বাতিল হলো বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের উৎসব…

বেঙ্গল ফাউন্ডেশ এর পর পর পাচঁ বার আয়োজিত বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের উৎসব এ বছর হবেনা এ তথ্য দিতে গিয়ে কাঁদলেন বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু। নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কারণে আর্মি স্টেডিয়াম এর বরাদ্দ দেওয়া হলো না সঙ্গীত প্রেমীদের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মী এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়তা পাওয়া ‘বেঙ্গল উচ্চাঙ্গঙ্গীত উৎসব’ অনুষ্ঠানকে। গত পাঁচ বছর ধরে পাচঁটি অনুষ্ঠান আর্মি স্টেডিয়ামেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার সেটা আর হলো না অনেক চেষ্ঠার পরও। তাই এ বছর আর এই আয়োজন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান আবুল খায়ের লিটু। তিনি বলেন চলতি বছরের ‘বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসব’ বাতিল করা হয়েছে। গত ২২ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর অভিজাত হোটেল ওয়েস্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানান দেশের সাংস্কৃতিক সংগঠক ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু।

এ খবর শুনে অনেকেরই চোখে জল চলে এসেছিল। সে সময় তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক কষ্ট হলেও এবারের আয়োজনটি আমরা বাতিল করতে বাধ্য হলাম। আর সে কষ্টগুলো শেয়ার করতে আমার কোন খারাপ লাগবে না। হয়তো আমি ইমোশনাল হয়ে যাব। তিনি উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা আমাদের পাশে থাকবেন। আগামী বছর যেন আমরা এ ফেস্টিভ্যালটি আবারও করতে পারি। আমার শুধু একটাই অনুরোধ, আমরা আয়োজনটির ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে না পারার কারণে যেন এ ফেস্টিভ্যালটি হারিয়ে না যায়। আর সরকার যেন সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়কে অনুরোধ করে অথবা নির্দেশনা দেয় যেন এ ফেস্টিভ্যালটি তারা বাংলাদেশে করে। আর না হয় এর ধারাবাহিকতা একবার হারিয়ে গেলে আমরা শিল্পীদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলব। পাশাপাশি শ্রোতা-দর্শক এবং গান পিপাসুদের কাছেও। সেখানে যদি বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের কোনো সহযোগিতা দরকার হয়, সেটা আমরা করব। কারণ আমরা তো সরকার থেকে অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। অনেকেই মনে করেন আমরা আর্মি স্টেডিয়ামে এতো বড় একটি ফেস্টিভ্যাল করি, সেটি হয়তো বিনা পয়সায় করি। কিন্তু আমরা বিনা পয়সায় করি না। আমরা স্টেডিয়ামের সম্পূর্ণ ভাড়া দিয়ে তারপর প্রোগ্রামটি করি। এ অনুষ্ঠানটি একটি জাতীয় অনুষ্ঠান, দেশের অনুষ্ঠান। সব গানের একটি ধরণ আছে। সেদিক থেকে ক্ল্যাসিকাল গানেরও একটি ধরণ আছে। কেউ যদি অন্যান্য সব গানের সঙ্গে ক্ল্যাসিকাল গানকে এক করে ফেলেন তাহলে ভুল হবে। ক্ল্যাসিকাল গানের গুরুত্ব বুঝে এ অনুষ্ঠান যাতে বহমান হয় আগামী বছর যাতে এই উৎসবের আয়োজন করতে পারি সবার কাছে আহবান রইলো। আমরা ও সবাই চাই সঙ্গীতের এই ধারা বহমান থাকুক। সঙ্গীতাঙ্গন এর পক্ষ থেকে আগামী বছর এই আয়োজন হওয়ার জন্য কতৃপক্ষের কাছে আহবান। – মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: