আমাদের ড্রামাররা…

ধারাবাহিক প্রতিবেদন আমাদের ড্রামার – এর এটি দ্বিতীয় পর্ব। প্রথম পর্ব প্রকাশিত হওয়ার পর সন্মানিত পাঠকদের কাছ থেকে আমরা প্রবল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও সাড়া পাই। যার ফলশ্রুতিতে আজ প্রকাশিত হলো দ্বিতীয় পর্ব। এই পর্বেও  দেশের স্বনামধন্য ও বিখ্যাত আরো কয়েকজন  ড্রামারকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। পাঠকদের কাছে ভাল লাগলে আমাদের এই প্রয়াস স্বার্থক হবে।

সাহেদুল হুদা লালুঃ
সময়টা ছিল ১৯৬৭ সাল। তখন তিনি সেন্ট জোসেফ স্কুল এ ক্লাস সেভেন এর ছাত্র। স্কুল এর দু’জন বন্ধু কে সাথে নিয়ে গড়ে তোলেন তাঁর প্রথম ব্যান্ড “দ্য ভালচার”। মাত্র দুই বছরের মধ্যেই অর্থাৎ ১৯৬৯ সালেই তাঁদের বাংলাদেশ টেলিভিশন এ পারফর্ম করার জন্য সুযোগ এসে যায়। ঐ অনুষ্ঠান টি ব্যাপক দর্শক নন্দিত হয়। কিছুদিন এর মধ্যেই শহিদুল হুদা লালু বাংলাদেশ এর পপ সম্রাট ও আমাদের সকলের শ্রদ্ধাভাজন গুরু আজম খান এর বড়ভাই বিখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক আলম খান এর সাক্ষাৎ লাভ করেন। এরপর ১৯৬৯ সালে সঙ্গীত পরিচালক আলম খান বাংলাদেশের বিখ্যাত শিল্পী সাবিনা ইয়াসমীন এর “কলেজ এর দিনগুলি” নামক একটি রেকর্ড এ ড্রামস বাজানোর জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানান। এটি তখনকার বিখ্যাত রেকর্ডিং স্টুডিও ঢাকা রেকর্ডস থেকে রিলিজ হয়। ১৯৭০ সালে “আগলি ফেস” ও “উচ্চারণ” এর লিড গীটারিস্ট ইশতিয়াক কে নিয়ে তিনি আর একটি ব্যান্ড গঠন করেন, যার নাম রাখা হয় “দ্য ব্যান্ড”। এই ব্যান্ড নিয়ে তাঁরা মাত্র একটি প্রোগ্রাম করতে সক্ষম হন। এরপর এই ব্যান্ড’টি আর টেকেনি। বসে থাকার পাত্র নন তিনি। এরপর শুরু হয় সংগীতাঙ্গনে তাঁর বর্ণাঢ্য অভিযাত্রা। ১৯৭০ সালে তিনি তাঁর রিয়েল প্রো ব্যান্ড “আন্ডারগ্রাউন্ড পিস লাভারস” গঠন করেন। এই ব্যান্ড নিয়ে তাঁরা মূলতঃ সানতানা, ডিপ পার্পল, ক্রিডেন্স ক্লিয়ার ওয়াটার রিভাইভাল (সি.সি.আর), নেইল ডায়মন্ড এর মত তৎকালীন বিখ্যাত সব পশ্চিমা ব্যান্ড ও শিল্পীদের সব জনপ্রিয় সঙ্গীত কভার করতেন। “আন্ডারগ্রাউন্ড পিস লাভারস” এর লাইন আপ এ ছিল – খালেদ ওমর রুমি (লিড গীটারিস্ট ও ভোকাল), সাজ্জাদ আলী (রিদম গীটার ও ভোকাল), সালাউদ্দিন খান (বেজ গীটার ও ভোকাল), দস্তগীর হক (লিড সিঙ্গার) ও শহিদুল হুদা লালু (ড্রামস ও ভোকাল)।

11997311_10204825380263072_48706628_n১৯৭২ সালের মার্চ মাসে স্বাধীন বাংলাদেশ এর প্রথম ব্যান্ড হিসেবে তাঁরা পূর্বাণী হোটেলে একটি রক কনসার্ট এর আয়োজন করেন। এই কনসার্ট টি খুবই সফল হয়। এরপর তাঁরা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট সহ ঢাকার সিনেমা হলগুলোতে অসংখ্য কনসার্ট এ অংশগ্রহণ করেন। অবশেষে ১৯৭২ সালের জুন মাসে তৎকালীন “হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল” (বর্তমান রূপসী বাংলা) এর সাথে তাঁদের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী তাঁরা সপ্তাহে ছয় রাত সেখানে বাজানো শুরু করেন। এভাবে কয়েক বছর চলার পর ১৯৭৫ সালে ব্যান্ড সদস্য সাজ্জাদ ও সালাউদ্দিন বিদেশে চলে যাবার ফলে তাঁদের ব্যান্ডটি আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। প্রিয় ব্যান্ড ভেঙ্গে গেলেও একেবারেই দমে যাননি তিনি। নতুন কিছু একটা করার উপায় খুজতে থাকেন। তারপর ১৯৭৫ সালে তিনি বাংলাদেশের এক সময়ের সাড়া জাগানো ব্যান্ডদল “স্পন্দন শিল্পগোস্টী” তে যোগদান করেন। এই ব্যান্ড এর লাইন-আপ এ ছিল-  হ্যাপী আখন্দ, ল্যারি, হাবলু, ইউনুস, কমল, ফেরদৌস ওয়াহিদ, ফিরোজ শাহী আর অপু। বাংলাদেশের জনপ্রিয় একটি গান “এমন একটা মা দে না যে মায়ের সন্তানেরা কান্দে আবার হাসতে জানে” এই ব্যান্ড এরই এক অমর সৃষ্টি। শিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ এর রেকর্ডকৃত সিংহভাগ গানেই ড্রামস বাজিয়েছেন শহিদুল হুদা লালু।
১৯৭৬ সালের মাঝামাঝি এসে তিনি প্রখ্যাত শিল্পী হ্যাপী আখন্দ এর সাথে ‘ব্যারাক’ নামের আর একটি ব্যান্ড গঠন করেন। এই ব্যান্ড এর লাইন-আপ এ ছিল- হ্যাপী আখন্দ (কীবোর্ড), ল্যারি (লিড গীটার), কমল (বেজ গীটার), গ্যাবরিয়েল (রিদম গীটার) ও শহিদুল হুদা লালু (ড্রামস)। ১৯৭৮ সালে লালু যোগদান করেন বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড “মাইলস” এ। হ্যাপী আখন্দ মাইলস এ কীবোর্ড বাজাতেন তখন। হ্যাপী মাইলস ছেড়ে দিলে তাঁর পরিবর্তে এসে যোগ দেন রবিন। হামিন আহমেদ যথারীতি লিড গীটার ও ভোকাল এ। তবে শাফিন আহমেদ তখন বেজ বাজাতেন না, তিনি  ছিলেন তখন মাইলস এর রিদম গীটার ও ভোকাল এ। ফরিদ আহমেদ ছিলেন লিড গীটার ও ভোকাল এ, এবং শহিদুল হুদা লালু ড্রামস এ। মাইলস এ তখন তিনি মূলতঃ সানতানা, মাইকেল জ্যাকসন, ঈগলস, আমেরিকা ও স্টীলি ড্যান আর মতো বিখ্যাত সব বিদেশী সঙ্গীত কভার করতেন। মাইলস এর সাথেও তিনি হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল এ সপ্তাহে তিন রাত নিয়মিত বাজাতেন। পরবর্তীতে তিনি লিবিয়া’তে এক সরকারী কলেজ এ শিক্ষক পদে যোগদান করেন। যে কারনে তাঁকে মাইলস ছেড়ে দিতে হয়। কিছুদিন পর ফিরে এসে আবার তিনি মাইলস এ যোগদান করেন। কিন্তু এবার ও কিছুদিন বাজানোর পর তিনি একাউন্টিং এ উচ্চ শিক্ষার জন্য কানাডা তে চলে যান। কানাডা তে “মেমোরি লেন” নামে তাঁর একটি ব্যান্ড রয়েছে এবং  ধ্রুপদ নামে সেখানে তাঁর একটি শিল্পগোষ্ঠীও রয়েছে। বর্তমানে তিনি বিখ্যাত “লাডউইগ” ব্র্যান্ড এর ১৩ পিস এর একটি ড্রামস কিট ব্যাবহার করছেন। বাংলাদেশের কিছু জনপ্রিয় গান যেমনঃ “যে জন প্রেমের ভাব জানেনা”, “বনমালি তুমি পরজনমে হইও রাধা”, “চারা গাছে ফুল ফুইটাছে”, “ও পাগলা তোর পাগলী কই”, “দুই পাহাড়ের মাঝে মওলা”, “রিতা যেওনা চলে” প্রভৃতি গানে বাজিয়ে তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন। জনাব শহিদুল হুদা লালু বাংলাদেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্রের প্রায় দুইশত গানে ড্রামস ও পারকিউশন বাজিয়েছেন। শুধু ড্রামসই নয়, মাত্র সাত বছর বয়সে তিনি তবলাও শিখে ফেলেন। উল্লেখ্য, জনাব লালু বিশিষ্ট নজরুল সঙ্গীত শিল্পী শাহীন সামাদ এর আপন ভাই। তিনি ১৯৭২-৭৩ সালে ছায়ানট সঙ্গীত বিদ্যায়তন এর ছাত্র ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজী সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টারস সম্পন্ন করেন। এছাড়াও তিনি কানাডা’র একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাউন্টিং এ অনার্স করেন। বর্তমানে তিনি কানাডা’তে সপরিবারে বসবাস করছেন এবং সেখানে তিনি একটি ইতালিয়ান গ্রুপ অব কোম্পানী তে “হেড অফ ফিনান্স” হিসেবে কর্মরত আছেন।

11998691_10204825380143069_1514379218_nইকরাম বাবু চৌধুরীঃ
অন্যান্য ড্রামারদের মধ্যে তাঁকে এক ধরনের সৌভাগ্যবান বলা যায়। কারনঃ ১) বাংলাদেশের বিখ্যাত একজন ড্রামার পিয়ারু খান এর কাছে তাঁর হাতে খড়ি হয় ১৯৮১ সালে। এবং ২) তিনি জীবনের প্রথম যার সাথে পেশাগতভাবে ড্রামস বাজানো শুরু করেন তিনি হচ্ছেন বাংলাদেশের পপ সম্রাট, গুরু আজম খান। তাঁর সাথে বাবু একেবারে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত নিয়মিত ড্রামস বাজিয়েছেন। এরপর ১৯৮৬ সালে “চাইম” ব্যান্ড গঠিত হলে তিনি এই ব্যান্ড এ যোগদান করেন। জনপ্রিয় ব্যান্ড “চাইম” এর অনেক বিখ্যাত গানে বাজিয়ে তিনি দর্শক-শ্রোতার মনে স্থায়ী আসন করে নেন। তারপর শুরু হয় পথচলা। ১৯৯৬ সালে বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী হাসান আবিদুর রেজা জুয়েল এর সাথে “জেনারেশন ২০০০” নামে একটি ব্যান্ড গঠন করেন। হোটেল শেরাটন এর বলরুমে এই ব্যান্ডটির শুভ-উদ্বোধন করেন জনপ্রিয় শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু। ২০০৪ পর্যন্ত সাফল্যের সাথে চলার পর এই ব্যান্ড’টির কার্যক্রম থেমে যায়। ২০০৫ সালে তিনি কন্ঠশিল্পী মিলা’র ড্রামার হিসেবে যোগ দেন। এখানে তিনি টানা সাত বছর  মিলা’র সঙ্গে সাফল্য ধরে রেখে কাজ করেন। ২০১২ সালে তিনি খ্যাতিমান গায়ক বাপ্পা মজুমদার এর বড়ভাই পার্থ মজুমদার এর সাথে যোগ দেন। সেই থেকে এখন পর্যন্ত জনাব বাবু তাঁর সাথেই নিয়মিত বাজাচ্ছেন। নিজের বাজানো গানগুলোর মধ্যে তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রিয় হচ্ছেঃ “সেদিনো আকাশে ছিল চাঁদ”, “নাতি খাতি বেলা গেল”, “তুমি জানোনা”, “আজকে রাতে”, “আমার জন্য লিখো শুধু একটা গান” এর মতো ইতিহাস সৃষ্টি করা অনবদ্য কিছু গান। অনেক পথ পাড়ি দিয়ে ড্রামার বাবু এভাবেই বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনে পাকাপোক্ত আসন করে নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি রোল্যান্ড এর ভি-প্রো এস.টি.ডি-৩০ ড্রামস কিট ব্যবহার করছেন।

11997404_10204825380343074_1208231844_nপান্থ কানাইঃ
বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ড্রামারদের মধ্যে পান্থ কানাই একটি উজ্জ্বল স্থান অধিকার করে আছেন। হাইস্কুল এ পড়া অবস্থায় কয়েকজন বন্ধুকে (তানিম, আজাদ, সাচ্চু, মোহসিন) সাথে নিয়ে ১৯৮৬-৮৭ এর দিকে গড়ে তোলেন ব্যান্ড “বি ওশেন”। তখন থেকেই তিনি ড্রামস বাজানো শুরু করেন। তারও আগে যখন তিনি সবেমাত্র ক্লাস ওয়ান এ পড়েন, তখন থেকেই তিনি একজন ওস্তাদ এর কাছে ইন্ডিয়ান ক্লাসিক্যাল তবলা বাজানো শিখতেন। পরবর্তীতে তানিম ও আজাদ এর সোলস ব্যান্ড এ যোগ দেওয়ার ফলে তাঁর “বি ওশেন” ব্যান্ড’টির কার্যক্রম থেমে যায়। তিনি তখন চিটাগাং এ “নভেম্বর ইলেভেন” নামে একটি হার্ডরক ব্যান্ড গঠন করেন। তাঁর মতে সম্ভবতঃ এই ব্যান্ড’টিই চিটাগাং এর প্রথম হার্ডরক ব্যান্ড। ১৯৯১ এর পরে ব্যান্ড এর কিছু সদস্য ব্যাক্তিগত কাজে বিদেশে চলে যাওয়ায় এই ব্যান্ডটিও ভেঙ্গে যায়। এর কয়েক বছর পর ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশের কিংবদন্তীতূল্য ব্যান্ড সোলস থেকে তাঁকে আমন্ত্রণ জানালে তিনি সোলস এ যোগদান করেন। এই ব্যান্ড এ তিনি ১৯৯৪ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত কাজ করেন। এরপর ১৯৯৮ সালে “ফিলিংস” খ্যাত জনপ্রিয় শিল্পী জেমস এর সাথে “নগর বাউল” ব্যান্ড গঠন করেন। সেখানে তিনি ২০০০ সাল পর্যন্ত কাজ করেন। সোলস এর “অসময়ের গান” এ্যালবাম ও শিল্পী পথিক নবী’র প্রথম একক এ্যালবাম (অচেনা পথিক) এ তিনি ড্রামস বাজিয়েছেন। ব্যান্ড ছাড়াও ড্রামার পান্থ কানাই অনেক সলো এ্যালবামেও কাজ করেছেন এবং  “একতার মিউজিক” থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন শিল্পী’র এ্যালবামে ও গানে বাজিয়েছেন। তাঁর অনেক প্রিয় ব্যান্ড রয়েছে, সময় পেলে তিনি তাঁদের সাথে বাজাতে ও জ্যামিং করতে পছন্দ করেন যেমনঃ “অর্ণব এন্ড ফ্রেন্ডস”, “ব্লুজ ব্রাদার্স ব্যান্ড”, “বগি এন্ড ফ্রেন্ডস”, “পান্থ এন্ড ফ্রেন্ডস” ইত্যাদি। তাঁর প্রিয় ড্রামস কীট এর মধ্যে রয়েছে- ইয়ামাহা ও লাডউইগ ব্র্যান্ড এর ড্রামস এবং সাথে জিল্ডজিয়ান ও সাবিয়ান সিম্বলস।

11944807_10204825380223071_1646277138_nটনিঃ
বাংলাদেশের আর একজন স্বনামধন্য ড্রামার হচ্ছেন টনি। তিনি ১৯৯৭ সাল থেকে ড্রামস বাজাচ্ছেন। ১৯৯৮ সালে জনপ্রিয় ব্যান্ড ব্ল্যাক এর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি
এই ব্যান্ড এ আছেন। ব্ল্যাক এর বিভিন্ন এ্যালবাম এ দুর্দান্ত ড্রামিং এর ফলে ব্যান্ড এর গানগুলোতে যোগ করেছে এক বিশেষ মাত্রা। তাই সমসাময়িক ড্রামারদের মধ্যে তাঁর রয়েছে এক বিশেষ গ্রহনযোগ্যতা। এছাড়াও বর্তমান প্রজন্মের প্রায় সব সিনিয়র শিল্পীদের সাথেই তাঁর বাজানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। নিজের ব্যান্ড ছাড়াও তিনি উপমহাদেশের প্রখ্যাত বাউল শিল্পী পবন দাশ বাউল এর সাথে ২০০৩ সালে ও বাংলাদেশের বিখ্যাত তারকা শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর সাথেও কিছুদিন কাজ করেছেন। আরও রয়েছে কয়েকটি জার্মান রক ব্যান্ড ও একটি ব্রিটিশ জ্যাজ ব্যান্ড এর সাথে বাজানোর মত দুর্লভ অভিজ্ঞতা। নিজের বাজানো বিভিন্ন গান এর মধ্যে তাঁর কাছে সবচেয়ে ভাল লাগে ব্ল্যাক এর পরাহত, এই গান,  শুন্য প্রভৃতি। এছাড়াও প্যান্টেরা, মেটালিকা, আয়রন মেইডেন ও ড্রীম থিয়েটার ব্যান্ড এর বিভিন্ন গান বাজাতে পছন্দ করেন। তিনি ব্যবহার করছেন তামা ড্রামস কীট এর স্টার ক্লাসিকস বুবিংগা। সিম্বলস- পেইস্ট ২০০২ কাস্টম, পেইস্ট আলফা, মেইনল। ফ্লোরবোর্ড – আয়রন কোবরা এবং স্টিকস – প্রো মার্ক, ভিক ফার্থ, এহেড ও ভ্যাটার।

11998722_10204825380183070_898033710_nমো: ইমতিয়াজ আলী জিমিঃ
বাংলাদেশের ড্রামসের ক্ষেত্রে আরেক পরিচিত মুখ এবং দক্ষ ড্রামার হচ্ছেন মো: ইমতিয়াজ আলী জিমি। ১৯৯৩ সাল থেকে চট্রগ্রামে ড্রামসে হাতেখড়ি, প্রথম ব্যান্ড ‘পারস্পেকটিভ’ দিয়ে যাত্রা শুরু ১৯৯৫ সালে এবং ১৯৯৯ সালে এই ব্যান্ড ছেড়ে গঠন করেন ব্যান্ড ‘অরণ্য’। ২০০০ সালে ব্যান্ডের তিনজন মেম্বার উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশ পাড়ি দেয়ায় ব্যান্ডের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তখন তিনি ‘রিলিজিয়ন’ ব্যান্ডে ২০০০ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ড্রামস প্লে করেন। এরপর তিমি ‘ফেস টু ফেস’ ব্যান্ডের সাথে কয়েকমাস যুক্ত থাকেন। এরপর তিনি ‘আর্ক’ ব্যান্ডের সদস্য হয়ে ২০০৫ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত বাজিয়ে মুগ্ধ করেন। সাথে সাথে তাঁর পুরান ব্যান্ড ‘অরণ্য’ সাথে একেই সময়ে যুক্ত থাকেন। ২০০৭ সাল থেকে তিনি পাকাপাকি ভাবে জয়েন করেন ‘নগরবাউল’ ড্রামার হিসেবে তবে এর পূর্বে ‘৯৮ সাল থেকে তিনি ‘নগরবাউল’ এর সাথে দ্বিতীয় ড্রামার হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। নিজের বাজানো বিভিন্ন গান এর মধ্যে তাঁর কাছে প্রিয় ‘রিলিজিয়ন’ ব্যান্ডের ‘কষ্ঠের মেলা’, ‘অরণ্য’ ব্যান্ডের ‘কাল ভৈরবী’, ‘নাচরে তোরা নাচ’, ‘নগরবাউল’ এর ‘মীরাবাঈ’, ‘বড় হও দীর্ঘ হও’ ইত্যাদি। নগরবাউল এখন ওয়ার্ল্ড ট্যুর করছেন, কিছুদিনের বিরতিতে এখন ব্যান্ডটি দেশে আছেন তবে আবার সেপ্টেম্বর এর মাঝে ইউরোপ এবং আমেরিকা ট্যুরে বের হবেন। জিমি ডি ডব্লু নামক ড্রামস কীট ব্যাবহার করছেন। (চলবে…) -তানভীর হোসেইন

অলংকরন – মাসরিফ হক…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: