গানের পিছনের গল্প – আমি এত যে তোমায় ভালবেসেছি – শিল্পী মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়…

শিল্পী মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায় -এর শুভ জন্মদিনে তাঁরই গাওয়া জনপ্রিয় গানটির পিছনের না জানা অনেক কথা লিখে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি…

“আমি এত যে তোমায় ভালবেসেছি”

শিল্পীঃ মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়
সুরকারঃ মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়
গীতিকারঃ শ্যামল গুপ্ত

শ্যামল গুপ্তরই লেখা ‘আমি এত যে তোমায় ভালবেসেছি’। মানবেন্দ্র বলতেন, ও “আমার ভূতে পাওয়া গান।”

তখন রেডিওতে লাইভ ব্রডকাস্টের যুগ। ১ নম্বর গার্স্টিন প্লেস থেকে ইডেনে আসেনি আকাশবাণী। এক অনুষ্ঠান শেষে পরের অনুষ্ঠানের মাঝে অনেকটা ফাঁকা সময় থাকলে অফিসেই কাটিয়ে দিতেন অনেকেই। তেমনই এক দিনে ছাদে পায়চারি করতে করতে গুনগুন করে গান গাইছিলেন মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়। নিঝুম সন্ধেবেলা। ঠিক নীচে কবরখানার দিকটা জমাট কালো। ও-বাড়ির সাহেব-ভূতের গল্প বহুশ্রুত। তাতে ভ্রুক্ষেপ ছিল না তাঁর।
হঠাৎ কেউ যেন ডেকে উঠল, “মানব, মানব।” চমকে পিছনে তাকিয়ে দেখেন দুটো চোখ। জ্বলছে।
“কে?”
“আমি শ্যামল। একটা গান লিখে ফেলেছি। শুনবি?”
একটু ধাতস্থ হয়ে বললেন, “বল।”
অন্ধকারে দাঁড়িয়েই শুনতে লাগলেন গানের কলি— “…তোমার কাজল চোখে যে গভীর ছায়া কেঁপে ওঠে ওই/তোমার অধরে ওগো যে হাসির মধু মায়া ফোটে ওই/তারা এই অভিমান বোঝে না আমার…।”

সারা শরীরে যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল। শেষ হতেই এক হাতে বন্ধুকে পাকড়ে ধরে সোজা পাঁচ নম্বর স্টুডিও। ওখানে একটা গ্র্যান্ড পিয়ানো রাখা। সন্ধ্যে পাঁচটার পর সে-ঘরের দরজা তালাবন্ধ থাকে। পিয়ানোর ডালায় চাবি দেওয়া। কিন্তু সে দিন যে কী হল! দরজার ‘ল্যাচ’ ঘোরাতেই খুলে গেল! ডালায় হাত দিয়ে ওঠাতে উঠে গেল! তাতে বসেই গানের মুখড়াটা করে ফেলেছিলেন মানবেন্দ্র। পুরো ব্যাপারটা নিয়ে বিস্ময়ের ঘোর জীবনের শেষ দিন অবধি তাঁর কাটেনি। কেবলই বলতেন, “ও আমার ভূতে পাওয়া গান।” – তথ্য সংগ্রহে মীর শাহ্‌নেওয়াজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *