গানের পিছনের গল্প – কি আশায় বাঁধি খেলাঘর…

“কি আশায় বাঁধি খেলাঘর”
শিল্পীঃ কিশোরকুমার
সুরকারঃ শ্যামল মিত্র
গীতিকারঃ গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার
ছায়াছবিঃ অমানুষ (১৯৭৫)

গানের জন্য ছেলেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন বাবা। চিকিৎসক বাবা চেয়েছিলেন ছেলে শ্যামল মিত্র তাঁর পেশায় আসুক। অথচ ছেলে যে সুরপাগল! স্মৃতিতে ফিরলেন শ্যামলপুত্র সৈকত মিত্র।

সৈকত মিত্র বলছেন গানের পিছনের গল্প –

“পরিচালক শক্তি সামন্তের বাড়িতে শ্যামল মিত্র গান শোনাচ্ছেন ‘অমানুষ’ ছায়াছবির জন্য, পাশে বসে আছেন গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার। একটা গানও শক্তি সামন্ত বাবুর পছন্দ হচ্ছে না দেখে গৌরীপ্রসন্ন কাছেই রাহুল দেব বর্মনের বাড়ি চলে গেলেন। শ্যামল মিত্র তখন বাথরুমে গেছেন, সেই সময় ওঁর ভাই সলিল মিত্র ঘরে ঢুকে বললেন, দাদার সুরে গৌরীপ্রসন্নবাবু’র লেখা পুরনো একটা গান শোনাতে চান, শক্তি সামন্ত সেটা শুনে খুশি হলেন। বাথরুম থেকে ফিরে শ্যামল মিত্র শুনলেন ভাইয়ের কীর্তি, সঙ্গে এটাও জানলেন যে,পরিচালকের গানটা পছন্দ হয়েছে।

গৌরীপ্রসন্নবাবুকে ডাকা হল। সামান্য এডিট করে গানটা লিখে দিলেন তিনি। বিপত্তি বাঁধলো কিশোর কুমারকে নিয়ে, প্রথমে গানটা পছন্দ হওয়ায় রেকর্ড করবেন বলেছিলেন। কিন্তু শিল্পী রুমা গুহঠাকুরতা বললেন ওঁকে, এটা শ্যামলের রেডিওতে গাওয়া একটা হিট গান। শুনেই কিশোর বেঁকে বসলেন। রুমা দেবী সত্যিটা জানিয়েছিলেন। আর এটা ছায়াছবির গান নয়, রেকর্ডও হয়নি, রেডিওতে গাওয়া হয়েছে মাত্র। শেষাবধি শ্যামল অনেক জোর করায় কিশোর কনভিন্স হয়েছিলেন গানটা গাইতে। তবে কিশোর এক মাস সময় নিলেন শিখতে। যথা সময়ে গানটি রেকর্ডও করলেন শ্যামল। গানটা ছিল ‘কী আশায় বাঁধি খেলাঘর’। গানটা গেয়ে কিশোর কুমার জাতীয় পুরষ্কার পেয়েছিলেন।” – তথ্য সংগ্রহে মীর শাহ্‌নেওয়াজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: