সুনামধন্য সঙ্গীত শিল্পী বিজিত লাল দাস…

“সাধের লাউ বানাইলো মোরে বৈরাগী,
লাউয়ের আগা খাইলাম
গোড়াও খাইলাম
লাউ দিয়া বানাইলাম ডুগডুগি
আমি লাউ দিয়া বানাইলাম ডুগডুগি
সাধের লাউ বানাইলো মোরে বৈরাগী।।”

জনপ্রিয় এই গানটি একসময় গ্রাম বাংলার মানুষের মুখে মুখে শোনা যেতো। এখনো যারা গানটির সাথে পরিচিত তারা গুনগুনিয়ে এখনো গায়। এমন কি এই গানটি বিভিন্ন সময় চলচ্চিত্রেও ব্যবহার করেছেন। সম্প্রতি গানটি ব্যান্ডের মাধ্যেমে ভিন্ন আমেজে গেয়েছেন ব্যান্ড শিল্পীরা। গ্রামগঞ্জের হাটে বাজারে যাত্রা মঞ্চের এক কালের জনপ্রিয় এই গানের গীতিকার সুরকার ও শিল্পী বিজিত লাল দাস। বাংলাদেশের একজন অন্যতম সঙ্গীত গবেষক, সুরকার ও শিল্পী। তিনি ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম সুর শিল্পী। বিভাগীয় শহর সিলেটেই তিনি আজীবন বসবাস করেছেন এবং সঙ্গীত চর্চা করেছেন।

১৯৩৮ সালে বিজিত লাল দাস সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৪৬ সালে শিলং-এ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। মাত্র ৭ বছর বয়সে তাঁর সঙ্গীত-এ হাতেখড়ি হয় ওস্তাদ সুর সাগর প্রাণ দাসের নিকটে। তিনি ওস্তাদ ফুল মোহাম্মদের নিকটে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের তালিম নেন। বিজিত লাল দাস ১৯৬২ সালে পাকিস্তান রেডিও-তে হাসন রাজার গান গেয়ে তার সঙ্গীত শিল্পী জীবনের সূচনা করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সঙ্গীত শিল্পীদের একজন হিসেবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যোগদান করেন ও সেখানে লোকসঙ্গীত পরিবেশন করেন নিয়মিতভাবে। ১৯৮১ সালে তার কনিষ্ঠ পুত্র নিলম মাত্র ৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করে এবং তাতে তিনি যথেষ্ট ভেঙ্গে পড়েন। পরবর্তী সময়ে তিনি তার এই পুত্রের নামানুসারে “নিলম সঙ্গীত একাডেমী” নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।

সিলেটের একজন বাসিন্দা হিসেবে সিলেটের প্রতি এবং সিলেটি ভাষা ও সঙ্গীতের প্রতি তাঁর ছিল অপার টান। তাই তিনি বহু সিলেটি গান রচনা করেছেন। এছাড়া বিজিত লাল দাস লোকসঙ্গীত, বিশেষ করে সিলেটি লোকসঙ্গীত নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেছেন এবং তাঁর এই গবেষণার ফল হিসেবে তিনি “সুরমাপারের গান” নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন।

২০১২ সালে ৮ অক্টোবর তারিখ ভোর পাঁচটায় ঢাকার একটি হাসপাতালে এই সঙ্গীতগুরু ৭৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সাধের লাউ বানালাইলো মোরে বৈরাগী, মরিলে কান্দিস না আমার দায়, বিনোদিনী, আমি কেমন করে পত্র লিখি গো বন্ধু গ্রাম-পুষ্টাফিশ নাই জানা ইত্যাদি গানের জন্য তিনি জনপ্রিয়। সঙ্গীতাঙ্গনের পক্ষ থেকে তার রুহের মাঘফেরাত কামনা করি। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: