বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ সুজেয় শ্যাম…

একজন বাংলাদেশী সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক। তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের একজন গুনী সঙ্গীত পরিচালক ও কণ্ঠযোদ্ধা। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গানে অবদানের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। সুজেয় শ্যাম ১৯৪৬ সালের ১৪ মার্চ তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের সিলেট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা অমরেন্দ্র চন্দ্র শাহ ছিলেন একটি বিদ্যালয়ের সহকারী এবং ‘ইন্দ্রেশর-টি’ নামে একটি চা বাগানের মালিক। তার শৈশব কেটেছে সিলেটের চা বাগানে আর আঁকাবাঁকা পাহাড়ি এলাকায়। দশ ভাইবোনের মধ্যে সুজেয় ষষ্ঠ। সঙ্গীতে আগ্রহ জন্মায় সকালে প্রাথনা সঙ্গীত শুনে। তার ছোট বোন ও ভাই বেতারে গান গাইত। মা বাবাও ছিলেন নজরুল সঙ্গীত শিল্পী। সুজেয় শ্যাম একজন গীটার বাদক ও শিশুতোষ গানের পরিচালক হিসেবে ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান চট্টগ্রাম বেতারে যোগদান করেন। পরে বড়দের অনুষ্ঠান পরিচালনা শুরু করলেও ১৯৬৮ সালে চট্টগ্রাম বেতারে চাকরী ছেড়ে ঢাকা বেতারে যোগ দেন।

১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় ঘোষণার পর শহীদুল ইসলাম রচিত তার সুরকৃত ও তার কণ্ঠে “বিজয় নিশান উড়ছে ওই” গানটি স্বাধীন বাংলা বেতারে বেজে উঠেছিল। ২০০১ সালে তিনি বাংলাদেশ বেতার থেকে প্রধান সঙ্গীত প্রযোজক পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি টুনাটুনি অডিও নামক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। সুজেয় শ্যাম ১৯৬৯ সালে সঙ্গীত পরিচালক রাজা হোসেনের সাথে পরিচিত হন এবং একত্রে রাজা-শ্যাম নামে বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা শুরু করেন। সত্তর-আশি দশকে তারা একত্রে সূর্য গ্রহণ, সূর্য সংগ্রাম, ভুল যখন ভাঙ্গলসহ পচিশটি চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করেন। সূর্য গ্রহণ চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করে অর্জন করেন বাচসাস চলচ্চিত্র পুরস্কার। ১৯৮৬ সালে আবদুল লতিফ বাচ্চু পরিচালিত বলবান ও অবাঞ্ছিত চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এককভাবে সঙ্গীত পরিচালন শুরু করেন। একবিংশ শতকের প্রথমে হাছন রাজাকে নিয়ে নির্মিত হাছন রাজা চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরচালনা করে লাভ করেন তার প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলামের বিশেষ অনুরোধে এই চলচ্চিত্রের একটি গানেও কণ্ঠ দেন তিনি। পরবর্তীতে জয়যাত্রা ও অবুঝ বউ চলচ্চিত্রের গানের সঙ্গীত পরিচালনা করে যথাক্রমে ২০০৪ ও ২০১০ সালে এই পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৪ সালে একাত্তরের ক্ষুদিরাম ও একাত্তরের মা জননী নামে দুটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করেন। ২০০৬ সালে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বাংলাদেশ বেতারে প্রচারিত ৪৬টি গানের সংকলন নিয়ে স্বাধীন বাংলা বেতারের গান শিরোনামের একটি এ্যালবামের সঙ্গীত পরিচালনা করেন। এর ধারাবিহিকতায় পরবর্তীতে ২০১৩ সালে আরও ৫০টি গানের সংকলন নিয়ে স্বাধীন বাংলা বেতারের গান – ২ নামে আরেকটি এ্যালবামের সঙ্গীত পরিচালনা করেন। তার সঙ্গীত পরিচালনায় – সূর্য গ্রহণ, সূর্য সংগ্রাম, ভুল যখন ভাঙ্গল, প্রতিকার, বলবান, হাছন রাজা, জয়যাত্রা, অবুঝ বউ অন্তর্ধান, ৭১ এর ক্ষুদিরাম, ৭১ এর মা জননী, ইত্যাদি উল্ল্যেখ যোগ্যো।

এ্যালবামে গান করেন স্বাধীন বাংলা বেতারে ২০০৬, ২০১৩ সালে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী হন, শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক – হাছন রাজা ২০০২ সালে।
জয়যাত্রা ২০০৪, ও অবুঝ বউ ২০১০ সালে। বাচসাস চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন, শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক – সূর্য গ্রহণ ১৯৭৯সালে।
শিল্পকলা পদক (সঙ্গীতে) – ২০১৫।
স্বাধীনতা সম্মাননা – ২০১৫ সালে।
ভারত গৌরব সম্মাননা – ২০১৫ সালে।
রবি-চ্যানেল আই বিজয়মেলা পদক – আজীবন সম্মাননা ২০১১ সালে।
গুনী এই সঙ্গীত শিল্পীর জন্য সঙ্গীতাঙ্গন এর পক্ষ থেকে দীর্ঘায়ু লাভের আর্শিবাদ ও সুস্থ জীবন কামনায়। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *