আজ গীতিকবি নজরুল ইসলাম বাবু এর ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী…

“সবকটা জানালা খুলে দাওনা
আমি গাইব বিজয়েরই গান।
ওরা আসবে চুপি চুপি যারা এই দেশটাকে
ভালোবেসে দিয়ে গেছে প্রাণ।”

নজরুল ইসলাম বাবু একজন গীতিকবি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। “সব কটা জানালা খুলে দাও না”, “একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার” গানের গীতিকার তিনি। ১৯৯১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত পদ্মা মেঘনা যমুনা চলচ্চিত্রের গীত রচনার জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ গীতিকার বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। নজরুল ইসলাম বাবু ১৯৪৯ সালের ১৭ জুলাই জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জের চরনগর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিকভিটা একই উপজেলার হেমাড়াবাড়ি গ্রামে। তার পিতা বজলুল কাদের এবং মাতা রেজিয়া বেগম। পিতা বজলুল কাদেরের সঙ্গীতানুরাগ ছোটবেলা থেকেই বড় সন্তান নজরুল ইসলাম বাবুকে প্রভাবিত করে। ১৯৮৪ সালের ২৩ নভেম্বর তিনি শাহীন আক্তারকে বিয়ে করেন। তাঁদের দু’টি কন্যা নাজিয়া ও নাফিয়া। ১৯৭১ সালে তিনি দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীন হলে তিনি আবার লেখাপড়া, সাহিত্য ও সঙ্গীতের চর্চা শুরু করেন। ১৯৭৩ সালে আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে বিএসসি ডিগ্রী লাভ করেন।

১৯৭৩ সালে তিনি বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে গীতিকার হিসাবে তাকিাভুক্ত হন। এরপর একে একে লিখতে থাকেন দারুন সব গান, যার মধ্যে “সব কটা জানালা খুলে দাও না” এবং “একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার” অন্যতম। “সবকটা জানালা খোলে দাওনা” গানটি তৎকালিন সময়ে বাংলাদেশ টেলিভিশন এর খবর এবং বিভিন্ন সৃজনশীল অনুষ্ঠানের সূচনা সঙ্গীতে ব্যবহৃত হত। পরবর্তীতে এই গানটি পরিচালক কাজী হায়াৎ ১৯৯২ সালে সিপাহী ছবির টাইটেলেও ব্যবহার করেছিলেন। এই গানটি ছাড়াও নজরুল ইসলাম বাবু’র লিখা দেশাত্মবোধক গানগুলোও আজও বিভিন্ন জাতীয় দিবসে গাওয়া হয়। কণ্ঠশিল্পী দিলরুবা খানের কণ্ঠে ‘দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা’ গানটিও নজরুল ইসলাম বাবুর লেখা। তিনি বাংলাদেশ গীতিকবি সংসদের প্রথম কার্যনির্বাহী পরিষদ এর সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

১৯৭৮ সালে সুরকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সাথে তিনি প্রথম চলচ্চিত্রে গান লিখতে শুরু করেন। তিনি দুই পয়সার আলতা, মহানায়ক, প্রতিরোধ, উসিলা, পদ্মা মেঘনা যমুনা, প্রেমের প্রতিদান চলচ্চিত্রের গানের কথা লিখেছেন। বাংলাদেশের সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, সুবীর নন্দী, এন্ড্রু কিশোরের পাশাপাশি ভারতের কুমার শানু, আশা ভোঁসলে, হৈমন্তী শুক্লার মতো উপমহাদেশের জনপ্রিয় ও কিংবদন্তীতুল্য শিল্পীরাও তার লেখা গানে কণ্ঠ দিয়েছেন।

তার উল্লেখযোগ্য গান-সব কটা জানালা খুলে দাও না, একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার, আমায় গেঁথে দাওনা মাগো, দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা, কথা বলবো না বলেছি, পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই, হাজার মনের কাছে, কাঠ পুড়লে কয়লা হয়, ডাকে পাখী খোলো আঁখি, এই অন্তরে তুমি ছাড়া নেই কারো, আমার মনের আকাশে আজ জ্বলে শুকতারা, তোমার হয়ে গেছি আমি, কাল সারারাত ছিলো স্বপ্নের রাত, কত যে তোমাকে বেসেছি ভাল ইত্যাদি। নজরুল ইসলাম বাবু ১৯৯০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। আজ তার ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। সঙ্গীতাঙ্গন এর পক্ষ থেকে গুণী এই মানুষটির জন্য রইলো দোয়া ও ভালবাসা। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: