বাংলা চলচ্চিত্র এর সেরা গান…

‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প
যা কিছু দেখার নাও দেখে নাও
যা কিছু বলার যাও বলে যাও
পাবেনা সময় আর হয়তো’

গান এক মায়াবী যাদুর বাশিঁ। যা শুনলে মন ভরে যায়। কখনো কখনো মনে হয় কোথায় হারিয়ে গেল সেই যাদুময় গান গাওয়ার শিল্পী। কোথায় আছে সেই বিখ্যাত সুরকার ও গীতিকাররা। কেন? হয় না সেই প্রাণের ছোয়াঁ পাওয়া গান। যে গান শুনলে নাওয়া-খাওয়া ভুলে ভাবনার মহনায় হারিয়ে যাবো। যে গান হৃদয়ে দোলা দেবে ছুটি দিয়ে দিবে দুঃখ্যকে চিরদিনের জন্য। আবার সেই গান কি ফিরে আসবে না? আর কি কখনো গানের সুরে প্রাণ ভরবেনা? জাগবেনা হৃদয়ে প্রেমের শিহরণ। কালজয়ী সেই সব গানের কিছু গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী এখনো আছে আমাদের মাঝে কিন্তু কোথায় তাদের সেই গান? যে গানের ভক্তরা আকুল আক্ষেপে আশায় আছে শুনবে সেই বেচেঁ থাকার গান। ভক্তরা আজ আবার শুনতে চায় সেই গান যে গান মনের সুখে গুন গুন করে গাওয়া যায়। সেই গান যেই গানে আছে প্রেম, ভালোবাসা। আসুন জেনে নেই এমন কিছু গানের নাম ও পরিচয়। যা আজও শ্রোতা হৃদয়ে গেঁথে আছে তীর হয়ে।

১। একি সোনার আলোয় জীবন ভরিয়ে দিলে, ওগো বন্ধু কাছে থেকো কাছে থেকো

জহির রায়হানের ‘মনের মতো বউ’ ছবির এই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন।
কথা, সুর ও সঙ্গীত খান আতাউর রহমান।
অভিনয় করেছেন সুচন্দা।
জহির রায়হানের এই ছবির পরিচালক ছিলেন তারই সহকারী রহিম নেওয়াজ।
ছবিটি ১৯৬৯ সালে মুক্তি পায়।

২। গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে বলো কি হবে

নজরুল ইসলাম পরিচালিত স্বরলিপি ছবির এই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন রুনা লায়লা ও মাহমুদুন্নবী।
গানের গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার সুবল দাস।
এই গানে অভিনয় করেন রাজ্জাক ও ববিতা।
স্বরলিপি ১৯৭০ সালে মুক্তি পায়।

৩। অশ্রু দিয়ে লেখা এ নাম যেন ভুলে যেও না

কামাল আহমেদ পরিচালিত ‘এতটুকু আশা’ ছবির গান। গানের শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন।
গীতিকার ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা সত্য সাহা।
অভিনয় করেছেন সুজাতা।
এতটুকু আশা ১৯৬৮ সালে মুক্তি পায়।

৪। কথা বলো না বলো ওগো বন্ধু ছাঁয়া হয়ে তবু পাশে রইব

কাজী জহির পরিচালিত ‘মধুর মিলন’ ছবির এ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ফেরদৌসী রহমান।
গানের সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক বশীর আহমেদ।
অভিনয় করেছেন শাবানা।
মধুর মিলন ১৯৭০ সালে মুক্তি পায়।

৫। ও রে নীল দরিয়া আমায় দেরে দে ছাড়িয়া

গানটি আব্দুল্লাহ আল মামুন পরিচালিত ‘সারেং বউ’ ছবির গান।
গানে কণ্ঠ দিয়েছেন আব্দুল জব্বার।
গীতিকার মুকুল চৌধুরী, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক আলম খান।
অভিনয় করেছেন ফারুক ও কবরী।
সারেং বউ ১৯৭৮ সালে মুক্তি পায়।

৬। তুমি যে আমার কবিতা, আমারও বাঁশির রাগিনী

গানটি নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘দর্পচূর্ণ’ ছবির।
গানে কণ্ঠ দিয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন ও মাহমুদুন্নবী।
গীতিকার ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক সুবল দাস।
অভিনয় করেছেন রাজ্জাক ও কবরী।
দর্পচূর্ণ ১৯৭০ সালে মুক্তি পায়।

৭। জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প: জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প

শিবলি সাদিক পরিচালিত ‘ভেজা চোখ’ ছবির গান।
গানের শিল্পী এন্ড্রু কিশোর। সুর ও সঙ্গীত আলম খান।
অভিনয় করেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন।
ভেজাচোখ ১৯৮৮ সালে মুক্তি পায়।

৮। আয়নাতে ওই মুখ দেখবে যখন, কপালের কালো টিপ পড়বে চোখে

অশোক ঘোষ পরিচালিত ‘নাচের পুতুল’ ছবির গান।
গানে কণ্ঠ দিয়েছেন মাহমুদুন্নবী ও শবনম।
গীতিকার কেজি মোস্তফা, সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা রবীন ঘোষ।
অভিনয় করেছেন রাজ্জাক ও শবনম।
নাচের পুতুল ১৯৭১ সালে মুক্তি পায়।

৯। সব সখিরে পার করিতে নেব আনা আনা

গানটি খান আতার ‘সুজন সখি’ ছবির।
গানের শিল্পী আব্দুল আলীম ও সাবিনা ইয়াসমিন।
কথা, সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা খান আতাউর রহমান।
অভিনয় করেছেন কবরী ও ফারুক।
প্রমোদকার পরিচালিত ‘সুজন সখি’ ১৯৭৫ সালে মুক্তি পায়।

১০। আবার এলো যে সন্ধ্যা, শুধু দুজনে, চলো না ঘুরে আসি অজানাতে যেখানে নদী এসে থেমে গেছে

গানটি সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী পরিচালিত ‘ঘুড্ডি’ ছবির।
গানের শিল্পী হ্যাপি আকন্দ, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক লাকি আকন্দ।
অভিনয় করেছেন সুবর্ণা মুস্তাফা ও রাইসুল ইসলাম আসাদ।
ঘুড্ডি ১৯৮০ সালে মুক্তি পায়।

১১। আমার বুকের মধ্য খানে মন যেখানে হৃদয় সেখানে

গানটি বেলাল আহমেদ পরিচালিত ‘নয়নের আলো’ ছবির।
গানের শিল্পী এন্ড্রু কিশোর ও সামিনা চৌধুরী।
অভিনয় করেছেন জাফর ইকবাল ও কাজরী।
গানের গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।
‘নয়নের আলো’ ১৯৮৪ সালে মুক্তি পায়।

১২। শুধু গান গেয়ে পরিচয়

গানটি কাজী জহির পরিচালিত ‘অবুঝ মন’ ছবির।
গানের শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন।
গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক আলতাফ মাহমুদ।
অভিনয় করেছেন শাবানা।
‘অবুঝ মন’ ১৯৭২ সালে মুক্তি পায়।

১৩। একা একা কেন ভালো লাগে না, কোনো কাজে মন কেন বসে না

এস এম শফি পরিচালিত ‘দি রেইন’ ছবির এই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন রুনা লায়লা।
সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন আনোয়ার পারভেজ।
অভিনয় করেছেন অলিভিয়া।
দি রেইন ১৯৭১ সালে মুক্তি পায়।

১৪। কটা ছিল সোনার কন্যা মেঘ বরণ কেশ, ভাটি অঞ্চলে ছিল সেই কন্যার দেশ

গানটি হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ছবির।
গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন সুবীর নন্দী।
গীতিকার হুমায়ূন আহমেদ, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক মকসুদ জামিল মিন্টু।
অভিনয় করেছেন মাহফুজ আহমেদ ও শাওন।
শ্রাবণ মেঘের দিন ২০০০ সালে মুক্তি পায়।

১৫। ভালোবাসা যত বড় জীবন তত বড় নয়

গানটি সৈয়দ হারুন পরিচালিত ‘চরম আঘাত’ ছবির।
এই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ভারতের কুমার শানু ও মিতালী মুখার্জী।
গীতিকার মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলী।
অভিনয় করেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন ও দিতি।
চরম আঘাত ১৯৮৪ সালে মুক্তি পায়।

১৬। পড়ে না চোখের পলক, কি তোমার রূপের ঝলক

গানটি মহম্মদ হান্নান পরিচালিত ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’ ছবির।
গানে কণ্ঠ দিয়েছেন এন্ড্রু কিশোর।
কথা, সুর ও সঙ্গীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।
অভিনয় করেছেন রিয়াজ ও রাভিনা।
প্রাণের চেয়ে প্রিয় ১৯৯৭ সালে মুক্তি পায়।

১৭। ভালোবাসবো বাসবো রে বন্ধু তোমায় যতনে

গানটি এস এ হক অলিক পরিচালিত ‘হৃদয়ের কথা’ ছবির।
গানের শিল্পী হাবিব ওয়াহিদ।
গীতিকার জুয়েল মাহমুদ, সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা হাবিব।
অভিনয় করেছেন রিয়াজ ও পূর্ণিমা।
হৃদয়ের কথা ২০০৬ সালে মুক্তি পায়।

১৮। চাঁদের সাথে আমি দেব না তোমার তুলনা

গানটি রমিজ উদ্দিন রিজভি পরিচালিত ‘আশীর্বাদ’ ছবির গান।
কণ্ঠ দিয়েছেন রুনা লায়লা ও এন্ড্রু কিশোর।
গীতিকার সৈয়দ শামসুল হক, সুর ও সঙ্গীত পরিচালক আলম খান।
অভিনয় করেছেন জাফর ইকবাল ও অঞ্জু ঘোষ।
আশীর্বাদ ১৯৮৩ সালে মুক্তি পায়।

১৯। তুমিই আমার জীবন, আমি তোমার জীবন

গানটি মোস্তফা আনোয়ার পরিচালিত ‘অবুঝ হৃদয়’ ছবির।
গানের শিল্পী রুনা লায়লা ও এন্ড্রু কিশোর।
গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।
অভিনয় করেছেন ববিতা ও জাফর ইকবাল।
অবুঝ হৃদয় ছবিটি ১৯৮৯ সালে মুক্তি পায়।

২০। সবার জীবনে প্রেম আসে তাই তো সবাই ভালোবাসে

জহিরুল হক পরিচালিত ‘স্যারেন্ডার’ ছবির।
এই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন এন্ড্রু কিশোর ও রিজিয়া পারভীন।
গানের গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক আলম খান।
অভিনয় করেছেন শাবানা ও জসিম।
স্যারেন্ডার ১৯৮৭ সালে মুক্তি পায়।

২১। আমি একদিন তোমায় না দেখিলে, তোমার মুখের কথা না শুনিলে

গানটি আব্দুল্লাহ আল মামুন পরিচালিত ‘দুই জীবন’ ছবির।
গানের শিল্পী রুনা লায়লা ও এন্ড্রু কিশোর।
সুর ও সঙ্গীত পরিচালক আলম খান।
অভিনয় করেছেন আফজাল হোসেন ও দিতি।
দুই জীবন ১৯৮৮ সালে মুক্তি পায়।

সঙ্গীতাঙ্গন এর পক্ষ থেকে সঙ্গীত প্রিয় সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: