রবীন্দ্র উৎসব পালিত হচ্ছে রাজশাহীতে…

‘আমায় নহে গো- ভালোবাস শুধু
ভালোবাস মোর গান।
বনের পাখিরে কে চিনে রাখে
গান হলে অবসান
ভালোবাস মোর গান।’

আগামী ১৩ অক্টোবর রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র উৎসব। বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী, রবীন্দ্র গবেষক ও রবীন্দ্র অনুরাগীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে এই উৎসবটি। জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ রাজশাহী শাখা এই উৎসবের আয়োজন করছে। গত সোমবার বেলা ১১টায় রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগারে আয়োজিত সংবাদ সম্মিলনে উৎসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ রাজশাহী শাখার সভাপতি তাপস মজুমদার। সংবাদ সম্মিলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ রাজশাহী শাখার প্রধান উপদেষ্টা কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক, সাধারণ সম্পাদক মনিরা রহমান, সহ-সভাপতি আব্দুর রকিব, নির্বাহী সদস্য মহেন্দ্রনাথ অধিকারী, সম্পাদক সেলিম রেজা প্রমুখ। আগামী ১৩ই অক্টোবর শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে উৎসবের উদ্বোধনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা যায়। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের সভাপতি বিশিষ্ট রবীন্দ্র সঙ্গীতশিল্পী ও সংগঠক ড. সনজীদা খাতুন।

উৎসবের উদ্বোধন করবেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। অতিথি থাকবেন বিশিষ্ট রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সনৎকুমার সাহা এবং বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক। বিকেল ৫টায় দ্বিতীয় অধিবেশনে থাকবে সমবেত রবীন্দ্র সঙ্গীত, স্থানীয় ও অতিথি শিল্পীদের একক রবীন্দ্র সঙ্গীত, একক ও সমবেত নজরুল সঙ্গীত, লোকসঙ্গীত ও গণসঙ্গীত এবং নৃত্য। উৎসবের দ্বিতীয় দিন ১৪ অক্টোবর সকালে সমবেত ও একক রবীন্দ্র সঙ্গীতের মধ্যে দিয়ে প্রথম অধিবেশন শুরু হবে। এরপর রবীন্দ্রনাথের কর্ম ও জীবন নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে আলোচনা করবেন ড. সনজীদা খাতুন ও অধ্যাপক ড. সুব্রত মজুমদার। বিকেল ৫টায় দ্বিতীয় অধিবেশনে থাকবে সমবেত রবীন্দ্রসঙ্গীত, একক ও সমবেতভাবে আবৃত্তি, নৃত্য, গণসঙ্গীত ও অতিথি শিল্পীদের পরিবেশনা। উৎসব উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথের গল্প, গান, কবিতাকে আশ্রয় করে গত ৫ থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী আর্টক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ৭০ শিক্ষার্থী এই ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করে। তাদের আঁকা চিত্রকর্মগুলো উৎসবস্থলে প্রদর্শন করা হবে। রোহিঙ্গাসহ বিশ্বব্যাপী
শরণার্থী সঙ্কটের এই বিরূপ সময়ে মানুষের শুভবোধ ও মানবতাকে জাগ্রত করার উদ্দেশ্য নিয়ে এই উৎসবের আয়োজন। রাজশাহীবাসী এই উৎসবে অংশগ্রহণ করে মানুষের সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সঙ্গীতাঙ্গন এর পক্ষ থেকে উক্ত উৎসবটির সফলতা কামনা করি। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: