Press "Enter" to skip to content

গানের পিছনের গল্প এবং যমজ সুর – “শূণ্য এ বুকে পাখি মোর আয়, ফিরে আয়, ফিরে আয়”…

গানের পিছনের গল্প এবং যমজ সুর –

হুবহু একই সুর, একই রাগে সৃষ্টি।
দুটি গান, একটি বিশ্ব কবি’র অপরটি বিদ্রোহী কবি’র –

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এক অতি প্রিয় ভাইপো (শমীন্দ্রনাথ) অল্প বয়সে হঠাৎ মারা যাবার পরে রবীন্দ্রনাথ লিখলেন “অল্প লইয়া থাকি তাই, মোর যাহা যায় তাহা যায়”। সুর করলেন ছায়ানট রাগে। রাগাশ্রিত, কিন্তু গানের অন্তর্নিহিত বেদনা ও বিশ্বাসকে রাগদারী কখনই ছাপিয়ে যায় নাই।

গানের অসাধারণ মাধুর্যে আকৃষ্ট হয়ে জ্ঞানেন্দ্রপ্রসাদ গোস্বামী গানটিকে তাঁর মত করে, মানে প্রভূত তানকর্তন ও রাগের হরকৎ দেখিয়ে গেয়ে থাকতেন। একদা কোন একজন মধ্যস্থ লোকের প্ররোচনায় এই গানটি তিনি রবীন্দ্রনাথকে শুনিয়ে পরিবেশনের অনুমতি আদায় করতে যান। ফল যা হবার তাই হল, রবীন্দ্রনাথ শোনামাত্র নাকচ করে দিলেন এরকম গায়ন।

কিন্তু জ্ঞান গোঁসাইয়ের রোখ চেপে যায়, তাই দ্বারস্থ হন কাজী নজরুল ইসলামের। জ্ঞান গোঁসাই নজরুল ইসলামকে অনুরোধ করেন ছায়ানটে এবং একই চলনে একটি গান লিখে দিতে। নজরুল শেষ পর্যন্ত গানটি লেখেন। একই রাগ, সুরও প্রায় একই – ‘শূণ্য এ বুকে পাখি মোর আয়, ফিরে আয়, ফিরে আয়’। এই গানটা রেকর্ড করেন জ্ঞান গোঁসাই এবং তা সাড়া তোলে। কিন্তু ইত্যবসরে বাঙালি শ্রোতাদের মুখে মুখে রটে যায় “শূন্য এ বুকে পাখি মোর আয়” আসলে নজরুলের অকালমৃত সন্তান বুলবুলের স্মৃতিতে। শঙ্খ ঘোষ এ প্রসঙ্গে রসান দিয়ে লিখেছেন- “আশ্চর্য এই যে ‘অল্প লইয়া থাকি তাই’ গানটির বিষয়েও কোনো কোনো মহলে শুনেছি একই ধরনের ভুল জল্পনা যে শমীন্দ্রের মৃত্যুকে নিয়ে বাঁধা ওই গান। অথচ ও-গান লেখা হয়েছিল সে-মৃত্যুর সাত বছর আগে।”

এভাবেই বাংলা গানে ছায়ানট রাগের সঙ্গে অসময়োচিত মৃত্যুর একটা চিরকালীন যোগাযোগ হয়ে রইল। – তথ্য সংগ্রহে মীর শাহ্‌নেওয়াজ

১) “অল্প লইয়া থাকি তাই, মোর যাহা যায় তাহা যায়”
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

২) “শূণ্য এ বুকে পাখি মোর আয়, ফিরে আয়, ফিরে আয়”
কাজী নজরুল ইসলাম

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: