আজ শ্রদ্ধেয় গীতিকবি আমজাদ হোসেন এর শুভ জন্মদিন…

“একবার যদি কেউ ভালোবাসতো
আমার হৃদয়টা জলে ভাসতো
আর ভালোবাসতো।”

প্রেম যেনো স্বর্গ থেকে এসে মৃত্যু অবধী থেকে যাবে এই বিরহী মনের ভালোবাসায়। জীবনকে রাঙ্গাবে ভালোবাসার হাজার রঙ্গে। বেদনা যেন ম্লান হয়ে যাবে প্রেমের মিলনের মাঝে। পাষানীর মন যেন গলে যাবে ভালোবাসার উষ্ণ গানের দরদ ভরা আবেগী কথামালায়। জীবন যেন ফিরে পাবে তার কাঙ্খীত ভালোবাসার ছোঁয়ায়। এমন প্রেম সৃষ্টিকারী অসংখ্য গান রচনা করেছেন গীতিকবি আমজাদ হোসেন।

একজন ভার্সেটাইল আমজাদ হোসেন শিল্পের যে শাখায় হাত দিয়েছেন সেখানেই সোনা ফলেছে তার ছোঁয়ার আবেশে। বিমহিত করেছে হাজারো ভক্তের হৃদয়কে। গীতিকার হিসেবে উপহার দিয়েছেন বহু কালজয়ী গান। যেমন, আছেনা আমার মোক্তার, হায়রে কপাল মন্দ চোখ থাকিতে অন্ধ, কেউ কোনদিন আমারে তো কথা দিলো নারে, চুল ধইরোনা খোঁপা খুলে যাবে, একবার যদি কেউ ভালোবাসতো, বাবা বলে গেলো আর কোনদিন গান করোনা সহ অসংখ্য শ্রোতানন্দিত গান। সেই সঙ্গীত জগতের মহামূল্যবান মানুষটির আজ শুভ জন্মদিন। ১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট জামালপুরে জন্মগ্রহন করেন। বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট অভিনেতা, লেখক এবং ব্যতিক্রমধর্মী চলচ্চিত্রকার তিনি। তাঁর পৈতৃক নিবাস জামালপুর। তিনি ১৯৬১ সালে হারানো দিন চলচ্চিত্রে অভিনয় দিয়ে চলচ্চিত্রে আগমন করেন। পরে তিনি চিত্রনাট্য রচনা ও পরিচালনায় মনোনিবেশ করেন। তার পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র আগুন নিয়ে খেলা (১৯৬৭)। পরে তিনি নয়নমনি (১৯৭৬), গোলাপী এখন ট্রেনে (১৯৭৮), ভাত দে (১৯৮৪) দিয়ে প্রশংসিত হন। গোলাপী এখন ট্রেনে ও ভাত দে চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালকের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র
পুরস্কার লাভ করেন। শিল্পকলায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক (১৯৯৩) ও স্বাধীনতা পুরস্কার এ ভূষিত করে। এছাড়া সাহিত্য রচনার জন্য তিনি ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে দুইবার অগ্রণী শিশু সাহিত্য পুরস্কার ও ২০০৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

লেখালেখির মাধ্যমেই তাঁর সৃজনশীল জীবন শুরু। ছড়া দিয়ে সাহিত্যের অঙ্গণে তাঁর প্রবেশ। তাঁর প্রথম কবিতা ছাপা হয় বিখ্যাত দেশ (পত্রিকা) পত্রিকায়। ছোটদের জন্যেও তিনি লিখেছেন বহু গল্প, ছড়া এবং উপন্যাস। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস ও গল্প লিখেছেন। ১৯৭০ সালের মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর লেখা চলচ্চিত্র জীবন থেকে নেয়া, পরবর্তীতে বাংলাদেশের মানুষের কাছে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। আমজাদ হোসেন নিজেও চলচ্চিত্র পরিচালনা করে খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর পরিচালিত গোলাপী এখন ট্রেনে, সুন্দরী, জন্ম থেকে জ্বলছি, দুই পয়সার আলতা, ভাত দে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বাংলা চলচ্চিত্র।

তার সম্পাদিত চলচ্চিত্রগুলো হলোঃ
আগুন নিয়ে খেলা (১৯৬৭)
দুই ভাই (১৯৬৮)
নয়নমনি (১৯৭৬)
গোলাপী এখন ট্রেনে (১৯৭৮)
সুন্দরী (১৯৭৯)
কসাই (১৯৮০)
দুই পয়সার আলতা (১৯৮২)
জন্ম থেকে জ্বলছি (১৯৮২)
ভাত দে (১৯৮৪)
সখিনার যুদ্ধ (১৯৮৪)
হীরা মতি (১৯৮৮)
গোলাপী এখন ঢাকায় (১৯৯৪)
আদরের সন্তান (১৯৯৫)
সুন্দরী বধূ (২০০২)
প্রাণের মানুষ (২০০৩)
কাল সকালে (২০০৫)
গোলাপী এখন বিলাতে (২০১০)।
শিল্পকলায় অবদানের জন্য একুশে পদক পান – ১৯৯৩ সালে।
অগ্রণী ব্যাংক শিশু সাহিত্য পুরস্কার – পান ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে।
বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন। ২০০৪ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।
আমরা এই জাতীয় চলচ্চিত্রকার ও সফল গীতিকারের শুভ জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাই শুভ জন্মদিন। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: