্ধ্যায় ছায়ানট মিলনায়তনে সেমন্তী মঞ্জরীর কন্ঠে গাওয়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের সংকলনে প্রকাশিত এ্যালবাম ‘দেখো রে চিত্তকমলে’ শিরোনামের সিডির মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মোড়ক উন্মোচন করেন বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ, শিক্ষক ও গবেষক ড. সনজিদা খাতুন। অন্যান্য অতিথী হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী মিতা হক। মোড়ক উন্মোচন পর্ব সমাপ্ত হলে শিল্পী সেমন্তী মঞ্জরী, পর পর পূজা পর্বের কিছু দাগ কেটে যাওয়া গান করেন। তার মধ্যে ‘জগতে আনন্দযজ্ঞে আমার নিমন্ত্রণ’ ও ‘আমি তারেই খুঁজে বেড়াই’। খুব মধুময় আবেশে গান দুটি পরিবেশন করেন তিনি। শিল্পীর গাওয়া আরো একটি গান ‘তরী আমার হঠাৎ ডুবে যায়’। এ গানটি ছিল একটু বিচিত্র ধাঁচের। এরপর প্রেম বিরাগী একটি গান করেন যার শিরোনাম ছিল ‘বাহির পথে বিবাগী হিয়া’। শিল্পী সেমন্তীর গাওয়া পরের গানগুলি ছিল রবীন্দ্রনাথের প্রকৃতি পর্যায়ের বর্ষার গান ‘ওরে ঝড় নেমে আয়’, ‘ওই আসে ওই অতি ভৈরব হরষে’, রবীন্দ্রনাথের প্রেম পর্যায়ের বর্ষা আবহের গান ‘সখী, আঁধারে একেলা ঘরে’, ‘এই শ্রাবণের বুকের ভিতর আগুন আছে’, ‘শ্যামল ছায়া নাইবা গেলে’ এবং ‘যায় দিন, শ্রাবণদিন যায়’ গানগুলো।

শিল্পীর সঙ্গে যন্ত্র সঙ্গীতে ছিলেন তবলায় এনামুল হক ওমর, এসরাজে অসিত বিশ্বাস, কী-বোর্ডে রবীনস্।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিল বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। এ সময়ের জনপ্রিয় রবীন্দ্র শিল্পী সেমন্তী মঞ্জরী বয়সে নবীন হলেও এই প্রজন্মের জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী। তার বাবা সোহরাব উদ্দীন ও মা নাসিমা খান দুজনই সংগীতশিল্পী। জানা যায় ৪ বছর বয়সে সংগীতের হাতে খড়ি বাবার কাছে। বরেণ্য রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী মিতা হকও তারই পরিবারের সদস্য এবং ছোটবেলা থেকেই তাঁর কাছে শেখার সুযোগ হয় সেমন্তীর। ছায়ানট সংগীতবিদ্যায়তনে সাফল্যের সাথে রবীন্দ্রসংগীতের কোর্স সমাপ্ত করেন। ছায়ানটে শিক্ষার্থী অবস্থায় বিখ্যাত গুণীজনদের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ ঘটেছে তার, এর মধ্যে ওয়াহিদুল হক এবং সন্জীদা খাতুন অন্যতম। আঠারো বছর বয়সে সেমন্তী জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের প্রতিযোগীতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। তিনি বিভিন্ন মঞ্চ ও টেলিভিশনে গান পরিবেশনের সুযোগ পেয়েছেন। সেমন্তী গত পাঁচ বছর ধরে ছায়ানটে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। এ্যালবামটিতে যন্ত্রানুষঙ্গ পরিচালনা করেছেন: প্রত্যুষ বন্দ্যোপাধ্যায়।

‘দেখো রে চিত্তকমলে’ এ্যালবামে যে গান গুলো স্থান পেল তা হলো,
১. আমি যখন তাঁর দুয়ারে।
২. বাহির পথে বিবাগী হিয়া।
৩. আমি তারেই খুঁজে বেড়াই।
৪. লুকিয়ে আস আঁধার রাতে।
৫. বিমল আনন্দে জাগো রে।
৬. দুঃখ যদি না পাবে তো।
৭. কার মিলন চাও বিরহী।
৮. আপনারে দিয়ে রচিলি রে।

– মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *