Press "Enter" to skip to content

বর্ষার সন্ধ্যায় কামাল আহমেদ এর ‘শ্রাবণঘনগহন মোহে’…

‘আজি ঝর ঝর মুখরও বাদলদিনে
জানিনে, জানিনে কিছুতেই কেন মন লাগেনা।’
চিরন্তন সত্যবানী দিয়ে লেখা বর্ষার গান। রচনা করেছেন বর্ষা প্রেমিক কবি গুরু রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর। বর্ষার দিনে তার মন যেন ছুটে চলে অবিরাম গতীতে প্রেমের পরশপানে। তিনি বুঝাতে চান জীবন সার্থক হয় প্রেমে আর প্রেম সার্থক হয় ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে বর্ষার ঝুনুর ঝুনুর বৃষ্টির পানিতে ভিজতে পারলে। বর্ষা যেনো রবী ঠাকুরের অদেখা সুন্দরী ললনা। যাকে না দেখেই রচনা হয়ে যায় প্রেমের সাতকাহন। সেই আদিকাল থেকেই বৃষ্টির সাথে আমাদের প্রেম। বৃষ্টি আমাদের প্রথম প্রেমিক, প্রেমিকা। বাঙ্গালীর অনেক রোমান্টিক স্মৃতির সাক্ষী এই বর্ষা। বর্ষা নিয়ে কত গল্প, ছড়া, কবিতা, গান আছে তার কোন হিসেব নেই। নগর জীবনে ছুটে চলা ব্যস্ত মানুষরাও বর্ষার দিনে আকাশের দিকে তাকায়। তাকিয়ে একবারের জন্যে হলেও তার প্রিয় বর্ষার গানটি গুনগুন করে গেয়ে ওঠে। আর কে না জানে বর্ষা উদযাপনে প্রধান উপকরণ বর্ষার গান। তেমনি একজন প্রেমিক যে প্রেমে পরেছে প্রেমিক
পুরুষ রবী ঠাকুরের। আর তিনি হলেন সবার পরিচিত ও জনপ্রিয় রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী কামাল আহমেদ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মহাপ্রয়ান দিবসে গত রবিবার সন্ধায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর আয়োজন করেছেন শিল্পী কামাল আহমেদের একক সঙ্গীত সন্ধা “শ্রাবণঘনগহন মোহে”, সন্ধা ৭টায় বেগম সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় যা সবার জন্যই ছিল উন্মোক্ত।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একজন অসাধারণ বর্ষা প্রেমিক ছিলেন। তিনি ১০০টিরও বেশি বর্ষার গান লিখেছেন। তাই বাদল দিনের গানের তালিকা করতে গেলে সেখানে স্বাভাবিকভাবেই কবি গুরুর লেখা গান সংখ্যা গরিষ্ঠের আসন পেয়ে যায়। শিল্পী কামাল আহমেদ তার মনের সবটুকু মাধুরি আর ভালোবাসায় গেয়েছেন সেই প্রেমিক পুরুষের গান। প্রেম যেন তার সার্থক হয়েছে বর্ষাস্নাতক সন্ধায় গাওয়া গানে। অনাবিল সুখ আর হিমেল বায়ুর শনশন আওয়াজে যেন মন উঝাড় করা সুরের ধ্বণি প্রতিধ্বণি বাজিয়েছে তার হিয়ায়। গানের মাঝে মহাপ্রয়ান পুরুষকে তিনি প্রাণয়ী পুরুষের বৈশিষ্ঠ লেপন করেছেন। বাচিঁয়ে রেখেছেন রবী ঠাকুরের কথা আর সুরকে, দিয়েছেন হারিয়ে যাওয়া মৌনতাকে ফিরিয়ে রঙ্গীন করেছেন সন্ধার গীতিমাল্যকে। বিমহীত করেছেন গানের মাধ্যমে শ্রোতা দর্শকদেরর মনকে। তৈরী করেছেন হৃদয়ে ভালোবাসার ফুটন্ত বৃষ্টি ভেজা গোলাপের পাপড়ী। গান যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে
তার সুকন্ঠের ঘাতে।

প্রতিটি গানের পূর্বে তিনি বর্ননা করেছেন গানটি লেখার সময় কবির বয়স এবং সেই বয়সে বর্ষা এবং প্রেমের প্রতি তাঁর দৃষ্টি ও ভালবাসা। মনে হয়েছে প্রতিটি গানই জীবন্ত, মনে হয়েছে এই মাত্র লিখে সুর দিয়ে শিল্পীকে গাইতে বললেন। প্রকৃতি ও বর্ষা নিয়ে যেসব গানগুলো শিল্পী উপহার দিলেন – আবার এসেছে আষাড়, আষাড় সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো, বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল, আজি শ্রাবণঘনগহন মোহে, ছায়া ঘনাইছে বনে বনে, আজি ঝড়ের রাতে, এসো গো জ্বেলে দিয়ে যাও প্রদীপখানি, আজি বরিষন মুখরিত শ্রাবণরাতি। প্রেমের গান গুলো – সুনীল সাগরে শ্যামল কিনারে, আমার জীবনপাত্র উচ্ছলিয়া মাধুরী করেছ দান, ডেকোনা আমারে ডেকোনা, যদি জানতেম আমার কিসের ব্যথা, আসা যাওয়া পথের ধারে, নিশি না পোহাতে, কাল রাতের বেলা গান এলো মোর মনে, ওগো আমার চির অচেনা পরদেশী, ভালোবেসে সখী নিভূতে যতনে, আমি তোমার সঙ্গে বেঁধেছি আমার প্রান। অনুষ্ঠান শেষ হয়েও যেন মনে হচ্ছিল মনের মধ্যে গুনগুন করছে গানগুলো, এখানেই শিল্পীর স্বার্থকতা। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: