একই সুরে গাঁথা, ‘খাম্বাজ’ রাগের জাদু – মীর শাহ্‌নেওয়াজ…

Marching in UNISON, the MAGIC of raga KHAMAJ –

আজ শুনবো ‘খাম্বাজ’ রাগ নির্ভর সৃষ্ট গান বা যন্ত্রসঙ্গীত।
গান শোনার সত্যিকারের মজাটা যদি পেতে চান, তাহলে ক্লাসিক্যাল (শাস্ত্রীয়) সঙ্গীত তৈরীর মূল ভিত্তি যে রাগ, এই প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে শুধু ‘খাম্বাজ’ রাগ অনুসরণে সৃষ্ট ক্রমিক নম্বর ১ থেকে ১২ পর্যন্ত গান বা যন্ত্রসঙ্গীতগুলো আপনাকে ক্রমানুসারে শুনতে হবে। আশা করি আপনি গান শোনার সেই সুখানুভুতিটি অবশ্যই পাবেন। গানগুলো শোনার সময় মান্না দে’র গাওয়া, “ললিতা গো, ওকে আজ চলে যেতে বলনা” গানের সুরটি মাথায় রাখুন।

গান শুনতে প্রতিটি গানের সাথে দেয়া ওয়েবসাইট লিঙ্কে ক্লিক করুন।

রাগ সংশ্লিষ্ট ভিডিও ক্লিপ সমুহঃ

১. ঠুমরী
Sachi kaho mose batiyan / Gauri Pathare
০২:০৯ থেকে শুনুন

২. নিধু বাবু’র টপ্পা
কমলিনী কেন অভিমান / রামকুমার চট্টোপাধ্যায়

৩. ঠুমরী
Babul Jiya Mora Ghabraaye / Kaushiki Chakrabarty
০৪:২৩ থেকে শুনুন

৪. ভজন
Vaishnava Jana To / Aditi Paul
০০:৪৪ থেকে শুনুন

৫. ঠুমরী
Kaun gali gaye shyam / Sulakshana Pandit

৬. হিন্দি ছায়াছবির গান
Aayo Kaha Se Ghanshyam / Manna Dey / Film: ‘Buddha Mil gaya’

৭. গজল
Mohabbat Karne Wale Kam Na Honge / Mehdi Hassan

৮. নজরুল সঙ্গীত
উচাটন মন ঘরে রয়না / মোহাম্মদ রফি

৯. বাংলা আধুনিক
ললিতা গো, ওকে আজ চলে যেতে বলনা / মান্না দে

১০. ঠুমরী
Mora Saiyaan Mose Bole Na /Sandeep Batraa
০০ঃ৪০ থেকে শুনুন

১১. বাংলা আধুনিক
না যেওনা রজনী এখনো বাকী / লতা মঙ্গেশকর

১২. যন্ত্র সঙ্গীতে (সেতার, সন্তুর এবং বাঁশী) হিন্দি ছায়াছবির গান
Bada Natkhat Hai krishna kanhaiya / Film: Amar Prem(1972)

ভুমিকাঃ

একই রাগের উপরে সৃষ্ট গানসমূহ সবসময় একসঙ্গে একই সুরের চলনে চলে, বলা যায় সৈনিকদের এক তালে মার্চ করে যাওয়ার মত করে চলে। কোন সঙ্গীত পরিচালক একটি নির্দিষ্ট রাগের উপর ভিত্তি করে যখনই একটি গান রচনা করেন তখন তিনি নিশ্চিত হয়ে নেন যে, তিনি সেই রাগের বন্দিশ ব্যবহার করছেন। বন্দিশ, সঙ্গীতের এমন একটি উপাদান যা একটি নির্দিষ্ট রাগের উপর ভিত্তি করে সুর সৃষ্টিতে প্রভাব বিস্তার করে।

একই রাগের উপর ভিত্তি করে সৃষ্ট দুটি গান শুনতে প্রায় একই রকম লাগে। মনে হয় গান দুটি সবসময় একই সুরকে অনুসরণ করছে, বুঝিবা একই সুরে গাঁথা। একটি রাগের উপর ভিত্তি করে সৃষ্ট কোন কণ্ঠশিল্পীর একটি গান রেডিও বা সিডি প্লেয়ারে শোনার সময়, রাগটি চিহ্নিত বা সনাক্ত করতে গানটি প্লেয়ার থেকে অন্তত ৩০ থেকে ৫০ ফুট দূরে থেকে শুনতে হবে। আমার অভিজ্ঞতা বলে, কাছাকাছি থেকে না শুনে বরং দূর থেকে শুনে গানের রাগটিকে সনাক্ত করা সহজ হয়ে পড়ে। এর কারণ, আপনি গানের উৎস থেকে যতই দূরে সরে যাবেন, ততই গানের কথা অস্পষ্ট হয়ে পরবে এমনকি এক পর্যায়ে গানের কথা একেবারেই শুনতে পাবেন না, শুধুমাত্র গানের সুরে আধিপত্য বিস্তারকারী নোট বা বন্দিশীটি শুনতে পাবেন।

একবার আপনি বন্দিশীটি শুনলে সহজেই প্রতিটি গানের মূল ভিত্তি, সংশ্লিষ্ট রাগটিকে চিহ্নিত বা সনাক্ত করতে পারবেন। অবশ্যই এই কৌশল ব্যবহার করে রাগটি সনাক্ত করার চেষ্টা করার আগে রাগগুলির উপর আপনার কিছু মাত্রায় প্রাথমিক জ্ঞান থাকতে হবে। এইভাবে সঙ্গীতের ভেতরের লুকানো স্বাদ পরিপূর্ণভাবে আমরা গ্রহণ করতে পারি যদি এই প্রতিবেদনের ভিডিও ক্লিপগুলির গান বা যন্ত্রসঙ্গীত গুলো আমরা গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনি।

রাগের গঠনঃ

‘খাম্বাজ’ রাগ খাম্বাজ ঠাট থেকে সৃষ্টি হয়েছে। হযরত আমীর খসরু পারসিক রাগের সাথে সংমিশ্রণ ঘটিয়ে এই রাগটি সৃষ্টি করেছেন।
এটা উত্তর ভারতীয় ঐতিহ্যের একটি রাত্রিকালীন রাগ, বিশেষত আধা-শাস্ত্রীয় সঙ্গীত যেমন ঠুমরী, গজল, দাদরা, হরি-ধামার ইত্যাদি এই রাগটির উপর ভিত্তি করে কম্পোজ করা হয়। রাগটি শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে চলচ্চিত্র সংগীত পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়।

আরোহণ : স গ ম প ধ ন র্স
অবরোহণ : র্স ণ ধ প ম গ র স
ঠাট : খাম্বাজ
প্রহর: রাত্রির প্রথম প্রহর (সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ৯ টা)

শেষ কথাঃ

চলচ্চিত্রের গানের সুর রাগ-এর উপর ভিত্তি করে নয়; বরং রাগ-এর নোটের উপর ভিত্তি করে সৃষ্টি করা হয়। চলচ্চিত্রের গানে রাগের বিশুদ্ধ রূপটি রাখার প্রয়োজন পড়ে না এবং অধিকাংশ সময় গানের ভিতর বিশুদ্ধ রূপটি পাওয়াও যায় না। এছাড়াও, গানের প্রথম অংশ (যেটাকে বলা হয় স্থায়ী অংশ) এক রাগের নোটে সৃষ্টি করা হতে পারে কিন্তু পরবর্তী অংশে (অন্তরা, সঞ্চারী এবং আভোগ) হয়তো অন্য আরেকটি রাগের নোট ব্যবহার করতে দেখা যেতে পারে বা আদৌ কোনও রাগ ব্যবহার করা হবে না। অনেক সংগীত পরিচালক রাগ-এর গঠন পুরোপুরি এড়িয়ে গিয়েও একটি গানেই বিভিন্ন রাগ-এর নোট ব্যবহার করে শ্রুতিমধুর একাধিক জনপ্রিয় গান আমাদের উপহার দিয়ে যাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *