সরোদ বাদক ইউসুফ খান…

সরোদ লিউটের (চোদ্দ থেকে সতেরো শতকের মধ্যে বহুল ব্যবহৃত তারের বাজনা) মত ভারতীয় তারের যন্ত্র যা মূলত ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে ব্যবহৃত হয়। সেতারের মত সরোদ হিন্দুস্তানী শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে সব থেকে জনপ্রিয় ও উল্ল্যেখনীয় যন্ত্র। কারো কারো মতে সরোদ মধ্য এশিয়া ও আফগানিস্তানের একটি একই ধরনের যন্ত্র আফগান রুবাব থেকে উদ্ভূত। সরোদ শব্দটির আফগানিস্তানের বহু চলতি ভাষার একটি ফার্সি ভাষায় অনুবাদ হল “সুর” এর “সুন্দর আওয়াজ “। যদিও সরোদকে একটি “খাদ রুবাব” হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। বাংলাদেশে এর ব্যবহার রয়েছে কিন্তু পরিচিতি কম। হাতে গুনা কয়েকজন লোকই এই যন্ত্রটা বাজায়। তার মধ্যে একজন মোঃ ইউসুফ খান।

তার সাথে কথা হয় এই যন্ত্র নিয়ে। জানতে চাওয়া হয় তার সরোদের হাতে খড়ি। তিনি জানান যে, আমার পরিবারের সকলেই বিভিন্ন যন্ত্র সঙ্গীতের সাথে যুক্ত। আমার বড় ভাই, বাবা, তারাই আমার ওস্তাদ। বলতে পারেন তারাই আমার সঙ্গীতের গুরু। ১৯৭৮ সালে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খার সাথে আমার বাবা তবলা বাজাতো। বিশেষ করে আমার বড় ভাই ইউনুস খান তার কাছে আমার সরোদ শিখার হাতে খড়ি হয়। শিখার পরে আমি শিল্পকলায় ইন্টরনভিউ দেই আর আমার চাকরী হয়ে যায়। ১৯৮৩ সাল থেকে আজ পর্যন্ত শিল্পকলায় আছি।

এ পর্যন্ত প্রায় ৪০টি দেশে সফর করার সৌভাগ্য হয়। তার মধ্যে হংকঙ্গং, ব্যাংকক, চায়না, দক্ষিন কোরিয়া, তুরুস্ক, রাশিয়া, জাপান, তাইওয়ান, সহ অনেক দেশে। তিনি জানান প্রায় ২০০টির মতো চলচ্চিত্রে তিনি কাজ করেছেন। তার মধ্যে উল্ল্যেখ্যযোগ্য হলো প্রথম চলচ্চিত্র সুন্দরী, কসাই, বড় বাড়ির মেয়ে, আলতা। এ পর্যন্ত ৫ থেকে ৬ হাজার গানের সাথে তিনি বাজিয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন আমি এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সব শিল্পীর সাথে কাজ করেছি তার মধ্যে বেশি কাজ করেছি আমি আলাউদ্দিন আলীর সাথে। তারপর সাবিনা ইয়াসমিন, আহাদ, সৈয়দ আব্দুল হাদী, শাকিলা জাফর, প্রিয়াঙ্কা গোফ, আনোয়ার পারভেজ, দেবো ভট্টাচার্য, আব্দুল জাব্বার, আলম খান, শেখ সাদী খান, ফরিদা পারভীন, সুবল দাস, আহাম্মেদ বুলবুল,সুবির নন্দী সহ আরো অনেকের সাথে।

টেলিভিশনে ও বাইরে সব জায়গাতেই কাজ করেছি। তার সাথে কথা বলে জানা যায় যে ১৯৮৩ সালে গ্রেট ওয়ান বাদক হিসেবে নিযুক্ত হন। সরকারী ভাবেই সে বিভিন্ন দেশে সফর করেছেন বলে তিনি জানান। বর্তমানে শিল্পকলাতে কয়েকজন ছাত্রছাত্রীদের তিনি সরোদ শিখাচ্ছেন। আমরা সঙ্গীতাঙ্গনের পক্ষথেকে তার সুন্দর ও সুস্থ্য জীবন কামনা করছি। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *