যন্ত্র উদ্ভাবক ও গীটারবাদক নাসির উদ্দিন…

কত স্বপ্নের জাল বুনি হৃদয়ের জমিনে। কত আশা থাকে হৃদয়ের গহিনে। জীবনের চাওয়া আর পাওয়াতে হয় তার অবসান। কিন্তু না, সবার ক্ষেত্রে আশার প্রতিফলন হলেই তার অবসান হয়না। যদি চাওয়া, পাওয়ার পর তার সাফলতাতেই হারিয়ে যেতো। জয় করার অবিলাষ তাহলে যুগ যুগ ধরে হতো না নব নব আবিষ্কার। মানুষের ইচ্ছা আর মনের আকাঙ্খাই মানুষকে নিয়ে যায় বহুদুর। এতোটুকু সফলতাতেই মানুষ আটকে না থেকে আরো ভালো কিছু পাবার আশায় আরো চেষ্ঠা করতে থাকে। তাতে কাটা তারের বেড়া থাকলে উপরে ফেলে সাধনার পথ সুগম করে। আর এরাই তো প্রকৃত মানুষ। এদের ভেতরেই আছে সমাজ রাষ্টকে কিছু দেবার চিন্তা। ইতিহাসে মর্যাদার আসনে তার নাম লেখানোর অভিপ্রায়। সেই চিন্তার জগৎ এর একজন নবীন পথিক যিনি তার চলার পথ নিজেই তৈরি করার সাধনায় ব্যাস্ত সারাক্ষণ।

তিনি হলেন ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপ থানার ধাওড়া গ্রামের কৃতি সন্তান মোঃ নাসির উদ্দিন। জন্ম ১৯৭৮ সালের অক্টোবরে। তার বাবা মরহুম লিয়াকত আলী শেখ। যিনি নিয়ামত ফকির নামে পরিচিত। লালন ভক্ত আধ্যাতিক সঙ্গীতের সাধক এবং ভালো গায়ক। মা হায়াতুননেছা একজন গৃহিণী। চার ভাই আর দু বোনের মধ্যে তিনি হলেন পঞ্চম। ছোট বেলা থেকেই তিনি সঙ্গীতের সাথে যুক্ত ছিলেন বলে তিনি জানান। এতোই প্রিয় বিষয় ছিল সঙ্গীত যে ছোট বেলায় একদিন তার বাবা তাকে একটি বেঞ্জু দিয়ে বলেছিল যে এই নাও এটা বাজাও। তখন নাকি তিনি কয়েক ঘন্টা পর্যন্ত এটা বাজাতে থাকলে তার বাবা ফিরে এসে দেখে যে সে এখনো বেঞ্জু বাজিয়েই চলছে। এতো আন্তরিকতা ছিল তার ভিতরে।

এছাড়াও তিনি বাজিয়েছেন দোতারা, তবলা, মন্দিরা, হারমোনিয়াম। আর এসব কিছু তার বাবার কাছেই তার হাতে খড়ি। বলা যায় তার বাবাই তার প্রথম গুরু। তার পর তিনি শৈল কুপার সঙ্গীত শিক্ষক সুনিল জোয়ার্দারের কাছে তালিম নেন। ছোট বেলা থেকেই তিনি সঙ্গীতের জন্য বেশ সুনাম অর্জন করেছেন। তার বাবার অনুপ্রেরণায় তারা চার ভাই-ই সঙ্গীতের সাথে যুক্ত বলে জানান তিনি। তিনি বলেন তার মেজো ভাই আনোয়ার হোসেনের অনুপ্রেরণায় তিনি স্নাতক পড়া বাদ দিয়ে ভর্তি হন ঢাকা সরকারি সঙ্গীত কলেজে। সেখান থেকে ২০০৩ সালে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত সহ স্নাতকে প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হন বলে জানান তিনি। আর এখানে অধ্যায়ন কালে অনেক বিশেষ সঙ্গীতজ্ঞ্যর সান্নিধ্য পেয়েছেন। বিশেষ করে বিশিষ্ঠ লোকসঙ্গীত শিল্পী ইন্দ্রমহন রাজবংশীর অনুপ্রেরণা ও স্নেহে তিনি আজ এতোদুর এগিয়ে এসেছেন বলে জানান।

২০০৪ সালে তিনি বাংলাদেশ বেতারের নিজস্ব শিল্পী হিসেবে যোগ দিয়ে চাকরি সূত্র আরম্ভ করেন তখন তিনি কাজ করেন বান্দরবান বেতার কেন্দ্রে। আর সেখানেই তার গিটারে হাতে খড়ি হয় বেতারের গিটার বাদক রফিকুল আজিজ টিটোর কাছে। তিনি বলেন ২০০৭ সালে আমি সেখান থেকে ঢাকা কেন্দ্রে বদলি হয়ে আসি। আর বর্তমানে আছি বাংলদেশ বেতার ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিসে। তিনি বলেন আমি সরদ শিখেছি শ্রদ্ধেয় ওস্তাদ ফুলঝুরি খান সাহেবের কৃতি সন্তান ওস্তাদ ইউসুফ খান সাহেবের কাছ থেকে। ২০১৪ সাল থেকে উনার কাছে আমার তালিম নেওয়া শুরু। এমনি করে গিটার সরদ বাদনে তিনি অনেক সুনাম অর্জন করতে থাকে। তিনি বলেন আমার সঙ্গীতে হাতে খড়ি চার বছর বয়স থেকেই। আর অনুপ্রেরণায় ছিল আমার বাবা, মা আর মেজো ভাই আনোয়ার হোসেন। আমার এ অবস্থানে আসার জন্য অনেকের অবদান জড়িত আর তারা হলেন আমার পরম শ্রদ্ধেয় ব্যাক্তি শেখ সাদী খান, অসিত দে, সুবীর নন্দী, সুজিত মস্তফা, ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, সালাউদ্দিন আহাম্মেদ, জহির আলীম, শাহীন সামাদ, ড. নাশিদ কামাল, ইউসুফ খান, ফিরুজ খান, রফিকুল আজিজ টিটো, শামীমা পারভীন, সাজিদ হোসেন, প্রিয়াঙ্কা গোফ। এখন আমার আর কোন চাওয়া পাওয়া নেই সবার ভালোবাসা আমি পেয়েছি আর এটাই আমার বড় পাওয়া আর এটাই আমার বড় চাওয়া। বাকি জীবনটা সবার ভালোবাসায় কাটাতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। সঙ্গীতাঙ্গনকে আমার পক্ষ থেকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাকে মূল্যায়নের জন্য। সঙ্গীতাঙ্গন এর পক্ষ থেকে রইলো নাসিরের জন্য হাজারো ফুলের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *