সারিন্দা-র গঠন পরিচিতি…

ঝাকেঁ উড়ে আকাশ জুড়ে।।
দেখতে কি সুন্দর জালালের
দেখতে কি সুন্দর
জালালী কইতর
বাবার ঐ জালালী কইতর।
ও বাবার জালালী কইতর।।

গানটি শুনলে শরীরে এক প্রকার স্পন্দন তৈরি। মনে ওঠে এক প্রকার ছন্দ শরীর আনমনে নেচে ওঠে। কারণ কি? কারণ হলো এই ধরণের গানগুলোই যে আমাদের পরিচয় বহন করে। এই গানটাকে বলে মুর্শীদি গান। আমরা তো আজ ভুলেই গেছি আমাদের দেশীয় গান বাজনাকে। আমরা তো এখন বিদেশী সংস্কৃতিচর্চা করি। গ্রামের একজন লোক যখন শহরে আসে তখন তাদের সাথে পরিচিত হতে প্রথম কথা ব্যবহার করি “এটা একটা গাইয়ে ভূত”! তারা ভুলে যায়, ভুলে যেতে চায় গ্রামকে। আধুনিকতার ছোয়াঁয় তাদের মনে তৈরি হয়েছে অহংকারের ভুত। একবার ভাবা উচিত গ্রাম থেকেই যে শহরের উৎপত্তি। গ্রামের জারি-সাড়ি, ভাওইয়া, ভাটিয়ালী, মুর্শীদি গানের সূচনা দিয়েই যে আজকের এই সঙ্গীত। সময় বদলায়, বদলায় মানুষের প্রকৃতি, তাই বলে মনুষত্ব্য বিবেকবোধ নষ্ট হয়ে যেতে পারে না। মনে রাখা উচিৎ আমাদের শিকড়ের কথা। একসময় সঙ্গীত গ্রাম থেকেই শুরু হয়েছিল। তখন যেই ধরনের গান গাইতো, সেই গানে যেই ধরনের বাদ্যযন্ত্র ব্যাবহার হতো, আজ তা ইতিহাস হয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে আধুনিকতার ধাক্কায় অনেক দুরে। তার মধ্যে মুর্শীদি, জাড়ি, কবিগানে ব্যাবহার হতো এক প্রকার বাদ্যযন্ত্র তার নাম সারিন্দা। সারিন্দা হলো একধরনের লোকবাদ্যযন্ত্র। একটি কাঠের ফ্রেম, চামড়া, তার ও ছড় এই যন্ত্রের প্রধান উপকরণ। মূল কাঠামোর প্রশস্ত অংশ দুপাশে বেশ চাপা থাকে, ওপরে থাকে চামড়ার ছাউনি। এর বাকি অংশ দন্ডাকৃতির, মাথায় থাকে পাখির বা ঘোড়ার, এমনকি যেমন রাধা-কৃষ্ণের প্রতিমূর্তি খোদাই করা হয়। প্রশস্ত অংশের নিচে ফেসি-র সাহায্যে তিনটি তার বেঁধে চামড়ার ওপর দিয়ে টেনে কাঠামোর অপর প্রান্তে কান-এর সঙ্গে টেনে বাঁধা হয়।

সারিন্দা বাজানো হয় ছড়ের সাহায্যে। ধনুকাকৃতির এই ছড় পশুর লেজের চুল বা রেশম সুতা দিয়ে তৈরি। সাধারণত বিচার গান, মুর্শিদি গান, নৌকাবাইচের গান, কবিগান ইত্যাদিতে অনুষঙ্গী যন্ত্র হিসেবে সারিন্দা বাজানো হয়। তবে স্বতন্ত্রভাবেও এতে গানের সুর তোলা যায়। আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে ভুলে যাবো না। তবে হ্যা যেহেতু দাতঁ মাজার জন্য ব্রাশ এসে গেছে তাহলে নিম গাছের ডাল কেন ব্যবহার করবো, করবো এই জন্যই যে, নিমের ডাল আমার দাতঁ কে সুস্থ্য রেখেই ক্ষ্যান্ত নয় শরীরে রোগেরও উপকার করে। বিদেশি সংস্কৃতি যদিও আমাদের কাছে এসেই গেছে ছাড়া যাবেনা কিংবা অস্বিকার করা যাবেনা। দেশ দখলে কামান ব্যাবহার করো, মশা মারতে তো হাতটাও লাগাবে। সঙ্গীতাঙ্গন এর পক্ষ থেকে সবার জন্য লাল গোলাপের একরাশ প্রিতি ও শুভেচ্ছা। সবাই খুব ভালো থাকেন ভালো রাখেন দেশীয় সংস্কৃতির সাথে থাকেন সঙ্গীতাঙ্গন এর সাথে থাকেন। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *