শিল্পী নজিবুল হক গানের টানে ফিরে এলেন সঙ্গীতে…

সঙ্গীত এক বিশাল সাধনার ব্যাপার। কারো সাথে যেমন মনের মিলন হলে হাজার চেষ্টায় ভুলে থাকা যায় না, ঠিক তেমনি যে একবার সঙ্গীতকে ভালোবেসে সঙ্গীতের প্রেমে পড়েছে জীবনের কোন না কোন সময় সঙ্গীতের টানে ফিরে আসবে আবার। আসতেই হবে। এ যে এক বড় সাধনার প্রেম। জীবনের ব্যস্ততায় যদিও মানুষ অনেক কিছুই ভুলে যায় ভুলে যেতে চায়, কিন্তু যখন সব কাজের ফাঁকে জীবনকে নিয়ে একটু ভাবার সময় পায় তখনি জীবনের শ্রোত পাল্টে যায়। দিক বদল করে প্রতিকুল থেকে অনুকুলে চলতে চায়। জীবনের ফেলে আসা দিন গুলো নাড়া দিয়ে ওঠে মনের গহিণে। অনুসূচনায় ফেলে দেয় নিজেকে। ঠিক এমনি একজন মানুষ সঙ্গীত প্রেমিক শিল্পী নজিবুল হক। যার কাছে সঙ্গীত এর প্রেম অদ্বিতীয়। দীর্ঘ দিন বিরতির পর আবার গানের টানে ফিরে এসেছেন শ্রোতানন্দীত শিল্পী নজিবুল হক। তার অতীত বর্তমান নিয়ে কথা হয় সঙ্গীতাঙ্গন এর সাথে। তিনি জানান যে, সঙ্গীত এমন একটা জিনিস যার মায়া আমি কখনো ছাড়তে পারিনি পারবোও না। ১৯৭৪ সালে আমার সঙ্গীতে হাতে খড়ি। ছায়ানট থেকে আমার সঙ্গীত যাত্রা শুরু। সেখানে থেকে গান শিখি এবং ১৯৮২ সালে মেডেল নিয়ে বেরিয়ে আসি।
১৯৮২ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত আমি বিভিন্ন টেলিভিশনে অনুষ্ঠান করি। রেডিওতে গান করি। যত স্পেশাল অনুষ্ঠান হয় আমি করি। ঈদের বিশেষ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান করি। আমার মনে আছে প্রথম আমি একটা অনুষ্ঠানে অংশ নেই তার উপস্থাপনায় ছিলেন নায়ক রহমান ও প্রডিউসার ছিল আলী ইমাম। তারপর আরেকটি অনুষ্ঠান সেটার উপস্থাপনায় ছিলেন মেয়র আনিসুল হক। অনুষ্ঠানটির নাম ছিল ‘এখনই’। নায়ক রাজ্জাক এর উপস্থাপনায় আমি একটি ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করি। এক সময় কুমার বিশ্বজিৎ, এন্ড্রকিশোর আমি এক সাথ গান করতাম। তার পর আমি ১৯৯৪ সালে বায়িং হাউজ ব্যবসায় চলে যাই। ব্যবসার সাথে জড়িয়ে হওয়াতে সঙ্গীত থেকে দুরে সরে যাই। তবে হ্যা একটা দিনের জন্যও আমি রেয়াজ করা বাদ নেইনি। সব সময় সঙ্গীত চর্চা করে গেছি। এর মধ্য টিভি প্রোগ্রাম না করলেও বিভিন্ন দেশে স্টেজ শো করেছি। সুইজারল্যান্ড, ভারত বিভিন্ন দেশে সলো গান করেছি। আবার যে কারণে গানে ফিরে আসা সেটা আমার ভক্তদের অনুপ্রেরনায়। আমি স্বাধীনতা উপলক্ষে আব্দুল আল মামুনের উপস্থাপনায় একটি অনুষ্ঠানে গান করি। আমার সাথে ছিল শিল্পী প্রবাল চৌধুরী। ঐ গানটা গাওয়ার পর আমার নামে এক হাজার চিঠি আসে। গানটির সুরকার ও সঙ্গীতায়জনে ছিলেন শেখ সাদী খান। সেই শেখ সাদী খানই আমাকে বললো যে নজিবুল তুমি গান থেকে কেনো একবারেই সরে গেলে। আবার আসো বিটিভির বর্ণালী অনুষ্ঠানে হেমন্ত মুখপাদ্ধ্যায়ের একটি গান নদীর মধ্যে থেকে গাওয়া ‘ও নদীরে’ শিরোনামের গানটির কথা বললেন তিনি। প্রায় ১৮ বছর পর আবার গানে ফিরে এসে আমার অসম্ভব ভালো লাগছে। যা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছিনা এ মুহুর্তে। মনে হয় যেনো আমি সেই ১৮ বছর আগের দিনে চলে আসছি। ভাবছি আবার গান করবো। মৃত্যু পর্যন্ত গান করে যাবো।

সঙ্গীতের এমন প্রেম শিল্পীর মুখে শুনে সত্যিই বিভোর হয়ে গেলাম। এদিকে বর্ণালী অনুষ্ঠানের গ্রন্থনা ও পরিকল্পনায় ছিলেন শিল্পী বিশ্বজিত রায়। সঙ্গীতাঙ্গনকে তিনি জানান যে, এ বর্ণালী অনুষ্ঠানটি যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৮ সাল থেকে। মাঝ খানে কিছু দিন বন্ধ ছিল। আবার নতুন করে শুরু হয় ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে। আজকের এই পর্বটা সেই সূত্রে ৩১তম। এটি মাসিক অনুষ্টান এবং বিষয় ভিত্তিক। প্রতি মাসের শেষ মঙ্গলবার এই বর্ণালী অনুষ্ঠানটি রাত ৮টার সংবাদের পর অনুষ্ঠিত হয়। এই পর্বটি সাজানো হয়েছে এবার ৯জন শিল্পীর গানের মাধ্যমে। তারা হলেন নজিবুল হক, বিশ্বজিৎ রায়, ইসরাত আরা নার্গিস, সালমা আক্তার, অপু, আবিদা সুলতানা, আবু বক্কর সিদ্দিক, রিংকু ও হালিমা পারভীন।

নজিবুল হক, তিনি গান করবেন হেমন্ত মুখপাদ্ধ্যায়ের। বিশ্বজিৎ রায়, তিনি করবেন রাধা রমন দত্তের গান। ইসরাত আরা নার্গিস গাইবেন, নজরুলসঙ্গীত। সালমা আক্তার গাইবেন রবীন্দ্রসঙ্গীত। রিংকু গাইবেন, ভব পাগলার গান। হালিমা পাভীন গাইবেন, জসিমউদ্দিন এর গান। অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেছেন মাহবুবা ফেরদৌস। গ্রন্থনা ও পরিকল্পনায় আছেন বিশ্বজিৎ। সঙ্গীতায়জনে আছেন বিশিষ্ঠ সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক শেখ সাদী খান। উপস্থাপনায় থাকবেন সনজিদা আখতার। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: