Press "Enter" to skip to content

আজ ভারতীয় সঙ্গীত শিল্পী আশা ভোঁসলে এর ৮৪তম জন্মবার্ষিকী…

আশা ভোঁসলে একজন ভারতীয় গায়িকা। মূলত তিনি হিন্দি সিনেমার নেপথ্য সঙ্গীত গাওয়ার জন্য বিখ্যাত। আশা ভোঁসলে ভারতের জনপ্রিয়তম গায়িকাদের মধ্যে একজন। ১৯৪৩ সাল থেকে আরম্ভ করে তিনি ষাট বছরেরও বেশি সময় ধরে গান গেয়ে চলেছেন। তিনি তাঁর সঙ্গীত জীবনে মোট ৯২৫টিরও বেশি সিনেমায় গান গেয়েছেন। তিনি ১২০০০ এরও বেশি গান গেয়েছেন বলে জানা যায়। ২০১১ সালে গিনেস বুক অব ওয়া্ল্ড রেকর্ডস তাকে সর্বাধিক সংখ্যক গান রেকর্ডকারী হিসেবে ঘোষণা করেন। ভারত সরকার তাকে ২০০৮ সালে পদ্মভূষণ উপাধিতে ভূষিত করে। আরেক জনপ্রিয় শিল্পী লতা মঙ্গেশকর তাঁর দিদি বা বড় বোন।

খ্যাতিমান গায়ক এবং সুরকার শচীন দেব বর্মনের পুত্র ও বিখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক এবং সুরকার রাহুল দেব বর্মন ছিলেন তাঁর দ্বিতীয় স্বামী। তাঁদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। তন্মধ্যে ২য় সন্তান বর্ষা ভোঁসলে ৮ অক্টোবর, ২০১২ তারিখে লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র মাথায় ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে জানা যায়। তাঁর গায়িকা জীবনকে খতিয়ে দেখলে চারটি সিনেমাকে চিহ্নিত করা যায় তাঁর কেরিয়ারের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত। এ ছবিগুলো হলো: নয়া দৌড় ১৯৫৭ সালে, তিসরি মঞ্জিল ১৯৬৬ সালে উমরাও জান ১৯৮১ সালে এবং রঙ্গীলা ১৯৯৫। আশা ভোঁসলে বাংলা সিনেমার জন্য বহু ছবিতে নেপথ্য সঙ্গীত গেয়েছেন। এছাড়া তিনি বাংলা আধুনিক গান এবং রবীন্দ্রসঙ্গীতও গেয়েছেন অনেক। আশা ভোঁসলের বাংলা আধুনিক গানের তালিকার মধ্যে –

১। আকাশে সূর্য আছে যতদিন।
২। আকাশে আজ রঙের খেলা।
৩। ছন্দে ছন্দে গানে গানে।
৪। চোখে চোখে কথা বল।
৫। যে গান তোমায় আমি শোনাতে চেয়েছি
৬। খুব চেনা চেনা মুখখানি তোমার
৭। কিনে দে রেশমী চুড়ী
৮। লক্ষ্মীটি দোহাই তোমার
৯। মহুয়ায় জমেছে আজ
১০। মনের নাম মধুমতি
১১। ময়না বল তুমি
১২। নাচ ময়ূরী নাচ রে
১৩। ফুলে গণ্ধ নেই
১৪। পোড়া বাঁশী শুনলে
১৫। সন্ধ্যা বেলায় তুমি আমি
১৬। যেতে দাও আমায় ডেকো না
১৭। আমি খাতার পাতায় চেয়েছিলাম
১৮। বাঁশী শুনে কি
১৯। চোখে নামে বৃষ্টি
২০। থুইলাম রে মন পদ্ম পাতায়
২১। কথা দিয়ে এলে না
২২। রিমি ঝিমি এই শ্রাবণে
২৩। তুমি কত যে দুরে
২৪। কোথা কোথা খুঁজেছি তোমায়
২৫। না ডেকো ডেকো না গো মোরে
২৬। আসবো আরেক দিন আজ যাই
২৭। কি যাদু তোমার চোখে
২৮।একটা দেশলাই কাঠি জ্বালাও
২৯। কে যে আমার ঘুম ভাঙ্গিয়ে গেল
৩০। জীবন গান গাহি কি যে
৩১। যাব কি যাব না
৩২। ভেবেছি ভুলেই যাব
৩৩। মাছের কাঁটা খোঁপার কাঁটা
৩৪। এই এদিকে এসো এসোনা
৩৫। গা পা গা রে সা
জনপ্রিয় এসব গান গেয়ে পেয়েছেন অসংখ্য পুরুষ্কার। তার মধ্যে – ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত আশা ভোঁসলে সাতবার ফিল্মফেয়ার সেরা নেপথ্য গায়িকার পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৭৭ সালের পর তিনি জানান যে তাঁর নাম যেন আর ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের জন্য গণ্য করা না হয়। ২০০১ সালে তিনি ‘ফিল্মফেয়ার আজীবন সম্মাননা পুরস্কার’ পান। সঙ্গীতজীবনে দীর্ঘ ৫ দশক সেরা শিল্পীর দৌড়ে ছিলেন তারা দুই বোন। ১৯৫৭ সালে নয়া দৌড়, আশা, নবরঙ্গ, মাদার ইন্ডিয়া, দিল দেকে দেখো, পেয়িং গেস্ট প্রমুখ চলচ্চিত্রে একেরপর এক হিট গান গেয়ে লতাকে হটিয়ে রাতারাতি বলিউডের শীর্ষস্থান পেয়ে যান আশা, যার পুরোটাই ওপি নায়ারের বদৌলতে। ১৯৫৮ সালে হাওড়া ব্রিজ, কাগজ কে ফুল, ফাগুন প্রমুখ ছবির মাধ্যমে জয়যাত্রা অব্যাহত রাখেন। তবে বেশিদিন শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারেননি তিনি। কারণ, ওপি নায়ার ছাড়া বাকি সব প্রথমসারির সুরকারদের প্রথম পছন্দ ছিল লতা। তাই, ১৯৫৯ সালেই পুর্বের ছন্দ ফিরে পান লতা।তবে, ১৯৭০এর দশকে লতাকে একেবারে হাড্ডাহাড্ডি টক্কর দেন আশা। কারন, লক্ষ্মীকান্ত পেয়ারেলাল যেমন লতাকে সব ছবিতেই প্রাধান্য দিতেন তেমনি আর ডি বর্মন আর কল্যানজি আনন্দজী প্রাধান্য দিতেন আশাকে। এছাড়া লতা যেমন হেমা মালিনী, রাখী, মমতাজ, মৌসুমী চ্যাটার্জির জন্য চিরস্থায়ী কন্ঠ ছিলেন তেমনি আশার কন্ঠ আরোপ করা হত জীনাত আমান, পারভীন ববি, রেখা ও শর্মিলা ঠাকুরের প্রতিটি ছবিতে। জনপ্রিয় এগুণী শিল্পীর আজ শুভ জন্মদিন। ১৯৩৩ সাল এর ৯ই সেপ্টেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। সঙ্গীতাঙ্গন এর পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন শুভ জন্মদিন। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: