অনুরূপ আইচ এর সুরের ভুবন…

বর্তমান বাংলা গানের জনপ্রিয় একজন গীতিকবি অনুরূপ আইচ। ভালবাসা এবং আবেগ দিয়ে যিনি গান লিখে এখন শ্রোতাদের পছন্দের গীতিকবি। সর্বদা হাসিমুখ মাখা এই মানুষটি তার মনের কথা শ্রোতাদের মনের কথা অনেক সুন্দর করে সাজিয়ে লিখে যান গানের ভাষায়। তাইতো অনুরূপ আইচ মানেই ভাল কিছু গানের জন্ম। অনুরূপ আইচ ১৯৯৮ সাল থেকেই বাংলা গান লেখেন। কিন্তু ২০০১ সালে ব্যান্ডশিল্পী বিপ্লবের ‘আদর্শলিপি’ এ্যালবামের মাধ্যমে গীতিকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তারপর থেকে এক এক করে লিখে এই পর্যন্ত শতাধিকের উপরে গান লিখেছেন এই গীতিকার। দেশের অনেক খ্যাতিমান শিল্পীরাও তার লেখা গান গেয়ে হয়েছে আলোচিত। আর নতুনরা পেয়েছে অনেকে তারকা খ্যাতি।

অনুরূপ আইচের পেশা বলতে লেখালিখি ও সাংবাদিকতা। তবে শিখার বা জানার কোন শেষ নেই, তাই এখনো প্রচুর পড়াশোনা করেন এবং এখনো শিখছেন। যৌবনে অনেক প্রেমিকার কাছে থেকে ধোঁকা খেয়ে এখন বউয়ের প্রেমে মুগ্ধ হয়ে একজন আদর্শ স্বামী। জীবন চলার পথে, প্রেমে মুগ্ধ হয়ে যাকে সহযোদ্ধা ও সহধর্মনী হিসেবে সুখে দুঃখে পাশে পান তিনি তার স্ত্রী সাহিদা আইচ নূশা। তার ঔরশজাত কোন সন্তান নেই। তবে তার অনেক শিষ্যরূপী ছেলে মেয়ে “বাবা” বলে ডাকে এবং তিনিও তাদেরকে সন্তানের মত ভালবাসেন। সঙ্গীতের হাতেখড়ি বলতে, স্কুলে পড়ার সময় পত্র পত্রিকায় ছড়া কবিতা লেখার সময়গুলোতে নিজে নিজে সুর চিন্তা করেই গান লেখা শুরু করেন। ঢাকার অডিওতে গীতিকার হিসেবে আবির্ভাব হয় প্রমিথিউস ব্যান্ডের বিপ্লবের একক এ্যালবামে গান লেখার সুযোগ পেয়ে। তার লেখা প্রথম গান “মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী”। গানটি জনপ্রিয়তা পেলে সবখানে তার জায়গা হয়ে যায় গীতিকার হিসেবে। সঙ্গীত জগতে আসার পেছনে অনুপ্রেরণা বলতে তার মামা। যিনি কলকাতার জনপ্রিয় গায়ক ইন্দ্রনীল সেন (বর্তমানে তিনি পশ্চিম বঙ্গের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী)। শুরুতে গান লেখার অনুপ্রেরণা দিত বন্ধুরা। আর এখন গান লেখার অনুপ্রেরণা দিয়ে থাকেন ভক্তরা।

অনুরূপ আইচের জন্ম চট্টগ্রাম শহরে, ২৫শে ফেব্রুয়ারি জন্ম তারিখ হওয়ায় তিনি মীন রাশির জাতিকা হিসেবে বিবেচিত। ছোটকাল থেকে বেড়ে ওঠা- চট্টগ্রামের কালুরঘাট এলাকা থেকে চকবাজার ও সদরঘাট এলাকায়। তার লেখা সব গান নিয়ে প্রথম এ্যালবাম – মমতাজের পাংখা। সর্ব প্রথম টিভিতে সাক্ষাতকার প্রচার করে চ্যানেল ওয়ান (বর্তমানে বন্ধ)। তার একক লেখা সব গান নিয়ে মোট এ্যালবাম- ৫টি। তার লেখা প্রকাশিত গানের সংখ্যা এই পর্যন্ত প্রায় ১০০ এর উপরে এবং তার লেখা গানের মধ্যে তার প্রিয় গান “এক জীবনে এত প্রেম পাবো কোথায়” ও “নাচ নাচ নাচ পাগলা”। লেখালিখিতে প্রাপ্ত পুরস্কার – কাজী নজরুল ইসলাম পদক, ইউরো-সিজেএফবি পুরস্কার, ডিসিআরইউ এ্যাওয়ার্ড, মিজাব এ্যাওয়ার্ড, এজেএফবি পুরস্কার।

অনুরূপ আইচ রচিত গানের মধ্যে জনপ্রিয় গানগুলো হচ্ছে – ব্যান্ড তারকা হাসানের গাওয়া ‘অযুত লক্ষ নিযুত কোটি’, আইয়ুব বাচ্চুর ‘দিল’, জেমসের ‘লুটোপুটি’, বেবী নাজনীনের ‘সকাল বেলার কোকিল’, মমতাজের ‘পাংখা’, আরফিন রুমির ‘বলো না কোথায় তুমি’, হাবীবের ‘চলতে চলতে দেখা হলো’, শাহীদ এর ‘এক জীবন ও এক জীবন-২’, পড়শীর ‘তোমারই পরশও খুঁজে খুজেঁ’, সেরা কন্ঠ তারকা পূজার ‘তুমি আমার’, ইমরানের ‘দূরে দূরে’, মোহনা ও জনির কন্ঠে ‘তুমি আমার’ সহ অনেক গান।

অনুরূপ আইচের সাথে আলাপনায় জানা গেল তার জানা ও অজানা অনেক কথা। অনুরূপ আইচকে কেউ কেউ আইচ বলে ডাকে। এমনিতে সবাই অনুরূপ নামে ডাকলেও ভক্তরা তাকে “দাদা” আবার কেউ কেউ “গুরু” ডাকে। অনুরূপ আইচের যা কিছু প্রিয় – প্রিয় ব্যাক্তি – হানিফ সংকেত, প্রিয় ব্যাক্তিত্ব – জুয়েল আইচ। প্রিয় সখ – বই পড়া, পছন্দের খাওয়া – খিচুরী, প্রিয় পোশাক – জিন্স। প্রিয় পারফিউম – প্যারিস, প্রিয় খেলা – ক্রিকেট। প্রিয় খেলোয়াড় – মাশরাফি, প্রিয় বই – সেই সময়, প্রিয় পত্রিকা – বাংলাদেশ প্রতিদিন, প্রিয় ম্যাগাজিন – সানন্দা, প্রিয় চ্যানেল – সঙ্গীত বাংলা, প্রিয় টিভি অনুষ্ঠান – ইত্যাদি, প্রিয় শিল্পী – নচিকেতা, প্রিয় ব্যান্ড – ডিপ পারপেল, প্রিয় মিউজিশিয়ান – বেস বাদক আওরঙ্গজেব বাবু, প্রিয় অভিনেতা – নায়ক আলমগীর ও আশীস বিদ্যার্থী, প্রিয় অভিনেত্রী – এঞ্জেলিনা জোলি ও ববিতা, প্রিয় গান – নচিকেতার গান ‘আমি ভবঘুরে হব’। প্রিয় রঙ – টিয়া কালার ও নীল, প্রিয় ফুল – গোলাপ, প্রিয় বেড়ানোর জায়গা- কক্সবাজার।

অনুরূপ আইটচর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য – আমার চেয়েও ভালো লিখেন এমন নতুন লেখকদেরকে প্রতিষ্ঠা পেতে সাহায্য করা। তার ইচ্ছের মধ্যে কোনো ইচ্ছাই অপূর্ণ নেই। নতুনদের জন্যে উপদেশ স্বরুপ বাণী – সততাই সাফল্যের একমাত্র চাবিকাঠি। তিনি আরো বলেন আমার দুঃখ – নেই। ভয় পাই – শয়তান প্রকৃতির মানুষকে। এড়িয়ে চলি – যারা একবার আমার মন থেকে উঠে যায়। আমি যে কারো সাফল্যেই আনন্দ পাই। জীবন চলার পথে যারা বিভিন্ন সময় আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল তা মনে পড়লে ব্যাথিত হয় মন। তবুও জীবনটা আমার কাছে বেশ আনন্দময় লাগে। বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই ব্যান্ড গায়ক মাকসুদ ও বিশ্ব নন্দিত জাদুশিল্পী জুয়েল আইচের কাছে। আমি গর্ববোধ করি যখন আমার শিষ্যদের উত্থান বা সাফল্য দেখি। আর আমি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমার লেখা গল্প উপন্যাসগুলো ছড়িয়ে দিতে কাজ করছি। আবার আমি জন্ম নিলে বাংলাদেশেই জন্মাতে চাই। আর ভালো লেখক হতে চাইবো তখন। এখনকার গীতিকারকারদের মাঝে সুহৃদ সুফিয়ানকে মনে হয় ভালো করবে ভবিষ্যতে।

আমার ভক্তরা ফেসবুকেই আমার সাথে যোগাযোগ রাখে ইনবক্সে কথা বলে। আমিও এটা পছন্দ করি। তাই বলে সবাইকে তো আর বন্ধু তালিকায় জায়গা দেয়া সম্ভব নয় ফেসবুকে। প্রথমদিন যখন স্টুডিওতে আমার গান রেকর্ড হচ্ছে সে দিন মনে মনে বেশ উৎফুল্ল ছিলাম। আমার অনেক প্রিয় গানের মাঝে একটি গানের কথা প্রায় দোলা দেয়- নচিকেতার “হাল্লা বোল” গানটি, সবচেয়ে ভালোবাসি যারা সব সময় সত্য কথা বলে বা বলতে চেষ্টা করে তাদেরকে। খুব অপছন্দ করি মিথ্যাবাদী আর চাপাবাজদের। আমার সবচেয়ে বড় বন্ধু হলো আমার স্ত্রী। আর আমার কোনো শত্রু নেই আমার জানা মতে। কেউ গোপনে আমাকে শত্রু মনে করলে সেটা অন্য ব্যাপার। আমার কাছে ভালোবাসার কোনো ব্যাকরণ নেই। আমার কাছে মানুষের সততার সৌন্দর্যে আমি আকৃষ্ট হই।

আমি গান লেখার পাশাপাশি টিভি নাটক, গল্প, কবিতা, উপন্যাস লিখে যাচ্ছি। বাংলাদেশের পাশাপাশি কলকাতার অনেক পত্রিকায় আমি নিয়মিত গল্প লিখছি। আমার লেখা বই প্রকাশিত হয়েছে ৬টি। তার মধ্যে তিনটি গল্পের বই, দুইটি উপন্যাস ও একটি গানের বই। দুই বছর আগে প্রকাশিত এদেশের সঙ্গীত জগতের কিছু অন্ধকার দিক নিয়ে লেখা আমার উপন্যাস “প্রেমহীনা” এখনো ভালো বিক্রি হয়। আগামী বইমেলা উপলক্ষে আমার লেখা একটি গল্পের বই ও উপন্যাস প্রকাশিত হবে। সেই কাজ নিয়ে ব্যাস্ততা যাচ্ছে। আরো ব্যাস্ত সময় পাড় করছি ডিজিটাল পত্রিকা “আইচ নিউজ” এর সম্পাদক হিসেবে। – রবিউল আউয়াল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *