আজ গীতিকার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এর ৮১তম জন্মদিন…

“প্রতিদিন তেমায় দেখে
সূর্য ডুবে,
প্রতিদিন তোমার কথা
হৃদয়ে জাগে
ও আমার দেশ
ও আমার দেশ
ও আমার বাংলাদেশ”
চলে যায় মানুষ, চলে যায় সময়, থেমে যায় চলার পথ। কিন্তু রয়ে যায় স্মৃতি যা ভোলার নয়। যার জন্ম হয় ধন্য শুধু মানুষের ভালোবাসার পাওয়ার জন্য। জীবনের যত সুখ, আনন্দ সব কিছু ভাগ করে দেয় পরের হীতে, আর দুঃখ গুলোকে রেখে দেয় নিজের জন্য অন্যকে বুঝতে দেয়না। তারা হলো কৃতিমান তাদের মৃত্যু নেই তারা শুধু বার বার শত বার জন্ম নেয়। দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য। এমনি একজন কৃতিমান মানুষ যে শুধু বলেছে জীবনের কথা, বেচেঁ থাকার কথা। দেখিয়েছে হাজার স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়েছে চলার প্রতিকুলতা। জীবনকে সফলতা দেখিয়েছে স্বপ্ন নিয়ে বেচেঁ থাকার প্রেরণা দিয়েছে। তিনি হলেন বাংলাদেশের একজন সফল গীতিকবি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।

১৯৩৬ সালে যশোর জেলার খড়কিতে জন্মগ্রহন করেন তিনি। তার পিতা মোহাম্মাদ শাহাদৎ আলী ও মা রাহেলা খাতুন। তিনি হলেন আমাদের দেশের একজন কিংবদন্তী গীতিকার। তার গান মানুষের হৃদয়ের ধাঁর ছুঁয়ে যেতো, অনেক বিখ্যাত গানের শ্রষ্ঠা তিনি। তার লেখা গানের মধ্যে ‘অশ্রু দিয়ে লেখা এ গান যেন ভুলে যেও না’। ‘আমার চিত্ত দুলেছে তোমার নামে’, ‘চিরকাল এতো এক মোহনার নদী’, ‘দুঃখ-সুখের ধ্রুবতারা নিরবধি’, ‘তাকায় না ফিরে দিবস-পূর্ব যামে’। ‘প্রতিদিন তোমায় দেখে সূর্য ডুবে প্রতিদিন তোমার কথা হৃদয় জাগে ও আমার দেশ ও আমার বাংলাদেশ’ – কোনটা ফেলে দেয়া যায়? এসব গানের লেখক সহজতার ও জীবনবাদী কবি প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। আজ তার ৮১তম জন্ম বার্ষিকী। তিনি একাধারে গীতিকার, গবেষক ও কবি ছিলেন। তার জনপ্রিয় অসংখ্য গান এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে। গুণী মানুষ তাদের কর্মের মধ্যে বেঁচে থাকেন – মনিরুজ্জামানও সেরকম একজন। বেঁচে আছেন অগণিত পাঠক আর শ্রোতাদের কাছে।

১৯৬০ সালে ঢাকা ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ রাশিদা জামানের সাথে তার বিবাহ বন্ধন সংঘটিত হয়। তিনিও কয়েকটি গ্রন্থেরও লেখিকা। মনিরুজ্জামানের এক মেয়ে ও এক ছেলে। মেয়ে চিকিৎসক থাকেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে । ছেলে শুভ পেশায় প্রকৌশলী। মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের কবিতা ইংরেজী, ফরাসি, জার্মান, পর্তুগিজ, রুশ, চীনা, জাপানি, কোরিয়ান, হিন্দি, উর্দুসহ আরও কয়েকটি বিদেশী ভাষায় অনূদিত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও বিশ্বকাব্য সংকলনে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার, একুশে পদক, জহির রায়হান চলচ্চিত্র পুরস্কার, মাইকেল সাহিত্য পুরস্কার, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী পুরস্কার, চাঁদের হাট পদকসহ অসংখ্য পুরস্কার ও পদক অর্জন করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি লন্ডনের ইন্টারন্যাশনাল হুজ হু ইন পোয়েট্রি থেকে সার্টিফিকেট অব মেরিট, ইটালির ইউনিভার্সিটি ডেলে আর্ট সাহিত্যে ডিপ্লোমা ডি মেরিটো, বিশ্ব উন্নয়ন সংসদ থেকে বিশ্ব সাহিত্য উন্নয়ন রত্নসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মান অর্জন করেছেন।

মনিরুজ্জামান রেডিও, টেলিভিশন রেকর্ড ও চলচ্চিত্রের জন্যে প্রায় তিন হাজার গান রচনা করেছেন। তার অসংখ্য দেশাত্মবোধক এবং আধুনিক গানের মধ্যে কালজয়ী গানের কয়েক লাইন – ‘আমার দেশের মাটির গন্ধে ভরে আছে সারা মন শ্যামল কোমল পরশ ছড়ায়ে নেই কিছু প্রয়োজন’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে কাজী নজরুল ইসলাম পর্যন্ত বাংলা আধুনিক গানের উত্তরাধিকার যারা বহন করছেন, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান তাদের মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশের আরো একজন প্রথিতযশা গীতিকবি মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান তার অনুজ।

মনিরুজ্জামানকে পাঠ করলে পাঠক দেখতে পাবেন-কবিতার কলাকৌশল তার আয়ত্তে। ছন্দ ও ভাষা ব্যবহারে তিনি সুদক্ষ শিল্পী। তার অবলোকনে রয়েছে নিজস্বতা। এখানেই প্রকৃতপক্ষে মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের নিগূঢ় কাব্যরচনার সার্থকতা ও সফলতা দৃশ্যমান। আমরা তার জন্মদিনে তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করি। বেচেঁ থাকুক অনন্তকাল মানুষের হৃদয়ে তার গান ও কবিতার মাধ্যেমে। সঙ্গীতাঙ্গনের পক্ষ থেকে প্রিয় মানুষটির জন্য অন্তরের অন্তস্থল থেকে দোয়া করি সে যেনো স্বর্গবাসি হন। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: