বিশিষ্ট সরোদ বাদক ওস্তাদ আলী আকবর খান…

বাংলাদেশী একজন স্বনামধন্য সুরকার ওস্তাদ আলী আকবর খান। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের একজন অন্যতম পরিপূর্ণ সঙ্গীতজ্ঞ। ভারতের সঙ্গীত জগতে সরোদের জীবন্ত কিংবদন্তি মনে করা হয় তাঁকে। সঙ্গীতে তাঁর অসাধারণ সৃষ্টি তাঁকে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের সঙ্গীতে অমর করে রাখবে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তাঁর ভূমিকার জন্য তিনি বাঙালি জাতির কাছে বিশেষভাবে সম্মানীত। ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ ১৯২২ খ্রিস্টাব্দের ১৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শিবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ও মাতা মদিনা বেগম। পিতার কর্মস্থাল মাইহর (ভারতের মধ্যপ্রদেশের যুবরাজ শাসিত রাজ্য) পিতার কাছেই তাঁর সঙ্গীত শিক্ষার হাতে খড়ি হয়। তিনি সব ধরনের বাদ্য যন্ত্র ও গায়কীর শিক্ষা নেন। ধীরে ধীরে তিনি সরোদে বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেন। ওস্তাদ আলী আকবর খান সাহেবের সঙ্গীতে হাতে খড়ি হয় তিন বছর বয়েস থেকে। কন্ঠ সঙ্গীতের শিক্ষা শুরু হয় তাঁর বাবা আচার্য আলাউদ্দিন খান সাহেবের কাছে এবং তবলা শিখতে শুরু করেন তাঁর চাচা ফকির আফতাবউদ্দিনের কাছে। তার বাবা আরো অনেক বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখিয়েছেন; তবে তিনি সরোদ এবং কন্ঠ সঙ্গীতেই নিবিষ্ঠ হন। এরপর প্রায় ২০ বছর যাবৎ তার শিক্ষা ও চর্চা অব্যাহত থাকে। এসময় তিনি প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা করে রেওয়াজ করতেন। এর পরেও তার বাবা আচার্য আলাউদ্দিন খান সাহেবের ১০০ বছর বয়স পর্যন্ত আলী আকবর খানকে শিখিয়েছেন। এই শিক্ষণ প্রক্রিয়া ওস্তাদ আলী আকবর খান সাহেবের মধ্যে এমন এক সম্পদ সৃষ্টি করেছে যা থেকে তিনি এখনো শিখছেন বলে বোধ করেন। ১৯৭২ সালে তাঁর বাবার মৃত্যুর পর হতে তিনি বাবার চর্চিত সাঙ্গীতিক ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। এই সাঙ্গীতিক ঐতিহ্য হচ্ছে ভারতের মাইহার ও রামপুরের শ্রী বাবা আলাউদ্দিন সেনী ঘরানা।

আলী আকবর খাঁ ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে এলাহাবাদে সর্ব প্রথম এক সঙ্গীত সম্মেলনে সঙ্গীত পরিবেশন করেন জানা যায়। ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে অল ইন্ডিয়া রেডিও-এর সাথে প্রথম কাজ করেন তিনি। ১৯৪৪ সালে মাইহর ত্যাগ করেন। লাখনৌতে কিছুদিন অল ইন্ডিয়া রেডিও-এর সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। এরপর যোধপুরের মহারাজার দরবারে সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে নিয়োগ পান। মুম্বাইতে তিনি কয়েকটি সিনেমায় সঙ্গীত পরিচালনা করেন। এর মধ্যে সত্যজিৎ রায়ের দেবী ও তপন সিনহার ক্ষুদিত পাষাণ উল্লেখযোগ্য। ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি এইচএমভির সাথে সিরিজ রেকর্ডে কাজ করেন। ১৯৫৬ সালে কলকাতায় আলী আকবর কলেজ অব মিউজিক প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলিতে একই নামে আরেকটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরে সান রাফায়েলে স্থানান্তরিত হয়। তিনি প্রথম ভারতীয় হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে লং প্লেয়ার এ্যালবামে রেকর্ড করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশনে সরোদ পরিবেশন করেন। অবশেষে ২০০৯ সালের ১৮ জুন ৮৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। সঙ্গীতাঙ্গনের পক্ষ থেকে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করি। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *