কে এই শেখ সাদি খান ?…

স্বনামধন্য একজন সঙ্গীত পরিচালক ও সুরকার। যাকে বাংলাদেশের সঙ্গীতের জাদুকর বলে অভিহিত করা হয়। তার বেড়ে ওঠা উপমহাদেশের বিখ্যাত এক সঙ্গীত পরিবারে। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্রের সঙ্গীতেও সুর করেছেন। তিনি ‘ঘানি’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক বিভাগে এবং ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ সুরকার বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

শেখ সাদী খান বাদ্যযন্ত্র হিসেবে কীবোর্ড ও বেহালাতে পারদর্শী। শেখ সাদী খান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিবপুর গ্রামের এক সঙ্গীত সমৃদ্ধশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা উপমহাদেশের বিখ্যাত সুর সাধক ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ। সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ তার জ্যাঠা। প্রথম সঙ্গীতের তালিম নেন বাবার কাছ থেকে। তার বাবার কাছ থেকেই তবলা ও তারপর বেহালা শেখেন। তার শৈশব কাটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লায়। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলে পড়াশুনার শুরু। ঢাকার ধানমন্ডি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক পাশ করেন। এরপর আইমিউজ ও বিমিউজ করেন ঢাকা সঙ্গীত মহাবিদ্যালয় থেকে। ১৯৬৩ সালে মেজভাই সরোদ বাদক ওস্তাদ বাহাদুর খানের সাথে ভারতে যান বেহালায় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শেখার জন্য। তিন বছর তার অধীনে তালিম নিয়ে ১৯৬৫ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

১৯৬৫ সালে রেডিও পাকিস্তানে বেহালা বাদক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬৮ সালে বেহালা বাদক হিসেবে তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশনে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্ত হন স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের সঙ্গে। বাংলাদেশ স্বাধীন হলে বাংলাদেশ বেতারে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। ২০০৭ সালের মার্চে প্রধান সঙ্গীত প্রযোজক হিসেবে বাংলাদেশ বেতার থেকে অবসর নেন। শেখ সাদী খান সত্তরের দশকে সঙ্গীত পরিচালক খন্দকার নুরুল আলমের সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন। ১৯৭৭ সালে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে সারাদেশে খ্যাতি লাভ করেন। প্রথম চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করার সুযোগ পান ১৯৮০ সালে আবদুল্লাহ আল মামুন পরিচালিত ‘এখনই সময়’ চলচ্চিত্রে। এ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে বাচসাস পুরস্কার পান। ১৯৮৫ সালে তার সঙ্গীত পরিচালনায় ‘সুখের সন্ধানে’ চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী মান্না দে। এছাড়া তিনি আশা ভোঁসলে, সাবিনা ইয়াসমিন, এন্ড্রু কিশোর, রুনা লায়লা সহ দেশী বিদেশী অনেক শিল্পীর সাথে কাজ করেন। শেখ সাদী খানের স্ত্রী রওশন আরা বেগম মারা গেছেন। তাদের একমাত্র ছেলে রওনাক
ফেরদৌস খান জোনাক ও পুত্রবধু শবনম শারমিন লন্ডনে থাকে। মেয়ে সাগুফতা জাবীন নূপুর এইচএসবিসি ব্যাংকে চাকরি করেন ও জামাতা জাহিদুর রহমান ইস্টার্ন ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট। তার চলচ্চিত্রের কিছু কাজ হলো –
১।১৯৮০ সালে, এখনই সময়
২। ১৯৮৩ সালে, মোহনা
৩। ১৯৮৪ সালে প্রিন্সেস টিনা খান।
৪। ১৯৮৫ সালে মহানায়ক।
৫। ১৯৮৬ সালে পরিণীতা।
৬। ১৯৯৫ সালে বাবার আদেশ।
৭। ১৯৯৬ সালে পোকা মাকড়ের ঘর বসতি।
৮। ১৯৯৭ সালে হাঙর নদী গ্রেনেড।
৯। ২০০৪ সালে এক খন্ড জমি।
১০। ২০০৬ সালে ঘানি।
১১। ২০১০ সালে ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না।
১২। ২০১১ সালে মধুমতি।
১৩। ২০১২ সালে রাজা।
১৪। ২০১৩ সালে একই বৃত্তে।
১৫। ২০১৪ সালে লাভ ইউ লাভ ইউ।
সলো এ্যালবাম করেছেন প্রায় ২৫টির মত।
শেখ সাদী খান দুই বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও তিন বার বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ীঃ শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক – ঘানি (২০০৬) শ্রেষ্ঠ সুরকার – ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না (২০১০) বাচসাস পুরস্কার, সেরা সঙ্গীত পরিচালক – এখনই সময় (১৯৮০), গীতিকার মাসুদ করিম সম্মাননা -( ২০১৬)। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: