আইজিসিসি সন্ধ্যায় ‘বর্ষার গানে রবীন্দ্রনাথ’…

গত ৫ই আগষ্ট ২০১৭ শনিবার বাংলাদেশ জাতীয় যাদুঘর শাহাবাগ ঢাকা, কবি সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে আইজিসিসি-র সন্ধ্যায় ‘বর্ষার গানে রবীন্দ্রনাথ’ আয়োজন করা হয়৷ আয়োজনে সোয়াতি সরকার, অভীক দেব, এবং সুমাইয়া ইমাম রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে তবলায় ছিলেন বিমল হাওলাদার, কীবোর্ড সুনিল সরকার, বাঁশি গাজী আব্দুল হাকিম ও অক্টোপ্যাডে ছিলেন প্রডিপ কর্মকার। অনুষ্ঠানে ‘এসো শ্যামলো সুন্দরো, বাদলো দিনের প্রথমো, এ পথে আমি যে, আজি ঝড় ঝড় মুখরত, নিশীত রাতের বাদলধারা, নীল অঙ্গনো, শাওনো গগনে, মেঘের পরে মেঘ, মন মোর মেঘের সঙ্গী, আজি ঝড়ের রাতে সহ আরও বাদলের জনপ্রিয় রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পীরা।

শিল্পী সোয়াতি সরকার, ময়মনসিংহে ডা:নূরুল আনোয়ার ও ফাহমিদা খাতুন এর কাছ থেকে সঙ্গীতের প্রাথমিক প্রশিক্ষন গ্রহন করেন। পরে তিনি রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী ‘রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা’ কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহন করেন। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে অনুষ্ঠান করছেন। তিনি ২০১২ সালে ‘রেখেছি কনক মন্দিরে’ নামে একটি এ্যালবাম প্রকাশ করেছেন। এবং বর্তমানে তিনি রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার বিখ্যাত সঙ্গীত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসাবে কাজ করছেন৷

শিল্পী অভীক দেব, রাজবিহারী চক্রবর্তী এবং রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার কাছ থেকে সঙ্গীতের প্রশিক্ষন গ্রহন করেন। তিনি ২০০৯ সালে বাংলাদেশ রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মেলন পরিষদ এর প্রতিযোগিতায় ‘প্রথম হয়ে পুরুস্কার গ্রহন করেন। এবং তিনি ২০১১ সালে চ্যানেল আই কর্তৃক পরিচালিত রবিন্দ্র সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান দখল করেন। তিনি প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের বিভিন্ন টিভি ও রেডিওতে পারফরমেন্স করে যাচ্ছেন। তার ‘সামনে মিলন স্বর্গ’ ও ‘এ বানী প্রেয়সী’ নামে দুটি এ্যালবাম প্রকাশ হয়েছে।

শিল্পী সুমাইয়া ইমাম, শৈশব কাল থেকেই রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার কাছ থেকে রবীন্দ্র সঙ্গীতের উপর শিক্ষা লাভ করেন। তিনি রবীন্দ্র সঙ্গীতের উপর ‘সুরের ধারা’ থেকে পাঁচ বছর সার্টিফিকেট কোর্স সম্পুর্নরুপে শেষ করেন। এবং ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সঙ্গীত শিক্ষক হিসাবে কাজ করেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বাংলাদেশ বেতার এর একজন তালিকাভুক্ত শিল্পী। তিনি ভারতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। বর্তমানে তিনি সানিডেল স্কুলে শিক্ষক হিসাবে কাজ করছেন।

ভারতীয় সংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ‘ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ (আই জি সি সি) ১১ই মার্চ ২০১০ সালে ঢাকায় ডা: কারান সিং এবং আবুল কালাম আজাদ আনুষ্ঠানিক ভাবে শুভ উদ্ভোদন করেন। ঢাকার গুলশান এবং ধানমন্ডীতে দুটি কেন্দ্র করে খোলা হয় আই জি সি সি। একটি প্রদর্শনী গ্যালারী, একটি নাচ স্টুডিও, সঙ্গীত কক্ষ এবং একটি যোগশাস্ত্র রুম সহ একটি বহুমুখী হল রয়েছে। ভারতীয় শিল্প, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি এবং কথাসাহিত্যের ক্ষেত্রগুলিতে ২১ হাজারেরও বেশি বইয়ের একটি গ্রন্থাগার রয়েছে। হিন্দি ভোকালের ক্লাসিক্যাল মিউজিক এবং যোগশাস্ত্রের জন্য ঢাকা থেকে দুজন শিক্ষক নিয়োগ করেছেন। তারা প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য ব্যাপক পরিশ্রম ও সাধনা করে যাচ্ছেন। তাদের পরিশ্রম ও সাধনার জন্য সঙ্গীতাঙ্গন এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিন্দন। – নোমান ওয়াহিদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: